স্লাভিক ইতিহাস নিয়ে পুতিনের ৯০ মিনিটের বয়ান, বিরক্ত ইউরোপীয় নেতারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

2026-10-29T12:26:46+06:00
2026-10-29T12:26:46+06:00
বৃহস্পতিবার ● ২৯ অক্টোবর ২০২৬,
১৩ কার্তিক ১৪৩৩
Advertisement
আন্তর্জাতিক
স্লাভিক ইতিহাস নিয়ে পুতিনের ৯০ মিনিটের বয়ান, বিরক্ত ইউরোপীয় নেতারা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
⏲ ১২:২৬ পিএম | ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ | বৃহস্পতিবার
সংগৃহীত ছবি
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে এক ফোনালাপে প্রায় ৯০ মিনিট ধরে মধ্যযুগের স্লাভ জাতির ইতিহাস শুনতে হয়েছে ফিনল্যান্ড ও নরওয়ের নেতাদের। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে শান্তি আলোচনা শুরুর উদ্যোগে আয়োজিত এই ফোনালাপে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির বিষয়ে অর্থবহ আলোচনা হয়নি বলে জানা গেছে।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের বরাতে দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার স্টুব ও নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরের সঙ্গে ফোনালাপের বেশির ভাগ সময় পুতিন মধ্যযুগের স্লাভ জাতির ইতিহাস নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন।

কথোপকথন সম্পর্কে অবগত এক সূত্র ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে জানিয়েছে, ফোনালাপটি ৩০ মিনিট চলার কথা থাকলেও তা প্রায় ৯০ মিনিট স্থায়ী হয়। আলোচনার বড় অংশজুড়ে ছিল বর্তমান যুদ্ধের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট। সূত্রটির মতে, ইউরোপীয় নেতাদের সামনে রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনায় নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার ক্ষেত্রে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তা এই ঘটনা স্পষ্ট করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফোনালাপে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি নিয়ে প্রায় কোনো অর্থবহ আলোচনা হয়নি। অথচ নতুন করে শান্তি আলোচনা শুরু হলে ইউক্রেনের অন্যতম প্রধান দাবি হতে পারে যুদ্ধবিরতি। দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাতের অবসান নিয়ে মস্কো কতটা আন্তরিক, তা নিয়েও এ ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে।

পুতিনের সঙ্গে সরাসরি কথা বলায় ইউরোপের ন্যাটো মিত্রদের সমালোচনার মুখে পড়েছেন স্টোরে ও স্টুব। ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে ইউরোপের অনেক দেশে পুতিনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করা সংবেদনশীল বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেন, ‘নরওয়ে ও ফিনল্যান্ডের এই উদ্যোগ নিয়ে আমি খুবই সন্দিহান।’ তিনি আরও বলেন, ইউরোপের আলাদাভাবে উদ্যোগ নেওয়ার পরিবর্তে ঐক্যবদ্ধ থাকা উচিত।

সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন জানিয়েছেন, তাঁকে এবং ইউরোপের অন্য নেতাদের এ আলোচনা সম্পর্কে আগে থেকে জানানো হয়নি। তবে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা নিশ্চিত করেছেন, ফোনালাপটি তাঁদের সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করেই করা হয়েছিল। পুতিনের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগকে তিনি ‘সঠিক পদ্ধতি’ বলে বর্ণনা করেছেন।

ফোনালাপ নিয়ে ক্রেমলিনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, পুতিন যুক্তি দিয়েছেন যে নিরাপত্তা জোটের পূর্বমুখী সম্প্রসারণই যুদ্ধের অন্যতম মূল কারণ। তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার আইনি স্বার্থ সম্পূর্ণ ও শর্তহীনভাবে বিবেচনায় নেওয়া হলেই দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

গত আগস্টে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ বৈঠকের সঙ্গেও এ ফোনালাপের মিল রয়েছে। ইউক্রেনে দ্রুত শান্তি চুক্তি নিশ্চিত করার আশায় ওই বৈঠকের আয়োজন করেছিলেন ট্রাম্প। এর আগে নির্বাচনী প্রচারে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুদ্ধের অবসান ঘটাবেন।

কিন্তু ওই বৈঠকেও দীর্ঘ ঐতিহাসিক আলোচনাই প্রাধান্য পায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পুতিন নভগোরদের রুরিক ও ইয়ারোস্লাভ দ্য ওয়াইজের মতো মধ্যযুগীয় শাসকদের পাশাপাশি ১৭ শতকের কসাক নেতা বোহদান খমেলনিতস্কির প্রসঙ্গ তোলেন। দ্য আইরিশ টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘ বক্তব্যে বিরক্ত হয়ে ট্রাম্প বৈঠক ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন।

পুতিনের ঐতিহাসিক বয়ান এমন একটি দৃষ্টিভঙ্গিকে সমর্থন করে, যেখানে ইউক্রেনকে রাশিয়ারই একটি প্রদেশ হিসেবে তুলে ধরা হয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের আগে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁও পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে একই ধরনের দীর্ঘ ঐতিহাসিক আলোচনার অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন।

এদিকে, ক্রেমলিন বুধবার জানিয়েছে, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের মধ্যে পরবর্তী দফার আলোচনায় ইউরোপীয় প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন না। ক্রেমলিনের কর্মকর্তা ইউরি উশাকভ বলেন, স্টুব ও স্টোরের সঙ্গে পুতিনের ফোনালাপে আলোচনায় ইউরোপীয় দেশগুলোর সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে কোনো কথা হয়নি। সূত্র: ফিন্যান্সিয়াল টাইমস, দ্য টেলিগ্রাফ ও দ্য আইরিশ টাইমস

জ/উ


Advertisement
সর্বশেষ
‹ ›
সর্বাধিক পঠিত
‹ ›
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত