শব্দদূষণের নতুন ৪টি উৎস শনাক্ত পরিবেশ অধিদপ্তরের

জবাবদিহি ডেস্ক

জাতীয়

2026-10-29T12:33:50+06:00
2026-10-29T12:33:50+06:00
বৃহস্পতিবার ● ২৯ অক্টোবর ২০২৬,
১৩ কার্তিক ১৪৩৩
Advertisement
জাতীয়
শব্দদূষণের নতুন ৪টি উৎস শনাক্ত পরিবেশ অধিদপ্তরের
জবাবদিহি ডেস্ক
⏲ ১২:৩৩ পিএম | ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ | বৃহস্পতিবার
সংগৃহীত ছবি
শব্দদূষণের নতুন চারটি উৎস শনাক্ত করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ড, বাণিজ্যিক কার্যক্রম, ভিক্ষুক ও হকারদের হ্যান্ড মাইক এবং চিকিৎসকদের চেম্বারের ঘোষণাকে নতুন উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব উৎস থেকে অতিরিক্ত ও অনাকাঙ্ক্ষিত শব্দ সৃষ্টি হলে তা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকা মহানগর কার্যালয়ের পরিচালক ফরিদ আহমেদ এ তথ্য জানিয়েছেন। ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে দেশের ৬৪টি জেলা শহরে পরিচালিত ‘শব্দের মাত্রা পরিমাপ’ শীর্ষক জরিপে নতুন এই উৎসগুলো চিহ্নিত করা হয়। সম্প্রতি জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।

জরিপে শব্দদূষণের প্রধান ২৫টি উৎসের তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে যানবাহনের চলাচল, হাইড্রোলিক হর্ন ও সাধারণ হর্ন, যানজট, মাইকিং, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, বিভিন্ন দিবস উদযাপন এবং ডিজে সাউন্ডবক্সের ব্যবহার। এ ছাড়া ভিআইপি গাড়ির হর্ন, অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের গাড়ির সাইরেন এবং সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, সরকারি ও বেসরকারি অনুষ্ঠানও শব্দদূষণের উৎস হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

তালিকায় আরও রয়েছে হুটার, নির্মাণকাজ, বিদ্যুৎচালিত যন্ত্রপাতি ও শিল্পকারখানার কার্যক্রম, গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি, মোটরসাইকেল, যানবাহনের ওভারটেকিং, অতিরিক্ত অটোরিকশা, নসিমন ও করিমন এবং রেলগাড়ির হর্ন। পর্যটকবাহী যানবাহন ও বাইক, সরু সড়ক, জাহাজ, উড়োজাহাজ, বাস টার্মিনালে অতিরিক্ত যানবাহন, মুঠোফোন, টেলিভিশন ও রেডিওর মতো যোগাযোগমাধ্যম এবং অবকাঠামো উন্নয়নকাজও এ তালিকায় রয়েছে।

জরিপে দেখা গেছে, আবাসিক ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম পাশাপাশি থাকা এলাকাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ যান চলাচলের সংযোগস্থলে শব্দের মাত্রা বেশি। ঢাকায় যাত্রাবাড়ীর শহীদ ফারুক গোলচত্বর, শংকর, ধানমন্ডি ও শ্যামলী মোড়ে শব্দদূষণের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া ইংলিশ রোড, নবাবপুর, সায়েদাবাদ, গুলিস্তান ও শান্তিনগরের মতো বাণিজ্যিক এবং যান চলাচলপ্রবণ এলাকায় নিয়মিত শব্দদূষণের চিত্র উঠে এসেছে।

জরিপ অনুযায়ী, দেশের ৬৪টি জেলা শহরের মধ্যে সর্বোচ্চ শব্দের মাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ঢাকার যাত্রাবাড়ীর শহীদ ফারুক গোলচত্বরে। সেখানে শব্দের মাত্রা ছিল ১২৯ দশমিক ৪ ডেসিবেল।

শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তর বাংলাদেশ সচিবালয় ও আশপাশের এলাকা, আগারগাঁও এবং জাতীয় সংসদ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশপাশকে নীরব এলাকা ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতনকে নীরব এলাকা ঘোষণা করে।

তবে এক গবেষণায় রাজধানীর অন্তত চারটি নীরব এলাকায় নির্ধারিত সীমার তুলনায় অনেক বেশি শব্দের মাত্রা পাওয়া গেছে।

২০২২ সালের মার্চে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের সেন্টার ফর অ্যাটমোস্ফেরিক পলিউশন স্টাডিজের (ক্যাপস) একটি দল সচিবালয়, আগারগাঁও, জাতীয় সংসদ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশপাশের চারটি নীরব এলাকায় শব্দের মাত্রা পরিমাপ করে। গবেষণায় এসব এলাকায় শব্দের গড় মাত্রা পাওয়া যায় ৯৭ দশমিক ৬৩ ডেসিবেল। অনুমোদিত ৫০ ডেসিবেল সীমার তুলনায় এ মাত্রা প্রায় দ্বিগুণের কাছাকাছি।

গবেষণায় সচিবালয় এলাকায় শব্দের গড় মাত্রা ছিল ১০০ দশমিক ১৭ ডেসিবেল। সেখানে সর্বোচ্চ মাত্রা রেকর্ড করা হয় ১২৭ ডেসিবেল। জাতীয় সংসদ এলাকায় গড় শব্দের মাত্রা ছিল ৯৯ দশমিক ৩৫ ডেসিবেল। চারটি এলাকার মধ্যে তুলনামূলক কম শব্দ পাওয়া যায় আগারগাঁওয়ে, যেখানে গড় মাত্রা ছিল ৭৮ দশমিক ১১ ডেসিবেল।

পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্ধারিত মান অনুযায়ী, নীরব এলাকায় দিনে শব্দের সর্বোচ্চ অনুমোদিত মাত্রা ৫০ এবং রাতে ৪০ ডেসিবেল। আবাসিক এলাকায় দিনে ৫৫ ও রাতে ৪৫ ডেসিবেল, মিশ্র এলাকায়—আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প কার্যক্রম রয়েছে এমন এলাকায়-দিনে ৬০ ও রাতে ৫০ ডেসিবেল।

এ ছাড়া বাণিজ্যিক এলাকায় দিনে ৭০ ও রাতে ৬০ ডেসিবেল এবং শিল্প এলাকায় দিনে ৭৫ ও রাতে ৭০ ডেসিবেল পর্যন্ত শব্দের মাত্রা অনুমোদিত।

পরিবেশ অধিদপ্তরের জরিপ চলাকালে সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে অভিযোগ জানানোর জন্য হটলাইন চালু করা, যাতে এর মাধ্যমে শব্দদূষণকারীদের বিরুদ্ধে সহজে মামলা করা যায়।

সরকারি আইন অনুযায়ী সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে শব্দের মাত্রা এবং শব্দ ব্যবহারের সময়সীমা নির্ধারণেরও সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি শব্দদূষণ কমাতে ধীরগতির যানবাহনের চলাচল কমানো এবং মহাসড়কের পাশে সার্ভিস রোড নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া অবৈধভাবে হাইড্রোলিক হর্ন আমদানি ও বাজারজাত বন্ধ, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহনের চলাচল সীমিত করা, শহরের শিল্পাঞ্চল অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া এবং সব ধরনের যানবাহনের জন্য শব্দের সর্বোচ্চ মাত্রা নির্ধারণের সুপারিশ করেছেন অংশীজনেরা।

মাইকের ব্যবহার সীমিত করা এবং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান আইন যথাযথভাবে পর্যবেক্ষণ ও বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

জ/উ


Advertisement
সর্বশেষ
‹ ›
সর্বাধিক পঠিত
‹ ›
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত