বাংলাদেশ ও স্পেনের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও পর্যটনসহ বিভিন্ন খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেছেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। ভবিষ্যতে যৌথ উদ্যোগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও আশাবাদ প্রকাশ করেছে উভয় পক্ষ।
স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্পেনের মাদ্রিদে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্পেনের পররাষ্ট্র ও বিদেশবিষয়ক মন্ত্রী দিয়েগো মার্তিনেজ বেলিয়োর সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
বৈঠকের শুরুতে স্পেনের তোলেদোতে সকালে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন শামা ওবায়েদ। তিনি নিহত ব্যক্তিদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্য এবং দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা জানান।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে ব্যবসায়ী পর্যায়ে (বি টু বি) যোগাযোগ বাড়ানো, রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনা এবং আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর আয়োজনের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনা কাজে লাগানোর বিষয়ে আলোচনা করেন দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা।
সংস্কৃতিবিষয়ক প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারক দ্রুত স্বাক্ষরের ওপর গুরুত্ব দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি ক্রীড়া কূটনীতি, সৃজনশীল অর্থনীতি, শিল্পকলা ও পর্যটন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশ সরকার অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে খেলাধুলাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। ক্রীড়া দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
স্পেনে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের প্রশংসা করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বৈধ পথে দক্ষ অভিবাসনের সুযোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ‘ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ’ উদ্যোগে স্পেনকে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
একই সঙ্গে মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন শামা ওবায়েদ।
বৈঠকে স্পেনের পররাষ্ট্র ও বিদেশবিষয়ক মন্ত্রী দিয়েগো মার্তিনেজ বেলিয়ো বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে স্পেন প্রস্তুত। দুই দেশের মধ্যে ভবিষ্যৎ যৌথ উদ্যোগের সম্ভাবনাকেও তিনি আশাব্যঞ্জক বলে উল্লেখ করেন।
আলোচনায় দুই পক্ষই ঝুলে থাকা দ্বিপক্ষীয় চুক্তি এবং প্রক্রিয়াধীন অন্যান্য বিষয় দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে সম্মত হয়। পাশাপাশি শিগগিরই দ্বিতীয় বাংলাদেশ-স্পেন ‘ফরেন অফিস কনসালটেশন’ (এফওসি) আয়োজনের বিষয়ে ঐকমত্য প্রকাশ করে উভয় পক্ষ।
এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময়ের বিষয়েও একমত হন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও স্পেনের পররাষ্ট্র ও বিদেশবিষয়ক মন্ত্রী।
জ/উ