সুদানে ড্রোন হামলায় নিহত শতাধিক, আহত ১১৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

2026-10-29T11:42:56+06:00
2026-10-29T11:42:56+06:00
বৃহস্পতিবার ● ২৯ অক্টোবর ২০২৬,
১৩ কার্তিক ১৪৩৩
Advertisement
আন্তর্জাতিক
সুদানে ড্রোন হামলায় নিহত শতাধিক, আহত ১১৩
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
⏲ ১১:৪২ এএম | ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ | বৃহস্পতিবার
সংগৃহীত ছবি
সুদানের দারফুর অঞ্চলের একটি ব্যস্ত বাজারে সামরিক ড্রোন হামলায় শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বেশির ভাগই নারী ও শিশু বলে জানা গেছে। গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) দক্ষিণ দারফুরের নিয়ালা শহরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ১১৩ জন। আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সহিংসতা পর্যবেক্ষণকারী মানবাধিকার সংস্থা ইমার্জেন্সি লয়ার্স জানিয়েছে, সোমবারের হামলায় ১০০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং ১১৩ জন আহত হয়েছেন। র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) প্রধান ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত নিয়ালা শহরের ওই বাজারে খাদ্যদ্রব্য ও অন্যান্য পণ্য বিক্রি করছিলেন সাধারণ ব্যবসায়ী ও বিক্রেতারা। তাঁদের পাশাপাশি সেখানে আরএসএফের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

এক প্রত্যক্ষদর্শী সিগারেট বিক্রেতার ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার সন্ধ্যায় বাজার এলাকায় বিপুলসংখ্যক আরএসএফ সদস্য জড়ো হয়েছিলেন। রাত ৮টার দিকে একটি ড্রোন আঘাত হানলে বহু সদস্যের পাশাপাশি খাবার বিক্রি করা নারীও নিহত হন। আরেক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বিস্ফোরণটি ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। এতে চা ও খাবার বিক্রি করা বহু বেসামরিক নারী ও শিশু প্রাণ হারান।

দারফুরের ত্রাণকর্মী মোবারক বেখেত পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে জানি যে যুদ্ধের কোনো নৈতিকতা নেই, তবে আমরা প্রতিদিন যে বাস্তবতার মুখোমুখি হই তা হলো বেসামরিক মানুষই সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছে। তারা তাদের জীবন, প্রিয়জন এবং ঘরবাড়ি হারাচ্ছে এবং আরও বোমাবর্ষণের ক্রমাগত ভয়ের মধ্যে বাস করছে।’

এদিকে সেনাবাহিনীর পক্ষে লড়াই করা স্পেশাল অপারেশনস ফোর্সেসের মুখপাত্র মোহামেদ দিদান ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, নিয়ালার পশ্চিমে দুমাইয়া ক্যাম্পে সুনির্দিষ্ট ও লক্ষ্যভিত্তিক বিমান হামলায় ‘১৫০ জনেরও বেশি মিলিশিয়া সদস্য’ নিহত হয়েছেন।

তবে সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক প্রাথমিকভাবে ২১ জন নিহত এবং ৪০ জনের বেশি আহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও চলমান সামরিক অভিযানের কারণে ঘটনাস্থল থেকে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহে জটিলতা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

মেডিসিনস স্যান ফ্রন্টিয়ার্স (এমএসএফ) জানিয়েছে, তাদের সহায়তাপুষ্ট একটি হাসপাতালে ৩৬টি মরদেহ আনা হয়েছে। এর মধ্যে ২১ জনের পরনে বেসামরিক পোশাক ছিল। এ ছাড়া সেখানে ১৫০ জনের বেশি আহত ব্যক্তি চিকিৎসা নিয়েছেন।

বাজারে হামলার ঘটনাকে ভয়াবহ উল্লেখ করে এমএসএফ বলেছে, ‘বাজার, ঘরবাড়ি এবং গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামো কোনো লক্ষ্যবস্তু নয়। সংঘাতের সমস্ত পক্ষকে অবশ্যই বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষা করতে হবে।’

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সুদানজুড়ে বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে ড্রোন হামলা। চলমান সংঘাতের ফলে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় তীব্র খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে শরণার্থী সংকট আরও প্রকট হয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা

জ/উ


Advertisement
সর্বশেষ
‹ ›
সর্বাধিক পঠিত
‹ ›
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত