যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ফলাফল মেনে নেওয়ার বিষয়ে শর্ত দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচন নিয়ে তাঁর এমন বক্তব্যে ভোটের গ্রহণযোগ্যতা ও ফলাফল ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গত মঙ্গলবার টেক্সাসে এক সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ফলাফল মেনে নেব, যদি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়।’
২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর ব্যাপক নির্বাচনী জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছিলেন ট্রাম্প। তবে রিপাবলিকান নেতারা, আদালত এবং তাঁর নিজের বিচার বিভাগও ওই অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পায়নি।
এবারের নির্বাচন সামনে রেখেও ভোটব্যবস্থা নিয়ে সন্দেহ ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। টেক্সাসসহ কয়েকটি রাজ্যে নির্বাচনী আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি ভোটার নিবন্ধন ও পরিচয়পত্রসংক্রান্ত আইন পাসের দাবিও জানিয়েছেন তিনি। সমালোচকদের আশঙ্কা, এ ধরনের উদ্যোগ ভোটাধিকার সীমিত করতে পারে।
আলাস্কায় নির্বাচনের ফল নিয়ে আইনি পদক্ষেপের নির্দেশ
আলাস্কায় রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভান পরাজিত হলে তাঁর নির্বাচনের ফল অনুমোদন ঠেকাতে বিচার বিভাগকে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। একই নামের আরেক প্রার্থী ড্যানিয়েল জে. সুলিভান নির্বাচনে থাকায় ভোটাররা বিভ্রান্ত হতে পারেন বলে দাবি করেছেন তিনি।
মিশিগানে মুসলিম প্রার্থীকে ঘিরে বিতর্ক
মিশিগানে সিনেটের একটি আসনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল সায়েদ। ৪১ বছর বয়সী সায়েদ নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর হবেন।
নির্বাচনী প্রচারে রজার্স সায়েদকে ইসলামী উগ্রবাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। ট্রাম্পও সায়েদকে মুসলিম উগ্রপন্থি বলে অভিযোগ করেছেন। তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন সায়েদ।
সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবাসহ সায়েদের প্রগতিশীল নীতিরও বিরোধিতা করছেন রজার্স। সায়েদের প্রচারশিবিরের দাবি, এসব আক্রমণের মাধ্যমে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে।
তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, সায়েদকে ঘিরে এ ধরনের আক্রমণ আরব-আমেরিকান অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ডেমোক্র্যাটদের ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।
ফক্স নিউজের সংবাদ পরিবেশনা নিয়ে ট্রাম্পের ক্ষোভ
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ফক্স নিউজের সংবাদ পরিবেশনা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। তাঁর অভিযোগ, সংবাদমাধ্যমটি রিপাবলিকান প্রার্থীদের যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছে না, বরং ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের বেশি সময় দিচ্ছে। বিশেষ করে আবদুল এল সায়েদের সাক্ষাৎকার প্রচার করায় নেটওয়ার্কটির সমালোচনা করেছেন তিনি।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী পিটার নাভারোও সমর্থকদের ফক্স নিউজ দেখা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা নির্বাচনী প্রচারে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ভোট চাইছেন। ডেট্রয়েটে এক প্রচার সমাবেশে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের বিশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও অদক্ষতার সমালোচনা করে পরিবর্তনের আহ্বান জানান। বিপরীতে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে সমৃদ্ধির স্বর্ণযুগে প্রবেশ করা একটি দেশ হিসেবে তুলে ধরছেন।
ফলাফল নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের আশঙ্কা
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা বড় ব্যবধানে জয়ী হলে ফলাফল নিয়ে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের সুযোগ সীমিত হতে পারে। তবে দুই দলের মধ্যে ভোটের ব্যবধান কম হলে নির্বাচনের ফল নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াই শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নির্ধারণ করতেও কয়েক সপ্তাহ বিলম্ব হতে পারে। সূত্র: রয়টার্স ও সিএনএন।
জ/শা