স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) থেকে এ শোক কার্যকর হয়েছে। একই সঙ্গে রেলওয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি পাওয়া গেলে তা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। খবর: বিবিসি।
দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে পেদ্রো সানচেজ বলেন, চলতি বছরের শুরুতে স্পেনের একই রেলপথে ঘটে যাওয়া আরেকটি দুর্ঘটনায় ৪৮ জন নিহত হয়েছিলেন। তবে প্রাথমিক পর্যালোচনায় বর্তমান দুর্ঘটনার সঙ্গে আগের ঘটনার কোনো মিল পাওয়া যাচ্ছে না। এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে বিস্তারিত তদন্তের প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।
দেশটির উচ্চগতির রেলব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে জনসচেতনতা ও আস্থা ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, স্পেনের মতো একটি দেশে একই বছরে উচ্চগতির ট্রেনের দুটি দুর্ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রেল খাতে যাত্রীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবে।
দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনে ধাক্কা, নিহত অন্তত ৬৮
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে স্পেনের মধ্যাঞ্চলের তোলেদো প্রদেশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার শিকার দুটি ট্রেনই ছিল উচ্চগতির। ট্রেন দুটি মাদ্রিদ থেকে সোয়েদাদে যাচ্ছিল। ভয়াবহ এ সংঘর্ষে অন্তত ৬৮ জন নিহত হয়েছেন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে দেশটির পরিবহনমন্ত্রী জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলের রেললাইনের প্রধান এলজেডবি সিগন্যালে ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই এলাকায় চলাচলরত সব ট্রেনকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে থামার সংকেত দেওয়া হয়।
দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রেন দুটি ছিল ‘রেনফে হাইস্পিড ট্রেন’ ও ‘ইরো ট্রেন’। ঘটনার সময় রেনফে ট্রেনটি পেছনে ছিল এবং ইরো ট্রেনটি প্রায় ২৫ কিলোমিটার সামনে অবস্থান করছিল।
সিগন্যালে ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর স্পেনের সরকারি রেল অবকাঠামো পরিচালনাকারী সংস্থা আদিফ ট্রেন পরিচালনার কমান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয়। এরপর দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা রেনফে হাইস্পিড ট্রেনটিকে চলাচলের অনুমতি দেন, যদিও সিগন্যালে লাল বাতি জ্বলছিল।
অন্যদিকে, প্রায় ২৫ কিলোমিটার সামনে থাকা ইরো ট্রেনটি তখনও দাঁড়িয়ে ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, লাল সংকেত থাকা সত্ত্বেও রেনফে ট্রেনটিকে চলার অনুমতি দেওয়ার পাশাপাশি কোনো গতিসীমাও নির্ধারণ করা হয়নি।
এরপর ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার গতিতে চলতে থাকা রেনফে হাইস্পিড ট্রেনটি সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ইরো ট্রেনকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে এবং ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও রেল পরিচালনায় কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কি না, তা বিস্তারিত তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। এদিকে নিরাপত্তাব্যবস্থার ত্রুটি দূর করে উচ্চগতির রেল চলাচলে যাত্রীদের আস্থা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী। সূত্র: বিবিসি।
জ/শা