পর্তুগালে নবনিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. এস এম কামরুল হাসান দেশটির রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করেছেন। গতকাল সোমবার (২০ অক্টোবর) লিসবনের বেলেম প্রাসাদে পর্তুগিজ প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতির কাছে তিনি এ পরিচয়পত্র পেশ করেন। এর মধ্য দিয়ে পর্তুগালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।
পরিচয়পত্র পেশের এ আনুষ্ঠানিকতা বাংলাদেশ ও পর্তুগালের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে পর্তুগালের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব আরও জোরদার করা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত হয়েছে।
পর্তুগালের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত কামরুল হাসান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও সরকারপ্রধানের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও উষ্ণ অভিনন্দন জানান। এ সময় তিনি ঢাকায় পর্তুগালের একটি স্থায়ী কূটনৈতিক মিশন প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর মতে, ঢাকায় পর্তুগিজ মিশন চালু হলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও সহজ হবে, প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক জোরদার হবে এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার পরিসর বাড়বে।
রাষ্ট্রদূত দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় গতিশীলতা কাঠামোর আওতায় সহযোগিতা কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়া, নিয়মিত ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন উৎসাহিত করা এবং বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। পাশাপাশি দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও সম্পর্ক বাড়াতে সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালুর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
পর্তুগালের রাষ্ট্রপতি দেশটিতে বসবাসরত বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের অবদানের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে পর্তুগিজ সমাজে বাংলাদেশিদের একীভূত হওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।
বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, সামুদ্রিক বিষয়, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও বিনিময় বাড়ানোর ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।
লিসবনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থ এগিয়ে নেওয়া, অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক শক্তিশালী করা এবং উভয় দেশের জনগণের পারস্পরিক কল্যাণে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে আরও কার্যকর রূপ দিতে দূতাবাস প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
জ/উ