সীতাকুণ্ডে অবৈধ বালু উত্তোলন ঘিরে সংঘাত, ১৮ মাসে তিনজনের মৃত্যু

সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি

দেশজুড়ে

2026-10-20T17:27:23+06:00
2026-10-20T17:27:23+06:00
মঙ্গলবার ● ২০ অক্টোবর ২০২৬,
৪ কার্তিক ১৪৩৩
Advertisement
দেশজুড়ে
সীতাকুণ্ডে অবৈধ বালু উত্তোলন ঘিরে সংঘাত, ১৮ মাসে তিনজনের মৃত্যু
সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি
⏲ ৫:২৭ পিএম | ২০ অক্টোবর, ২০২৬ | মঙ্গলবার
সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের উপকূলীয় এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে সংঘাত ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রশাসনকে ম্যানেজ করে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে সাগর থেকে বালু উত্তোলন করছে। এ নিয়ে বিরোধের জেরে গত ১৭ থেকে ১৮ মাসে এক জেলে ও দুই বিএনপির কর্মীসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তবে এসব মৃত্যুর সঙ্গে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের মান্দারীটোলা ও অলিনগর এলাকায় সাগর থেকে নিয়মিত বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। সন্ধ্যার পর ড্রামট্রাকে করে এসব বালু বিভিন্ন স্থানে নেওয়া হয়। বাড়বকুণ্ড বাজারের পূর্ব পাশে একেএইচ লজিস্টিক ওয়ার্ল্ড নামের একটি প্রতিষ্ঠানে বালু নেওয়া হয় বলেও দাবি তাঁদের।

স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি সোমবার বাড়বকুণ্ডের সন্দ্বীপ চ্যানেলে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে রাম জলদাস (৩২) নামের এক জেলের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, তাঁকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে সাগরে ফেলে দেওয়া হয়। এ সময় তাঁর ছোট ভাই লিটন জলদাসকে অপহরণ করে একটি বাল্কহেডে করে নোয়াখালীর দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।

পরে লিটন তাঁর বন্ধুদের ফোন করে ঘটনাটি জানান। কয়েক দিন পর রাম জলদাসের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

জেলেদের অভিযোগ, সাগর থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে তাঁদের মাছ ধরতে সমস্যা হচ্ছে। বাল্কহেড চলাচলের কারণে জাল বসানো যায় না, আবার জাল কেটে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। এসবের প্রতিবাদ করলে বালু উত্তোলনকারীরা তাঁদের হত্যার হুমকি দেন বলে দাবি করেন তাঁরা।

জেলেদের আরও অভিযোগ, বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং তাঁদেরই ধমক দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাঁদের।

স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৩১ জানুয়ারি ড্রেজারের তেল চুরিকে কেন্দ্র করে রিফাত নামের এক যুবক ও তাঁর সহযোগীদের সঙ্গে রাতের প্রহরী সালাউদ্দিনের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাঁকে মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। আহত অবস্থায় সালাউদ্দিন সাগরে পড়ে যান। পরে খোঁজাখুঁজির চার দিন পর সাগর উপকূল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনার সঙ্গে অবৈধ বালু উত্তোলন চক্রের সংশ্লিষ্টতা এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গত ১৬ অক্টোবর রাত ১১টার দিকে সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের অলিনগর এলাকায় সাদ্দাম হোসেনের কার্যালয়ের সামনে বাপ্পি নামের এক যুবকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বাপ্পি তাঁর বন্ধু ইমনকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে ওই কার্যালয়ের সামনে গেলে প্রধান আসামি হিসেবে উল্লেখ করা আরিফ ও তাঁর সহযোগীরা তাঁর ওপর হামলা চালান। এতে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গেলে বাপ্পিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে তাঁকে বুকে গুলি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে শাওন নামের আরেক যুবকও গুলিবিদ্ধ হন।

পরে তাঁদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বাপ্পিকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সাগর উপকূলে বালু ও ড্রেজার ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এ বিরোধের সূত্রপাত। তবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অবৈধ বালু উত্তোলনের সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

বাড়বকুণ্ডের স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে প্রকাশ্যে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। এই চক্রে প্রভাবশালী ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতা ও সরকারি কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলেও দাবি তাঁদের। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের দাবি, সাগর থেকে বালু তুলে ড্রামট্রাকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। এভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে উপকূলীয় এলাকার বসতবাড়ি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।

তাঁদের প্রশ্ন, প্রকাশ্যে এমন কর্মকাণ্ড চলার পরও প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা কেন দেখা যাচ্ছে না? তাঁদের অভিযোগ, কিছুদিন বালু উত্তোলন বন্ধ থাকলেও পরে আবার তা শুরু হয়।

এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, সাগর থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে একাধিকবার অভিযান চালানো হয়েছে। ড্রেজারের মালিকদের জরিমানাও করা হয়েছে। এরপরও আইন অমান্য করে বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে শিগগিরই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জ/উ


Advertisement
সর্বশেষ
‹ ›
সর্বাধিক পঠিত
‹ ›
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত