পুলিশের জন্য ৫ হাজার ৮৩০টি গাড়ি কিনবে সরকার

জবাবদিহি ডেস্ক

জাতীয়

2026-10-20T16:29:45+06:00
2026-10-20T16:29:45+06:00
মঙ্গলবার ● ২০ অক্টোবর ২০২৬,
৪ কার্তিক ১৪৩৩
Advertisement
জাতীয়
পুলিশের জন্য ৫ হাজার ৮৩০টি গাড়ি কিনবে সরকার
জবাবদিহি ডেস্ক
⏲ ৪:২৯ পিএম | ২০ অক্টোবর, ২০২৬ | মঙ্গলবার
সংগৃহীত ছবি
পুলিশের পরিবহন সংকট দূর করা, ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ির পরিবর্তে নতুন যানবাহন সরবরাহ এবং বিশেষায়িত সক্ষমতা বাড়াতে ৬ হাজার ৬০৯ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে ৫ হাজার ৮৩০টি গাড়ি কেনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য দুটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে, যা আগামী ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের কথা রয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে পুলিশের ১ হাজার ৭৪টি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে ৪৫৫টি গাড়ি পুরোপুরি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। এতে বাহিনীর পরিবহন সংকট আরও বেড়ে যায়। বর্তমানে দেশের ৬৩৯টি থানায় গড়ে দুটি করেও গাড়ি নেই।

পরিকল্পনা কমিশনের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, বর্তমানে থানাগুলোতে মোট ১ হাজার ২৩৭টি গাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে ৬৪ শতাংশের বয়স ১০ বছরের বেশি। পুরোনো যানবাহনের কারণে নিয়মিত টহল, অপরাধ তদন্ত ও জরুরি সেবা কার্যক্রম পরিচালনায় বিঘ্ন ঘটছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, দুটি প্রকল্পের মাধ্যমে যানবাহন কেনা হবে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৮২৯টি অপারেশনাল গাড়ি কেনার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪ হাজার ৩২৮ কোটি ৯২ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। অন্যদিকে, ১ হাজার ১টি বিশেষায়িত গাড়ি কিনতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ২৮০ কোটি ১৪ লাখ ১৪ হাজার টাকা।

পরিকল্পনা বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রকল্প দুটি ২৫ অক্টোবরের একনেক সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের কথা রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলো বাংলাদেশ পুলিশ ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়ন করবে। এর সম্পূর্ণ অর্থায়ন করবে সরকার।

গত ৩০ মার্চ জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় পুলিশের অনেক গাড়ি পুড়ে যাওয়া ও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় টহল এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পুলিশের সক্ষমতা পুনরুদ্ধার ও ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ির পরিবর্তে নতুন যানবাহন সরবরাহে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত কেনাকাটার উদ্দেশ্য শুধু ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি প্রতিস্থাপন নয়; পুলিশের সামগ্রিক পরিবহন সংকট নিরসন এবং বিশেষায়িত সক্ষমতা বাড়ানোও এর লক্ষ্য।

প্রকল্প প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিটি থানার অধীনে সাধারণত একাধিক ইউনিয়ন বা ওয়ার্ড থাকে। এসব এলাকায় একসঙ্গে টহল ও অন্যান্য কার্যক্রম চালাতে প্রতিটি থানায় অন্তত চার থেকে পাঁচটি পিকআপ বা টহল গাড়ি প্রয়োজন। জনবহুল ও অপরাধপ্রবণ এলাকায় এ চাহিদা আরও বেশি হতে পারে।

কিন্তু অনেক থানায় মাত্র এক বা দুটি গাড়ি থাকায় একটি দল অভিযানে গেলে অন্য এলাকায় পর্যাপ্ত টহল দেওয়া কিংবা তাৎক্ষণিক পুলিশি সহায়তা পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে।

পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) কামারুম মুনিরা জানান, পরিবহন সংকট দূর করা এবং পুলিশের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতেই গাড়ি কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে বাহিনীর যানবাহনের প্রয়োজনীয়তা পুনর্মূল্যায়ন করে প্রয়োজন হলে আরও গাড়ি কেনার আবেদন করা হতে পারে।

তিনি জানান, নিয়মিত টহল, অপরাধ ও মাদকবিরোধী অভিযান, গ্রেপ্তার এবং জরুরি সেবা প্রদানে পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই অপারেশনাল যানবাহন প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে।

জাতীয় নির্বাচন কিংবা বড় কোনো আয়োজনের সময় সারা দেশে একযোগে পুলিশ মোতায়েনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও প্রকল্প প্রস্তাবে গুরুত্ব পেয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত যানবাহন থাকলে পুলিশের কার্যক্রম পরিচালনা সহজ হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বিশেষায়িত যানবাহন প্রকল্পের লক্ষ্য সংঘাত নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ তদন্ত এবং দুর্গম এলাকায় অভিযান পরিচালনায় পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানো।

প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, রায়ট কার জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে পুলিশের দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াবে। সাধারণ টহল গাড়ি চলাচল করতে পারে না-এমন এলাকায় ব্যবহারের জন্য রাখা হবে অল-টেরেইন ভেহিকেল।

এ ছাড়া মোবাইল কমান্ড সেন্টার অস্থায়ী নিয়ন্ত্রণকক্ষ হিসেবে কাজ করবে। উন্নত যোগাযোগব্যবস্থার মাধ্যমে এসব যান থেকে অভিযান পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয় করা সম্ভব হবে। অপরাধস্থল থেকে দ্রুত আলামত সংগ্রহ এবং তদন্তকাজে সহায়তা করবে ক্রাইম সিন ভ্যান। এতে অপরাধ তদন্ত ও সন্দেহভাজন শনাক্ত করার প্রক্রিয়া সহজ হবে বলে প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

নদীমাতৃক এলাকায় টহল, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা ও উদ্ধারকাজ পরিচালনার জন্য জলযানের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

প্রকল্পের নথিপত্রে দেশের ৬৩৯টি প্রশাসনিক থানার পাশাপাশি বাংলাদেশ পুলিশের ২৪টি রেলওয়ে থানা ও ৭৩টি হাইওয়ে থানার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

অপারেশনাল যানবাহন প্রকল্পে গাড়ি মেরামতের সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি কেনার জন্য ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে। এ ছাড়া ৬৫০ জন হালকা যানবাহন চালক এবং ৩০০ জন ভারী যানবাহন চালককে ড্রাইভিং ও মেকানিক্যাল প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও ৫০ জনকে মেকানিক হিসেবে প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

অন্যদিকে, বিশেষায়িত যানবাহন প্রকল্পের আওতায় ৯১০ জন কর্মীকে ড্রাইভিং ও মেকানিক্যাল প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এ প্রকল্পেও আরও ৫০ জনকে মেকানিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

গত ১৫ অক্টোবর পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি প্রস্তাব দুটি পর্যালোচনা করে। কমিটি প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যথাযথ ব্যয় প্রাক্কলন, সরকারি ক্রয়বিধি অনুসরণ এবং গাড়িগুলোর পর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে।

জ/উ


Advertisement
সর্বশেষ
‹ ›
সর্বাধিক পঠিত
‹ ›
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত