নীল আকাশে ভোরের আলো ফুটতেই হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার দেউন্দি চা-বাগানের ভেতরের একটি বিলে ফুটে থাকা লাল শাপলা দেখতে ভিড় করছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। যত দূর চোখ যায়, কালো জলের বুকে বিছানো থাকে লাল শাপলার গালিচা। চা-বাগানের সবুজের বুক চিরে গড়ে ওঠা এই বিলের রূপ দেখতে প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন নানা বয়সী মানুষ।
স্থানীয়ভাবে এটি ‘দেউন্দি লাল শাপলা বিল’ নামে পরিচিত। উপজেলা সদর থেকে প্রায় পাঁচ-ছয় কিলোমিটার দূরে চা-বাগানের ভেতরেই এর অবস্থান। বর্ষায় জমে থাকা পানিতে প্রাকৃতিক ভাবে এই শাপলা জন্ম নেয় এবং শীতের শুরুতে ফুটতে শুরু করে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মাত্র কয়েক বছর আগেও এই বিলের কথা বাইরের মানুষ জানত না। চা-বাগানের শ্রমিকেরা গবাদিপশু নিয়ে এই পথ দিয়ে যাতায়াত করতেন। তবে গত দুই-তিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিলের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই এখানে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় শুরু হয়েছে।
পর্যটকদের এই আনাগোনার সুবাদে বিলের পাড়ে গড়ে উঠেছে ২০-২৫টি অস্থায়ী দোকান। সেখানে চা, পান, ফুচকা ও ঝালমুড়ি বিক্রি করে স্থানীয় অনেক পরিবার বাড়তি আয় করছে। চা-বাগান শ্রমিক পরিবারের সদস্যরা ছোট নৌকায় করে পর্যটকদের কাছে শাপলা ফুল বিক্রি করেন। প্রতি ফুল ১০ টাকা দরে বিক্রি করে কেউ কেউ দিনে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত আয় করছেন।
স্থানীয় এক দোকানি জানান, আগে জায়গাটি একেবারেই ফাঁকা থাকত, অথচ এখন শাপলা ফোটার মৌসুমে তার দৈনিক বিক্রি প্রায় দুই হাজার টাকায় ঠেকেছে। তবে বিপুলসংখ্যক পর্যটকসমাগম ঘটলেও এখানে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার মারাত্মক সংকট রয়েছে। বিলের পাশে নেই কোনো শৌচাগার, বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা কিংবা দর্শনার্থীদের বসার সুব্যবস্থা।
বিশেষ করে সামান্য বৃষ্টিতেই চা-বাগানের ভেতরের কাঁচা রাস্তাগুলো কর্দমাক্ত ও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে নারী ও শিশু পর্যটকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।