ভারতের আলোচিত ২০০ কোটি রুপির আর্থিক প্রতারণার মামলায় নতুন করে আদালতের তলব পেয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী নোরা ফাতেহি। আগামী ২ নভেম্বর দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালতে তাঁকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার তৃতীয় অভিযোগপত্রে সাক্ষী হিসেবে নাম থাকায় আদালতে উপস্থিত হতে হবে অভিনেত্রীকে।
সুকেশ চন্দ্রশেখরের বিরুদ্ধে ২০০ কোটি রুপি আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগ ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে আইনি কার্যক্রম। এ মামলায় অভিযুক্তের কাছ থেকে দামি উপহার নেওয়ার অভিযোগে এর আগে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছেন নোরা। তবে এবার তাঁকে সাক্ষী হিসেবে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সুকেশের দাবি, মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কায় বাড়ি কেনার জন্য নোরাকে কয়েক কোটি রুপি দিয়েছিলেন তিনি। এ ছাড়া দামি প্রসাধনসামগ্রী, বিদেশি ব্র্যান্ডের ব্যাগ ও বিলাসবহুল গাড়িসহ বিভিন্ন উপহার দেওয়ার কথাও দাবি করেছেন সুকেশ। এমনকি নোরার সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে কথোপকথনের কিছু অংশও একসময় প্রকাশ্যে এনেছিলেন তিনি।
নোরা ও সুকেশকে ঘিরে বিতর্কের সূত্রপাত আরও আগে। সুকেশের অভিযোগ, জ্যাকলিন ফার্নান্দেজের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভাঙতে নোরা বিভিন্নভাবে উসকানি দিতেন। জ্যাকলিনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে ঈর্ষান্বিত হয়ে নোরা তাঁকে নিয়মিত ফোন করতেন বলেও দাবি করেন সুকেশ। পাশাপাশি বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্য নোরা তাঁর কাছে বিপুল অর্থ দাবি করেছিলেন বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
গত আগস্টে সুকেশের হাতে লেখা একটি চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে। ওই চিঠিতেও নোরাকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগের কথা উল্লেখ করেছিলেন তিনি।
একই মামলায় নাম জড়ানোয় দীর্ঘদিন ধরে আইনি জটিলতার মধ্যে রয়েছেন আরেক বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকলিন ফার্নান্দেজ। তাঁকেও একাধিকবার আদালতে হাজির হতে হয়েছে। পাশাপাশি তদন্তকারী সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখিও হয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, সুকেশের সঙ্গে নাম জড়িয়ে পেশাগত জীবনে ক্ষতির মুখে পড়ার কথা আগেই জানিয়েছিলেন নোরা। গত আগস্টে এক বক্তব্যে অভিনেত্রী দাবি করেন, এ মামলার কারণে একাধিক বিজ্ঞাপন ও প্রতিষ্ঠানের কাজ হারিয়েছেন তিনি। পরপর কাজ হাতছাড়া হওয়ায় কঠিন সময় পার করতে হয়েছে তাঁকে। প্রায় দুই বছর ধরে এই পরিস্থিতির প্রভাব বয়ে বেড়ানোর কথাও জানান নোরা।
জ/উ