প্রভাবশালী যে-ই হোক, শাকিল হত্যার বিচার হবে: প্রতিমন্ত্রী পুতুল

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি

দেশজুড়ে

2026-10-29T20:10:55+06:00
2026-10-29T20:10:55+06:00
বৃহস্পতিবার ● ২৯ অক্টোবর ২০২৬,
১৩ কার্তিক ১৪৩৩
Advertisement
দেশজুড়ে
প্রভাবশালী যে-ই হোক, শাকিল হত্যার বিচার হবে: প্রতিমন্ত্রী পুতুল
গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
⏲ ৮:১০ পিএম | ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ | বৃহস্পতিবার
ছবি- গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলাম হত্যাকাণ্ডে যত বড় প্রভাবশালী ব্যক্তিই জড়িত থাকুক না কেন, তাঁর বিচার নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মাটিতেই এই হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে। হত্যাকারীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর শহরের খামারনাচকৈড়ের খোয়ারপাড়া মহল্লায় নিহত ছাত্রদল নেতা শাকিলের বাড়িতে গিয়ে শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তিনি পরিবারকে বিচারের বিষয়ে আশ্বস্ত করেন।

ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন, ‘শাকিল খুন হয়ে আমাদের বুকের মধ্যে বিচার নামের অনেক বড় একটা বোঝা রেখে গেছে। আমরা যত দিন পর্যন্ত এর বিচার করতে না পারব, তত দিন পর্যন্ত আমাদের এই বোঝাটা যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘অনেকে বলার চেষ্টা করছে, শাকিল নিজেই অনেক ধরনের অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিল, থাকতে পারে। তাই বলে কেউ কাউকে মেরে ফেলার অধিকার পায় না। সে যদি অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকত, তাহলে সেটা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আছে, আপনারা বিচার দিতে পারতেন। কিন্তু এ রকম একটা ছেলেকে আপনারা কুপিয়ে মেরে ফেলবেন এবং বাংলাদেশে বারবারই এমন ঘটনা ঘটতে থাকবে, আমরা সেটা হতে দেব না।’

প্রতিমন্ত্রী অভিযোগ করেন, শাকিল গুরুতর আহত হওয়ার পর মামলার তদন্তে পুলিশের গাফিলতি ছিল। পুলিশ তখনই শাকিলের বক্তব্য গ্রহণ করলে আরও দ্রুত অনেক তথ্য জানা সম্ভব হতো বলে মনে করেন তিনি। এ ছাড়া মামলার এজাহারে বাদী যে নাম উল্লেখ করেছিলেন, তা বাদ দিয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন, ‘বাদী নাম দিয়েছে, আপনি মামলা করতে পাবেন না, দিস ইজ ইললিগ্যাল, এটা আপনারা করতে পারেন না। আমি পুলিশের সঙ্গে রাগারাগিও করেছি।’

নিহত শাকিলের বাবা রবিউল ইসলাম বলেন, গত ১৪ অক্টোবর তাঁর ছেলেকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় ১৯ অক্টোবর তিনি গুরুদাসপুর থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। তাঁর দাবি, নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের নির্দেশেই আমেরিকাপ্রবাসী রাসেলের নাম মামলার এজাহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। পরে এমপির নির্দেশেই রাসেলের নাম বাদ দেওয়া হয়।

রবিউল ইসলাম বলেন, গত সোমবার পর্যন্ত পুলিশ কোনো অপরাধীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। তাঁর ধারণা, এমপির ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুর সঙ্গে আমেরিকাপ্রবাসী রাসেলও তাঁর ছেলের হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারেন।

প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন, ‘আমরা সবাই চেষ্টা করেছি শাকিল বেঁচে থাকুক। কিন্তু অনেকে চেয়েছে শাকিল না থাকুক। কারণ শাকিল বেঁচে থাকলে হয়তো অপরাধীদের নামগুলো আরও দ্রুত চলে আসত।’

তিনি আরও বলেন, ‘এর আগে গুরুদাসপুরে বিএনপি নেতা মবিদুল ও বড়াইগ্রামের বনপাড়ায় সানাউল্লাহ নুর বাবুকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো বিচার হয়নি। কিন্তু শাকিল হত্যার বিচারের ক্ষেত্রে এমন হবে না। অবশ্যই বিচার করা হবে।’

হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য কেউ যেন কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘যেমন জানাজার পর একটি ঘটনা ঘটেছে, কিছু জায়গা ভাঙচুর করা হয়েছে—এগুলো যেন কেউ না করে, আমি আন্তরিকভাবে অনুরোধ করছি। সে যেই হোক না কেন, অপরাধী অপরাধীই। তার কোনো দল নেই, তার কোনো দেশ নেই, তার কোনো কিছু নেই। অপরাধী মানে অপরাধী, ইনশাআল্লাহ তার সাজা হবে। আমরা যেন বিচারটা করে ওর বাবা-মাকে অন্তত মুখ দেখাতে পারি যে, আমরা এটা করতে পেরেছি।’

এর আগে প্রতিমন্ত্রী নিহত ছাত্রদল নেতা শাকিলের কবর জিয়ারত করেন। এ সময় কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম, সহসভাপতি নিজামুদ্দিন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোমিনুল ইসলাম জিষানও কবর জিয়ারত করেন। পরে তাঁরা নিহতের পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে গুরুদাসপুর পৌর শহরের চাঁচকৈড় বাজারপাড়া এলাকায় হেলমেট পরা সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম। এ সময় তাঁকে কুপিয়ে জখম করে মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যান হামলাকারীরা।

পরে শাকিলকে উদ্ধার করে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ১৯ অক্টোবর তাঁর বাবা রবিউল ইসলাম থানায় মামলা করেন।

পারিবারিক সূত্র জানায়, হাসপাতালে ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে শাকিল মারা যান। ওই দিন রাত ১০টার দিকে নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে আটক করে পুলিশ।

পরদিন মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে মিন্টুকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাঁর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে মিন্টুকে যুবদলের যুগ্ম সম্পাদকের পদ থেকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় যুবদল।

শাকিল হত্যাকাণ্ডে মিন্টুর পাশাপাশি রাসেলেরও সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে-এমন সন্দেহ থেকে জানাজায় অংশ নেওয়া বিক্ষুব্ধ লোকজন দোকানপাট ভাঙচুর করেন বলে জানা গেছে।

এদিকে, শাকিলের জানাজায় বক্তব্য দিতে গিয়ে জনরোষের মুখে পড়েন সংসদ সদস্য আবদুল আজিজ। এর পরদিন বুধবার সকাল থেকে শাকিল হত্যা মামলায় তাঁর ছেলে মিন্টুর সম্পৃক্ততা নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যে এমপি আবদুল আজিজের একটি অশ্লীল ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তাঁকে অশ্লীল যৌন অঙ্গভঙ্গি করতে দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে এমপি আবদুল আজিজ বলেন, তাঁর ও তাঁর সন্তানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ।

জ/উ


Advertisement
সর্বশেষ
‹ ›
সর্বাধিক পঠিত
‹ ›
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত