করখানা-পান্ডবের ভাঙনে নিঃস্ব শত শত পরিবার, অস্তিত্ব সংকটে কবাই এলাকাবাসী

বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি

দেশজুড়ে

2026-10-29T16:13:21+06:00
2026-10-29T16:13:21+06:00
বৃহস্পতিবার ● ২৯ অক্টোবর ২০২৬,
১৩ কার্তিক ১৪৩৩
Advertisement
দেশজুড়ে
করখানা-পান্ডবের ভাঙনে নিঃস্ব শত শত পরিবার, অস্তিত্ব সংকটে কবাই এলাকাবাসী
বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি
⏲ ৪:১৩ পিএম | ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ | বৃহস্পতিবার
ছবি- বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কবাই ইউনিয়নে করখানা ও পান্ডব নদীর অব্যাহত ভাঙনে ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে জনপদটির আয়তন। নদীর আগ্রাসনে একের পর এক বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, কৃষিজমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার, কবরস্থান ও গ্রামীণ সড়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। সর্বস্ব হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন শত শত পরিবার।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে মানচিত্রে কবাই ইউনিয়নের অস্তিত্ব আরও সংকুচিত হয়ে পড়বে।

সরেজমিনে দেখা যায়, একসময় কবাই ইউনিয়নের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত শিয়ালঘুনি বাজার ও কবাই বাজার ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে শিয়ালঘুনি ও লক্ষ্মীপাশা গ্রাম। প্রতিনিয়ত নদীর পাড় ধসে পড়ায় আতঙ্কে দিন কাটছে নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের।

ভাঙনের কারণে অনেক পরিবার একাধিকবার বাড়িঘর অন্যত্র সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। কেউ আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন, কেউ অস্থায়ী ঘর তৈরি করে বসবাস করছেন। আবার অনেকের ঠাঁই হয়েছে খোলা আকাশের নিচে।

নদীভাঙনে শত শত একর আবাদি জমি বিলীন হওয়ায় কৃষিনির্ভর অসংখ্য পরিবার জীবিকার প্রধান অবলম্বন হারিয়েছে। এতে এলাকায় তীব্র অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক পরিবার ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছে, আবার কেউ জীবিকার সন্ধানে অন্যত্র পাড়ি জমাচ্ছেন।

নদীভাঙনের নির্মম শিকার হয়েছে এলাকার শিক্ষাব্যবস্থাও। প্রায় দুই বছর আগে শিয়ালঘুনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় করখানা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এরপর থেকে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের বারান্দায় অস্থায়ীভাবে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

খোলা পরিবেশে পাঠদান করায় বর্ষা ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

লক্ষ্মীপাশা গ্রামের শিখা রানী বলেন, ‘কয়েকবার আমাদের বসতঘর নদীতে হারিয়ে গেছে। গত বছর কবাই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কামরুল হাসান রুবেল আমাদের একটি নতুন ঘর নির্মাণ করে দিয়েছেন। এখন সেই ঘরও নদীভাঙনের মুখে পড়েছে। মাথা গোঁজার শেষ ঠাঁইটুকু নদীতে হারিয়ে গেলে আমরা নিঃস্ব হয়ে যাব।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর নদীভাঙন অব্যাহত থাকলেও স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন হাজারো মানুষ।

এলাকাবাসীর দাবি, করখানা ও পান্ডব নদীতে জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং টেকসই বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। পাশাপাশি ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন, কৃষকদের বিশেষ আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসন কর্মসূচি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল বলেন, খুব শিগগিরই কবাই ইউনিয়নের করখানা ও পান্ডব নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হবে। পরিস্থিতি মূল্যায়নের পর প্রয়োজনীয় বরাদ্দের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে নদীভাঙনে কবাই ইউনিয়নের আরও বিস্তীর্ণ এলাকা বিলীন হবে। এতে জনপদটির ভৌগোলিক অস্তিত্ব ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়বে।

জ/উ


Advertisement
সর্বশেষ
‹ ›
সর্বাধিক পঠিত
‹ ›
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত