ব্যালন ডি’অরের ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে উয়েফা ও ‘ফ্রান্স ফুটবল’ সাময়িকীর আয়োজিত বিশেষ ভোটাভুটিতে লিওনেল মেসিকে পেছনে ফেলেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ‘ব্যালন ডি’অর অব অলটাইম’ (বোট) নামের এই আয়োজনে সেরা নির্বাচিত হয়েছে ২০০৮ সালে রোনালদোর ব্যালন ডি’অর জয়ের মৌসুম। আয়োজকদের ঘোষণা অনুযায়ী, বিজয়ীর জন্য কোনো ট্রফি থাকছে না।
ব্যালন ডি’অর জেতা খেলোয়াড়দের কোন মৌসুমের পারফরম্যান্স সেরা, তা নির্ধারণে গত ১ অক্টোবর থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। ভক্তরা প্রতি ভোটের জন্য ১ ইউরো বা ১৩৮ টাকা খরচ করে একাধিকবার ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। গত মঙ্গলবার রাতে ভোটগ্রহণ শেষ হয়। এরপর ব্যালন ডি’অরের ওয়েবসাইটে রোনালদোকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম ‘ক্ল্যারিন’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটে রোনালদো পেয়েছেন ৪৪৬ পয়েন্ট। অন্যদিকে মেসির ২০১২ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী মৌসুম পেয়েছে ২৮১ পয়েন্ট। তালিকার শীর্ষ ১২টি স্থানই দখল করেছেন মেসি ও রোনালদোর ব্যালন ডি’অরজয়ী মৌসুমগুলো। ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিওর ২০০২ সালের পারফরম্যান্স রয়েছে ১৩তম স্থানে।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে খেলার সময় ২০০৮ সালে ক্যারিয়ারের প্রথম ব্যালন ডি’অর জেতেন রোনালদো। ২০০৭-০৮ মৌসুমে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা জয়ের পাশাপাশি সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪৯ ম্যাচে ৪২ গোল করেছিলেন পর্তুগিজ তারকা। ভোটে তাঁর সেই মৌসুমই সবার সেরা নির্বাচিত হয়েছে।
অন্যদিকে মেসির ২০১১-১২ মৌসুম ছিল রেকর্ডে ভরা। সে সময় এক পঞ্জিকাবর্ষে ৮৫ গোলের রেকর্ড ভেঙে ৬৯ ম্যাচে ৯১ গোল করেন আর্জেন্টাইন তারকা। বার্সেলোনার হয়ে জেতেন কোপা দেল রে ও স্প্যানিশ সুপার কাপ। ওই পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১২ সালে ক্যারিয়ারের চতুর্থ ব্যালন ডি’অর জেতেন তিনি। এবার ‘ব্যালন ডি’অর অব অলটাইম’ ভোটে তাঁর সেই মৌসুম দ্বিতীয় হয়েছে।
এই ভোটে একাধিকবার ব্যালন ডি’অর জেতা ১০ কিংবদন্তির মৌসুম বিবেচনায় নেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে ছিলেন লিওনেল মেসি (৮ বার), ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো (৫ বার), ইয়োহান ক্রুইফ (৩ বার), মিশেল প্লাতিনি (৩ বার), মার্কো ফন বাস্তেন (৩ বার), রোনালদো নাজারিও (২ বার), ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার (৩ বার), কার্ল-হেইঞ্জ রুমেনিগে (৩ বার), কেভিন কিগান (২ বার) ও আলফ্রেড ডি স্টেফানো (২ বার)।
তবে ‘বোট’ পুরস্কারের ভোটাভুটি নিয়ে আগে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছিল। ব্যালন ডি’অরের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট সেই অভিযোগ নাকচ করে জানায়, মাত্র ৫ হাজার ৯ জন ব্যবহারকারী একাধিকবার ভোট দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৪৪ জন ১০ থেকে ২৬টি, ৩০০ জন ৫ থেকে ৯টি এবং ৪ হাজার ৬৬৫ জন ২ থেকে ৪টি ভোট দিয়েছেন।
জ/উ