‘আমার রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ভিত্তি রক্তে নয়, আত্মায়’: মেঘনা আলম

বিনোদন ডেস্ক

বিনোদন

2026-10-21T18:26:09+06:00
2026-10-21T18:26:09+06:00
বুধবার ● ২১ অক্টোবর ২০২৬,
৫ কার্তিক ১৪৩৩
Advertisement
বিনোদন
‘আমার রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ভিত্তি রক্তে নয়, আত্মায়’: মেঘনা আলম
বিনোদন ডেস্ক
⏲ ৬:২৬ পিএম | ২১ অক্টোবর, ২০২৬ | বুধবার
মেঘনা আলম
রাজনৈতিক প্রশিক্ষক ও মডেল-অভিনেত্রী মেঘনা আলম বলেছেন, বিএনপির কোনো বড় নেতা, মন্ত্রী কিংবা সংসদ সদস্য তাঁর আত্মীয় নন-এমন কোনো পরিচয় দেখানোর সুযোগও তাঁর নেই। নিজের জ্ঞান-বিবেচনা থেকে দেশের স্বার্থকে সামনে রেখে বিএনপিকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। তাঁর বিশ্বাস, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ও জাতীয় স্বার্থ এখন বিএনপির কাছে নিরাপদ।

সংরক্ষিত নারী আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেতে আবেদন করার সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মতো সাজতে চেষ্টা করেননি বলেও জানিয়েছেন মেঘনা আলম। তাঁর ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রী ও মনোনয়ন কমিটির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি মার্জিতভাবে উপস্থিত হতে চেয়েছিলেন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা তুলে ধরেন তিনি।

পোস্টে মেঘনা আলম লেখেন, ‘আমি আসলে বেগম খালেদা জিয়ার মতো সাজতে চেষ্টা করিনি। এই একই সাদা শাড়ি ও সাদা ওড়না আমি দুদিন আগেও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পরেছি, আপনারা দেখেছেন। প্রধানমন্ত্রী ও মনোনয়ন কমিটির প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা রেখে আমি শুধু মার্জিতভাবে যেতে চেয়েছি।’

তিনি জানান, অনেক প্রার্থীর ভিড়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে ভেবেই চুলে খোঁপা করে গিয়েছিলেন, যাতে গরমে কিছুটা স্বস্তি পান। আগেরবারও অনেক প্রার্থীর সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছিল। তখন চুল খোলা থাকায় ঘেমে তাঁর অবস্থা বেশ খারাপ হয়ে গিয়েছিল।

নিজের সাজসজ্জার ব্যাখ্যা দিয়ে এই অভিনেত্রী বলেন, সাধারণত তাঁর স্বাভাবিক চেহারাই মানুষ দেখতে অভ্যস্ত। তবে সাক্ষাৎকারের জন্য কিছুটা আনুষ্ঠানিক সাজে যেতে পরিচিত এক ছোট বোনকে সাজিয়ে দিতে বলেছিলেন। কেমন সাজ চান, তা বোঝাতে নিজের গায়ের রঙের সঙ্গে মানানসই লুকের উদাহরণ হিসেবে পাকিস্তানের মরিয়ম নওয়াজ ও ক্রিকেটার ইরফান পাঠানের স্ত্রীর ছবি দেখিয়েছিলেন। ভ্রু ঐশ্বরিয়ার মতো স্বাভাবিক রাখতে এবং চুল এয়ার হোস্টেসদের মতো পরিপাটি করে বেঁধে দিতেও বলেছিলেন।

মেঘনা আলমের ভাষ্য, সবকিছু মিলিয়ে তাঁকে অবিকল বেগম খালেদা জিয়ার মতো দেখাবে, তা অন্যদের প্রতিক্রিয়া দেখার আগে তিনি বুঝতে পারেননি।

মানুষের প্রতিক্রিয়ায় সম্মানিত ও আবেগাপ্লুত হয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের কাছে বেগম খালেদা জিয়া যে কতটা শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার নাম, তা তিনি জানেন। জীবনে একবার একটি হাসপাতালে তাঁর সঙ্গে দেখা হয়েছিল। সেদিন তাঁর বড় ফুপি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। বর্তমানে তাঁর ফুপিও আর বেঁচে নেই। আরেকবার বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি। ছোটবেলায় সেই সুযোগ না পাওয়ার কষ্টে তিনি অনেক কেঁদেছিলেন বলেও জানান।

মেঘনা আলম আরও বলেন, তাঁর ইরানি বংশোদ্ভূত দাদির মুখের গড়ন ও গায়ের রঙের সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার অদ্ভুত মিল তিনি প্রায়ই অনুভব করতেন। হয়তো সে কারণেও এই সাদৃশ্য তাঁর কাছে আরও তাৎপর্যপূর্ণ। বেগম খালেদা জিয়া, তাঁর দাদি ও ফুপির জন্য জান্নাতুল ফেরদৌস কামনা করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী ও মনোনয়ন কমিটির সঙ্গে কথা বলার জন্য যে দুই মিনিট সময় পেয়েছিলেন, সে প্রসঙ্গেও পোস্টে বিস্তারিত লিখেছেন মেঘনা আলম। তিনি জানান, ওই সময়ে দলের ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়নের বিভিন্ন পথ থাকার কথা তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি জাতীয় সংসদে এমন মানুষের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন, যাঁর গভর্ন্যান্স, আইন ও নীতিনির্ধারণ, কূটনৈতিক আলোচনা ও সমঝোতা এবং জলবায়ু ও জেন্ডার-সংবেদনশীল অ্যাডভোকেসি সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান ও দক্ষতা রয়েছে।

তাঁর মতে, সংসদ সদস্যপদ কেবল দলীয় আনুগত্যের প্রতিদান হিসেবে দেওয়ার মতো কোনো উপহার নয়। মহান জাতীয় সংসদ শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার জায়গাও নয়; বরং যুক্তি, তথ্য, নীতিবিশ্লেষণ ও জবাবদিহির মাধ্যমে জাতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।

মেঘনা আলমের ভাষ্য, সংসদে বিএনপির এমন কণ্ঠ থাকা দরকার, যারা রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও বিরোধী শক্তির চ্যালেঞ্জ যুক্তি, তথ্য, সাংবিধানিক মূল্যবোধ ও মেধার ভিত্তিতে মোকাবিলা করতে পারবে। কার্যকর ভূমিকা রাখতে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি নীতি বোঝার ক্ষমতা, কূটনৈতিক প্রজ্ঞা এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাস্তবতা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণাও জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

নিজেকে নতুন মুখ হিসেবে উল্লেখ করে মেঘনা আলম বলেন, তাঁর বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ, জ্ঞান, দক্ষতা ও কাজের ক্ষেত্রগুলো যেন শুধু নতুন পরিচয়ের কারণে বিবেচনার বাইরে না থাকে। তাঁর বিশ্বাস, সময় ও অবদান রাখার সক্ষমতা এক বিষয় নয়। তিনি অনুগ্রহ নয়, যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়নের সুযোগ চান, যাতে সংসদে দলের পাশাপাশি দেশ ও জনগণের জন্যও কার্যকর অবদান রাখতে পারেন।

নিজের রাজনৈতিক পথচলার প্রসঙ্গে মেঘনা আলম জানান, তাঁর বাবা বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী) আহ্বায়ক। এরশাদবিরোধী স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তাঁর বাবা বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সম্মুখসারিতে থেকে লড়াই করেছেন।

মেঘনা আলমের মতে, তাঁর রাজনৈতিক পথচলা কোনো আকস্মিক সিদ্ধান্ত নয়। এর পেছনে রয়েছে পারিবারিক রাজনৈতিক উত্তরাধিকার, নিজস্ব চিন্তাভাবনা, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং দেশের জন্য কাজ করার প্রত্যয়।

তিনি বলেন, ‘আজ যদি আমি জাতীয় সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্য হিসেবে কাজ করার সুযোগ পাই, তবে আমার ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গর্ব করে বলতে পারবে-“আমাদের মা বিএনপির একজন নেত্রী ছিলেন”।’

জ/উ


Advertisement
সর্বশেষ
‹ ›
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত