বাংলাদেশে ৪৭.২ শতাংশ নারীর বিয়ে ১৮ বছরের আগেই: ইউনিসেফ

জবাবদিহি ডেস্ক

জাতীয়

2026-10-21T12:55:43+06:00
2026-10-21T13:02:47+06:00
বুধবার ● ২১ অক্টোবর ২০২৬,
৫ কার্তিক ১৪৩৩
Advertisement
জাতীয়
বাংলাদেশে ৪৭.২ শতাংশ নারীর বিয়ে ১৮ বছরের আগেই: ইউনিসেফ
জবাবদিহি ডেস্ক
⏲ ১২:৫৫ পিএম | ২১ অক্টোবর, ২০২৬ | বুধবার
সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। দেশে ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের ৪৭ দশমিক ২ শতাংশের বিয়ে হয়েছে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই। তাঁদের মধ্যে ১৩ দশমিক ৪ শতাংশের বিয়ে হয়েছে ১৫ বছর বয়সের আগেই।

বাংলাদেশ মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (এমআইসিএস) ২০২৫-এর তথ্য তুলে ধরে এ চিত্র জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)। সংস্থাটি বলেছে, বাল্যবিবাহ বন্ধ করা, মেয়েদের শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি।

বাংলাদেশে তিন দিনের সফর শেষে শিশুদের কল্যাণে তিনটি জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল। তাঁর প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে বাল্যবিবাহ বন্ধ করে মেয়েদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগের সরকারি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন এবং রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা।

ইউনিসেফের মতে, বাল্যবিবাহের কারণে মেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। পাশাপাশি অল্প বয়সে গর্ভধারণের আশঙ্কা তৈরি হয়। এতে তাদের শারীরিক সুস্থতা ও ব্যক্তিগত বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগও সীমিত হয়ে পড়ে।

বাংলাদেশ সফরের সময় ঢাকার কড়াইল বস্তির পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেন ক্যাথরিন রাসেল। এ ছাড়া কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর সদস্যদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন তিনি।

বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পাওয়া ১৪ বছর বয়সী বুশরার সঙ্গে সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ক্যাথরিন রাসেল বলেন, ইউনিসেফের সহায়তায় পরিচালিত একটি শিশু সুরক্ষা কেন্দ্রের কমিউনিটি নেতারা বুশরার বাবাকে সঙ্গে নিয়ে তাকে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা করেছেন।

তিনি বলেন, মেয়েদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা এবং তাদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা গেলে তা তাদের নিজেদের, তাদের কমিউনিটি এবং বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গঠনে সহায়তা করবে।

ঢাকা সফরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ক্যাথরিন রাসেল। এ সময় শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর সরকারি অঙ্গীকারের প্রশংসা করেন তিনি। একই সঙ্গে সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ক্যাথরিন রাসেল বলেন, বাজেটের মধ্য দিয়েই অগ্রাধিকার প্রতিফলিত হয়। শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি ও সুরক্ষায় বিনিয়োগ করার অর্থ বাংলাদেশের ভবিষ্যতে বিনিয়োগ করা।

রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না করার আহ্বান জানিয়ে ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক বলেন, সহিংসতা, বাস্তুচ্যুতি ও অনিশ্চয়তার কারণে রোহিঙ্গা শিশুরা অনেক কিছু হারিয়েছে। এখন তাদের শিক্ষা থেকেও বঞ্চিত হতে দেওয়া যাবে না।

রোহিঙ্গা শিশুদের পাশাপাশি আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর শিশুদের জন্যও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

ইউনিসেফের মতে, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ অব্যাহত রাখা এবং শিশুদের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার উদ্যোগ জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর শিশুদের মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

জ/উ


Advertisement
সর্বশেষ
‹ ›
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত