টুপটুপ কর্তৃপক্ষের অবহেলায় ১০ পর্যটকের মৃত্যু: পুলিশ

জবাবদিহি ডেস্ক

দেশজুড়ে

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রেস্ট্রো অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনায় চরম অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার তথ্য পেয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় রিসোর্টের মালিক, ম্যানেজারসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ম্যানেজার সুমনের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেছে পুলিশ।

2026-10-20T08:31:00+06:00
2026-10-20T08:31:00+06:00
মঙ্গলবার ● ২০ অক্টোবর ২০২৬,
৪ কার্তিক ১৪৩৩
Advertisement
দেশজুড়ে
টুপটুপ কর্তৃপক্ষের অবহেলায় ১০ পর্যটকের মৃত্যু: পুলিশ
জবাবদিহি ডেস্ক
⏲ ৮:৩১ এএম | ২০ অক্টোবর, ২০২৬ | মঙ্গলবার
সংগৃহীত ছবি
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রেস্ট্রো অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনায় চরম অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার তথ্য পেয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় রিসোর্টের মালিক, ম্যানেজারসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ম্যানেজার সুমনের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেছে পুলিশ।

‘এ গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড ইন বাংলাদেশি হসপিটালিটি’—বাংলাদেশি আতিথেয়তায় বিশ্বমানের সেবার এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০২৪ সালের শুরু থেকে কক্সবাজারের মেরিনড্রাইভ সড়কের পাশে উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকায় ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল টুপটুপ রেস্ট্রো অ্যান্ড রিসোর্ট। কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের মাধ্যমে চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা হলেও প্রতিষ্ঠানটি কার্যত অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হচ্ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে রিসোর্টটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতদের স্বজনেরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকায় এখন পর্যন্ত কোনো আইনি পদক্ষেপ নেননি। তবে পুলিশ স্বপ্রণোদিত হয়ে সেদিনই রিসোর্টের মালিক-ম্যানেজারসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে। পরে প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে উখিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশীষ সূত্রধর বাদী হয়ে মামলাটি করেন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) এ মামলায় গ্রেপ্তার সুমনের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেন ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) রিমন ঘোষ।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে রিসোর্ট পরিচালনায় মালিক ও কর্মীদের যথেষ্ট দায়িত্বহীনতা ও অবহেলার তথ্য পাওয়া গেছে। অধিকতর তদন্তের স্বার্থে সুমনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এ কারণে আদালতের কাছে তাঁর রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।

মামলার প্রধান আসামি তানভীর সুলতান মিয়া, তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদার নিয়াজ মোরশেদসহ অন্য আসামিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে বলেও জানান ওসি।

এদিকে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সোমবার ঢাকার মালিবাগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর ফরেনসিক ল্যাবে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের হিমঘর থেকে উখিয়া থানা পুলিশের পাঠানো নমুনা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়।

ওসি আতিকুর রহমান মজুমদার জানান, নিহতদের পরিচয় শনাক্তে স্বজনদের দেওয়া নমুনার সঙ্গে মরদেহের নমুনা মিলিয়ে দেখার প্রক্রিয়াকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সিআইডি।

এদিকে নিহতদের মরদেহের জন্য অপেক্ষা করছেন স্বজনেরা। তাঁদের অভিযোগ, রিসোর্টে যথাযথ অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কর্মীদের পেশাদারত্ব নিশ্চিত করা থাকলে তাঁদের প্রিয়জনদের এমন মর্মান্তিক পরিণতি নাও হতে পারত।

অগ্নিকাণ্ডে পরিবারের ছয় সদস্যকে হারানো ঢাকার বাসিন্দা রিয়াজ মাহমুদ রিপন বলেন, ‘জানি না মরদেহগুলো কখন ফেরত পাবো, আশা করি, প্রশাসন আমাদের অপেক্ষাকে দীর্ঘতর করবে না। টুপটুপ কর্তৃপক্ষ সচেতন না থাকায় এত বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে, তাদের বিচার হওয়া উচিত।’

প্রসঙ্গত, গত শনিবার অগ্নিকাণ্ডের পর পুলিশ ও বিজিবির সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ১০টি মরদেহ কক্সবাজারে নিয়ে আসেন। বর্তমানে মরদেহগুলো জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষিত রয়েছে।

জ/শা 


  বিষয়:   দেশজুড়ে  কক্সবাজার  টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড  পর্যটকের মৃত্যু 


Advertisement
সর্বাধিক পঠিত
‹ ›
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত