শিক্ষকতার পাশাপাশি আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে চারা উৎপাদনে সফলতা পেয়েছেন নরসিংদীর পলাশ উপজেলার শিক্ষক জাকির খান। উপজেলার জিনারদী ইউনিয়নের চরনগরদী গ্রামে ১০ বিঘা জমিতে ‘স্মার্ট এগ্রো কেয়ার’ নামে কৃষি উদ্যোগ গড়ে তুলেছেন তিনি। সেখানে মাটির পরিবর্তে নারকেলের ছোবড়া থেকে তৈরি ককোপিট ব্যবহার করে উৎপাদন করছেন বিভিন্ন জাতের আগাম সবজির চারা। এসব চারা বিক্রি করে মাসে লক্ষাধিক টাকা আয় করছেন তিনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, স্মার্ট এগ্রো কেয়ারে সারি সারি ট্রেতে বেড়ে উঠছে নানা জাতের সবজির চারা। পেঁপে, করলা, ধুন্দল, বরবটি, শসা, লাউ, টমেটো, ক্যাপসিকাম, মরিচ ও ডাঁটাসহ বিভিন্ন ধরনের চারা উৎপাদন করা হচ্ছে সেখানে। প্রচলিত মাটির পরিবর্তে ককোপিট ব্যবহার করে আধুনিক পদ্ধতিতে এসব চারা উৎপাদন করছেন জাকির খান।
জাকির খান জানান, তাঁর বাবা ও দাদা কৃষিকাজ করতে গিয়ে বীজ কেনার ক্ষেত্রে বিভিন্নভাবে প্রতারণার শিকার হতেন। কখনো এক জাতের বীজ কিনে অন্য জাতের ফসল পেতেন, আবার কখনো বীজের মান ভালো না হওয়ায় আশানুরূপ ফলন হতো না। পরিবারের এসব অভিজ্ঞতা থেকেই কৃষকদের জন্য মানসম্মত বীজ থেকে উন্নত চারা উৎপাদনের চিন্তা তাঁর মাথায় আসে।
সেই চিন্তাকে বাস্তবে রূপ দিতে বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রশিক্ষণ নেন জাকির। আধুনিক পদ্ধতিতে চারা উৎপাদনের দক্ষতা অর্জনের পর নিজ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা করেন স্মার্ট এগ্রো কেয়ার।
ককোপিটে উৎপাদিত চারার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, উপযুক্ত পরিচর্যায় এসব চারা ভালো থাকে এবং জমিতে রোপণের পর স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠে। ফলে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে এ ধরনের চারা ব্যবহারের আগ্রহ বাড়ছে। এসব চারা রোপণ করে কৃষকেরা মৌসুমের শুরুতেই সবজি উৎপাদন ও বাজারজাত করার সুযোগ পাচ্ছেন। এতে তুলনামূলক বেশি মুনাফা অর্জনের সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটিতে উৎপাদিত চারার জাত ও আকারভেদে প্রতিটি ৪ থেকে ৬ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। চারা বিক্রি থেকেই প্রতি মাসে লক্ষাধিক টাকা আয় করছেন জাকির খান।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জাকির খান জানান, স্বল্পমূল্যে আধুনিক পদ্ধতিতে উৎপাদিত মানসম্মত চারা আরও বেশি কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতে চান তিনি। এর মাধ্যমে কৃষকেরা সঠিক জাতের উন্নত চারা রোপণ করে ভালো ফলন ও বেশি মুনাফা অর্জন করতে পারবেন বলে আশা তাঁর।
কৃষি উদ্যোক্তা হওয়ার পাশাপাশি জাকির খান স্থানীয় বিদ্যাসাগর মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষকতার মতো গুরুত্বপূর্ণ পেশায় নিয়োজিত থেকেও কৃষিতে তাঁর এই উদ্যোগ এলাকায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
জাকির খানের উদ্যোগে পলাশ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাও সহযোগিতা ও উৎসাহ দিয়ে আসছেন।
শিক্ষকতার পাশাপাশি আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে চারা উৎপাদনের এই উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে সাড়া ফেলেছে। জাকির খানের প্রচেষ্টা একদিকে যেমন তাঁর আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে, অন্যদিকে স্থানীয় কৃষকদের জন্য মানসম্মত চারা উৎপাদন ও আগাম সবজি চাষের নতুন সম্ভাবনাও উন্মোচন করেছে।
জ/উ