সম্পর্কে ভালোবাসা ও বন্ধুত্ব থাকলেও সব সময় টিকে থাকে না দাম্পত্য। দীর্ঘ দশ বছরের সংসারজীবন শেষে সেই বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন সাবেক ডব্লিউডব্লিউই সুপারস্টার ও জনপ্রিয় রেসলিং তারকা ইভা মারি। স্বামী জোনাথন কয়লের সঙ্গে বিচ্ছেদের বিষয়টি সম্প্রতি প্রকাশ্যে এনেছেন তিনি। জানিয়েছেন, গত বছরের আগস্টেই গোপনে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘পেজ সিক্স’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইভা মারি বিচ্ছেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিচ্ছেদের পুরো আইনি প্রক্রিয়া ছিল দীর্ঘ ও ঝামেলাপূর্ণ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রথমে বিচ্ছেদের আবেদন, এরপর সমঝোতার চেষ্টা এবং আইনজীবীদের সঙ্গে নানা বিষয়ে আলোচনা। সব মিলিয়ে বেশ সময় লেগেছে। টেক্সাসে থাকা বাড়িটি বিক্রি করাসহ আরও কিছু বিষয় নিষ্পত্তির পর তাদের বিচ্ছেদ চূড়ান্ত হয়।
বিচ্ছেদের এই জটিল প্রক্রিয়ার মধ্যে সন্তান না থাকাকে নিজের জন্য স্বস্তির বিষয় হিসেবে দেখছেন ইভা। তবে তার মতে, বিবাহবিচ্ছেদের মধ্য দিয়ে যাদের যেতে হয়, তাদের অনেক অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। এমনকি নিজের নামের পদবি পরিবর্তন করতেও তাকে বেশ ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে বলে জানান তিনি।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে জোনাথনের সঙ্গে বিচ্ছেদের আবেদন করেছিলেন ইভা। কেন তাঁদের সম্পর্ক ভেঙে গেল, সেই ব্যাখ্যাও দিয়েছেন এই তারকা। তাঁর মতে, একসময় তাঁদের দাম্পত্য এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে স্বামী-স্ত্রীর চেয়ে দুজনকে ব্যবসায়িক অংশীদার বলেই বেশি মনে হতো। সম্পর্কটি অনেকটা কাজের চুক্তির মতো হয়ে গিয়েছিল।
ইভা বলেন, জীবন একটাই। অথচ তাদের সম্পর্কের মধ্যে দাম্পত্যের স্বাভাবিক অনুভূতির চেয়ে বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক বোঝাপড়াই যেন বেশি প্রাধান্য পাচ্ছিল। জোনাথনের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব ছিল, একে অপরের সঙ্গে বনিবনাও হতো। কিন্তু কেবল ভালো বন্ধু হয়ে থাকা আর স্বামী-স্ত্রী হিসেবে জীবন কাটানো এক বিষয় নয়। এমন দাম্পত্য তিনি চাননি বলেও জানান।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে জোনাথন কয়লের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ইভা মারি। দীর্ঘদিনের সেই সম্পর্কের সমাপ্তি ঘটলেও বিচ্ছেদের বিষয়টি এত দিন ব্যক্তিগত পর্যায়েই রেখেছিলেন তারা। সম্প্রতি সাক্ষাৎকারে ইভা নিজেই বিচ্ছেদের খবর প্রকাশ্যে আনেন।
জ/বা