চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) অবরুদ্ধ উপাচার্য ভবনের ভেতরে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন দুই সাবেক শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে ইঞ্জিনিয়ার শাহরিয়ারকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম নগরের এভারকেয়ার হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত ১টার দিকে চুয়েট চিকিৎসাকেন্দ্রের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ও চিকিৎসাকেন্দ্রের টেকনোলজিস্ট বাসু দেব উপাচার্য ভবনে প্রবেশ করে অসুস্থ ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন।
এর আগে অবরুদ্ধ উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম মুঠোফোনে চিকিৎসককে ভবনে আসার অনুরোধ জানান। পরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার পর চিকিৎসক ও টেকনোলজিস্ট সেখানে প্রবেশ করেন। এ সময় কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিনিধিও উপাচার্য ভবনে প্রবেশ করেন।
স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে চিকিৎসক জানান, ইঞ্জিনিয়ার শাহরিয়ারের রক্তচাপের সিস্টোলিক মাত্রা ছিল ১৭০ এবং ডায়াস্টোলিক মাত্রা ১০০ মিলিমিটার পারদ। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে অবরুদ্ধ উপাচার্য ভবন থেকে বের করে চুয়েট চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে নগরের এভারকেয়ার হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এদিকে, আরেক সাবেক শিক্ষার্থী ইঞ্জিনিয়ার টিটু মো. সোহানের রক্তচাপ পরীক্ষা করে চিকিৎসক জানান, তাঁর সিস্টোলিক রক্তচাপ ছিল ১৪০ এবং ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ ৯০ মিলিমিটার পারদ।
এ ছাড়া চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, অবরুদ্ধ উপাচার্য ভবনে অবস্থানরত অন্যদেরও স্যালাইন দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম বলেন, ‘আমাদের দুইজন অ্যালামনাই সদস্য উচ্চ রক্তচাপের জটিলতায় ভুগছেন। তাই আমি অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসক ডেকেছি। এখানে যেহেতু সবাই দীর্ঘ সময় ধরে অবরুদ্ধ রয়েছেন, তাই সবাই অসুস্থ ও ক্লান্ত অনুভব করছেন।’
প্রসঙ্গত, সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে উপাচার্য ভবনের তালা ভেঙে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। পরে ওই দিন দুপুর ১২টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাঁকে উপাচার্য ভবন ছেড়ে যাওয়ার জন্য সময়সীমা বেঁধে দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি ভবন ত্যাগ না করায় আন্দোলনকারীরা তাঁকে সেখানে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
জ/শা