তরুণদের বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে কড়াকড়ি, বন্ধ মেট্রো স্টেশন ও ইন্টারনেট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

2026-10-10T11:55:55+06:00
2026-10-10T11:55:55+06:00
শনিবার ● ১০ অক্টোবর ২০২৬,
২৫ আশ্বিন ১৪৩৩
Advertisement
আন্তর্জাতিক
তরুণদের বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে কড়াকড়ি, বন্ধ মেট্রো স্টেশন ও ইন্টারনেট
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
⏲ ১১:৫৫ এএম | ১০ অক্টোবর, ২০২৬ | শনিবার
সংগৃহীত ছবি
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) পদত্যাগের দাবিতে তরুণদের বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকায় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেখানে হাজারো পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য টহল দিচ্ছেন। বন্ধ রাখা হয়েছে মেট্রো স্টেশন ও বাজার। পাশাপাশি স্থগিত করা হয়েছে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা।

আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) ‘ককরোচ’ যুব আন্দোলনের ডাকে এ বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছে। এতে হাজারো মানুষ অংশ নেবেন বলে আশা করছেন আয়োজকেরা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সুবিধার্থে ভোটার তালিকা সংশোধন করা হয়েছে-এমন অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছেন বিক্ষোভকারীরা।

‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ স্লোগানে আয়োজিত এই কর্মসূচিকে গত সপ্তাহে শুরু হওয়া বিক্ষোভগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় জমায়েতে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে আয়োজকদের।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে জ্ঞানেশ কুমারের অধীনস্থ কর্মকর্তারা তাঁর সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন এবং দ্বিমত প্রকাশ করেছিলেন। ওই প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

বিরোধী দলগুলো দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে, সরকার নিজেদের রাজনৈতিক সুবিধার জন্য ভোটার তালিকায় পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদন প্রকাশের পর নতুন করে এসব অভিযোগ সামনে এনেছে তারা।

এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার নিজে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

বিজেপির দাবি, নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তা ও ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নির্বাচনে দলটির আধিপত্যের অন্যতম কারণ। নির্বাচনে জয় পেতে ব্যর্থ হয়ে বিরোধীরা দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেছে দলটি।

তবে বিরোধীদের প্রায় প্রতিদিনের বিক্ষোভ মোদির জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। কয়েক মাস আগেও পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় একই ধরনের বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন দেশটির শিক্ষামন্ত্রী।

এদিকে ২০২৭ সালের শুরু থেকে উত্তর প্রদেশসহ ভারতের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। দেশটির সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য উত্তর প্রদেশ বর্তমানে বিজেপি-শাসিত।

অনলাইনে ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন হিসেবে যাত্রা শুরু করা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র নেতৃত্বে বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছেন, শনিবার সকাল ১০টায় নয়াদিল্লির কেন্দ্রস্থলে বিক্ষোভের জন্য নির্ধারিত স্থান ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে তাঁরা জড়ো হবেন।

এর আগে গতকাল শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দিল্লি পুলিশ জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন না করা এবং আগের বিক্ষোভগুলোর সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কারণে কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়নি। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব বলেও জানায় পুলিশ।

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কর্মসূচি পালন করলে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে পুলিশ।

তবে পুলিশের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে ককরোচ জনতা পার্টির নেতারা জানিয়েছেন, বিক্ষোভ করা তাঁদের মৌলিক অধিকার। তাই অনুমতি না পেলেও পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন তাঁরা।

বিক্ষোভকারীদের দিল্লিতে প্রবেশ এবং যন্তর মন্তরসংলগ্ন কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক এলাকায় জমায়েত ঠেকাতে শহরগামী দূরপাল্লার কয়েকটি ট্রেন শুক্রবার বাতিল করা হয়। একই দিন রাত থেকে বন্ধ রাখা হয় ৫৭টি মেট্রো স্টেশন।

বার্তা সংস্থা এএনআই সরকারি আদেশের বরাতে জানিয়েছে, বিক্ষোভস্থলের চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় শুক্রবার রাত থেকে শনিবার রাত পর্যন্ত মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জ/উ


Advertisement
সর্বশেষ
‹ ›
সর্বাধিক পঠিত
‹ ›
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত