কুমিল্লায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যা, চট্টগ্রাম থেকে চালক গ্রেপ্তার

জবাবদিহি ডেস্ক

দেশজুড়ে

2026-10-10T12:11:58+06:00
2026-10-10T12:11:58+06:00
শনিবার ● ১০ অক্টোবর ২০২৬,
২৫ আশ্বিন ১৪৩৩
Advertisement
দেশজুড়ে
সংবাদ সম্মেলন
কুমিল্লায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যা, চট্টগ্রাম থেকে চালক গ্রেপ্তার
জবাবদিহি ডেস্ক
⏲ ১২:১১ পিএম | ১০ অক্টোবর, ২০২৬ | শনিবার
সংগৃহীত ছবি
কুমিল্লার লালমাইয়ে স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনকে ধর্ষণের পর হত্যা করার কথা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া। এ ঘটনায় তাঁকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত জান্নাতুলের বয়স ১৫ বছর। তিনি কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ এ তথ্য জানায়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৮ অক্টোবর সকালে লালমাই উপজেলার ভোরালজগপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইলের পাশে এক কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকার খবর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ জানানো হয়। খবর পেয়ে লালমাই থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ শনাক্তকরণসহ আইনগত কার্যক্রম শুরু করে। পরে নিহতের বাবা মরদেহটি শনাক্ত করেন। তাঁর নাম জান্নাতুল তাজমিন (১৫)। তাঁর স্থায়ী বাড়ি যশোর জেলায়।

পুলিশ জানায়, বাবার চাকরির সুবাদে জান্নাতুল পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লার রেসকোর্স এলাকায় বসবাস করতেন। এ ঘটনায় লালমাই থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়। মামলা হওয়ার পর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও থানা পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া (৩৫)-কে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে সুমন জানান, গত ৮ অক্টোবর জান্নাতুল পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার তিশা বাস কাউন্টারের সামনে থেকে রেসকোর্সের বাসায় যাওয়ার জন্য একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করতে যান। এ সময় চালক সুমন মিয়ার সঙ্গে ৩০০ টাকা ভাড়ায় চুক্তি হয়।

পুলিশ জানায়, সুমন তাঁকে শর্টকাট পথে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে নুরজাহান হোটেলের সামনে থেকে ইউটার্ন নিয়ে চাঁদপুরগামী সড়ক ধরে বিজরা বাজার হয়ে অন্যদিকে নিয়ে যান।

একপর্যায়ে নির্জন ও অন্ধকার স্থানে পৌঁছে সুমন অটোরিকশাটি বন্ধ করে দেন। জায়গাটি চিনতে না পেরে জান্নাতুল তাঁকে কোথায় নিয়ে আসা হয়েছে জানতে চান। তখন সুমন জানান, সেটি রেসকোর্স নয়, অন্য জায়গা। এতে ভয় পেয়ে জান্নাতুল অটোরিকশা থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় সুমন তাঁকে আটকে অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার চেষ্টা করলে জান্নাতুল চিৎকার শুরু করেন। তখন সুমন তাঁর গলায় গামছা পেঁচিয়ে ধরেন। দুজনের ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে জান্নাতুল দুর্বল হয়ে পড়েন।

জিজ্ঞাসাবাদে সুমন জান্নাতুলকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এরপর তিনি কিশোরীকে ধানক্ষেতে নিয়ে মাটিতে উপুড় করে শুইয়ে মাথা পা দিয়ে চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করেন বলে পুলিশের কাছে দেওয়া তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে। পরে জান্নাতুলের ব্যবহৃত হ্যান্ডব্যাগ থেকে একটি আইফোন নিয়ে ব্যাগটি ধানক্ষেতে ফেলে দেন সুমন।

পুলিশ আরও জানায়, ঘটনার পর সুমন ঘটনাস্থলে নিজের অটোরিকশাটি রেখে কাছাকাছি একটি মসজিদের সামনে যান। সেখানে একটি পুকুরে গোসল করার পর ভাড়ায় চালিত অন্য একটি সিএনজিতে করে ঝালমুড়ি বাজারে যান। ওই এলাকার একটি পুকুরের পাশের জঙ্গলে জান্নাতুলের কাছ থেকে নেওয়া আইফোনটি লুকিয়ে রেখে তিনি চট্টগ্রামে চলে যান।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পরদিন ৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে চট্টগ্রাম থেকে সুমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্য ও দেখানো স্থান অনুযায়ী ঝালমুড়ি এলাকার একটি পুকুরের পাশের জঙ্গল থেকে নিহত জান্নাতুলের ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জ/উ


Advertisement
সর্বশেষ
‹ ›
সর্বাধিক পঠিত
‹ ›
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত