বিশ্বের সবচেয়ে সংযুক্ত বিমানবন্দরের শীর্ষস্থান হারিয়েছে লন্ডনের হিথ্রো। আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ওএজির ২০২৬ সালের ‘মেগাহাবস’ সূচকে প্রথমবারের মতো শীর্ষে উঠে এসেছে তুরস্কের ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর।
ওএজির সূচক অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর এবার প্রথম স্থান অর্জন করেছে। বিমানবন্দরটি থেকে বিশ্বের ৩৩৭টি গন্তব্যে ফ্লাইট সংযোগ রয়েছে। এর প্রায় ৮০ শতাংশ ফ্লাইট পরিচালনা করে তুর্কিশ এয়ারলাইনস।
বিশ্বের ১০০টি বৃহত্তম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্ধারিত ফ্লাইটের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ তালিকা তৈরি করা হয়েছে। বিমানবন্দরে আগমন ও সেখান থেকে ছেড়ে যাওয়া ফ্লাইটের সংযোগের সম্ভাবনা এবং কতটি গন্তব্যে সরাসরি সেবা রয়েছে, তা বিবেচনায় নেওয়া হয়। পাশাপাশি ব্যস্ততম দিনে ছয় ঘণ্টার মধ্যে সম্ভাব্য সংযোগের বিষয়টিও মূল্যায়ন করা হয়েছে।
ইউরোপ ও এশিয়ার সংযোগস্থলে ইস্তাম্বুলের ভৌগোলিক অবস্থান, তুর্কিশ এয়ারলাইনসের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক এবং বিমানবন্দরের বড় অবকাঠামো শীর্ষে ওঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ওএজির প্রধান বিশ্লেষক জন গ্রান্টও এ অগ্রগতিতে এসব বিষয়কে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন।
অন্যদিকে, গত কয়েক বছর ধরে শীর্ষে থাকা লন্ডনের হিথ্রো এবার দ্বিতীয় স্থানে নেমে গেছে। বিমানবন্দরটির সম্ভাব্য সংযোগ গত বছরের তুলনায় ৬ শতাংশ কমেছে। মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার কারণে ওই অঞ্চলের সঙ্গে ফ্লাইট চলাচল কমে যাওয়াও এর অন্যতম কারণ। আগস্টে মধ্যপ্রাচ্যগামী ও সেখান থেকে আসা ফ্লাইটের আসন সক্ষমতা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ কম ছিল।
তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডাম শিফল বিমানবন্দর, চতুর্থ মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং পঞ্চম যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো ও’হেয়ার বিমানবন্দর। কুয়ালালামপুর এশিয়ার সবচেয়ে সংযুক্ত বিমানবন্দর হওয়ার পাশাপাশি কম খরচের উড়োজাহাজ সংযোগের তালিকায়ও শীর্ষে রয়েছে। সেখানে প্রায় ১৫ হাজার সম্ভাব্য সংযোগ রয়েছে।
এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের আটটি বিমানবন্দর বিশ্বের শীর্ষ ২০-এ জায়গা পেয়েছে। চীনের সাংহাই পুডং বিমানবন্দর ১৯তম থেকে ১৪তম, গুয়াংজুর বাইয়ুন বিমানবন্দর ৩৬তম থেকে ১৯তম এবং হংকং বিমানবন্দর ২২তম থেকে ২০তম অবস্থানে উঠে এসেছে।
জ/উ