রূপপুরের প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর অনুমতি

জবাবদিহি ডেস্ক

জাতীয়

দীর্ঘ অপেক্ষার পর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) এই ইউনিটের চুল্লিতে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়রা)। বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আগে এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, যা ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’ নামে পরিচিত।

2026-10-09T07:01:45+06:00
2026-10-09T07:01:45+06:00
শনিবার ● ১০ অক্টোবর ২০২৬,
২৫ আশ্বিন ১৪৩৩
Advertisement
জাতীয়
রূপপুরের প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর অনুমতি
জবাবদিহি ডেস্ক
⏲ ৭:০১ এএম | ৯ অক্টোবর, ২০২৬ | শুক্রবার
সংগৃহীত ছবি
দীর্ঘ অপেক্ষার পর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) এই ইউনিটের চুল্লিতে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়রা)। বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আগে এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, যা ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’ নামে পরিচিত।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বায়রার চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান। তিনি জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে আরও দুটি অনুমোদন নিতে হবে।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ইউনিটের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভালভে জটিলতা দেখা দেওয়ায় এতদিন অনুমোদন আটকে ছিল। স্বয়ংক্রিয়ভাবে চাপ কমানোর ওই ভালভের ত্রুটি সমাধানে রাশিয়া থেকে বিশেষজ্ঞ দল আনা হয়। তাদের কাজের পর একাধিক পরীক্ষায় ব্যবস্থাটি সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অনুমোদনের পর প্রথমে চুল্লিতে অতি কম শক্তিতে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু করা হবে। এই প্রক্রিয়াই ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’। এ পর্যায়ে চুল্লির বিভিন্ন ব্যবস্থা, নিরাপত্তা সরঞ্জাম এবং নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা সঠিকভাবে কাজ করছে কি না, তা পরীক্ষা করা হবে।

পরীক্ষা ও প্রস্তুতির পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ দিন লাগতে পারে। এ সময়ে সবকিছু সন্তোষজনক থাকলে ধাপে ধাপে চুল্লির শক্তি বাড়ানো হবে। এরপর শুরু হবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি।

পরবর্তী পর্যায়ে চুল্লির ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি টারবাইন চালু করা হবে। এরপর জেনারেটরকে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত করে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। এ কার্যক্রমের জন্য বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনাকারী সংস্থাকে বায়রার কাছ থেকে আরও একটি পরিচালন অনুমোদন নিতে হবে।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, শুরুতে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি মাত্র ৩ শতাংশ ক্ষমতায় পরিচালনা করা হবে। পরে ধাপে ধাপে উৎপাদনক্ষমতা ২০ থেকে ৩০ শতাংশে উন্নীত করা হবে। সব পরীক্ষা সন্তোষজনকভাবে সম্পন্ন হলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে। ডিসেম্বরের শেষ দিকে পরীক্ষামূলকভাবে গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে।

গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হওয়ার পরও কেন্দ্রটি প্রায় ৭ থেকে ৮ মাস পরীক্ষামূলকভাবে চালানো হতে পারে। এ সময়ের সব পরীক্ষা সম্পন্ন হলে প্রথম ইউনিট পূর্ণমাত্রায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলে বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে তালিকাভুক্ত হবে। এর মাধ্যমে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন একটি উৎস যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারে বাংলাদেশের সক্ষমতারও নতুন অধ্যায় সূচিত হবে।

জ/শা


  বিষয়:   রূপপুর  পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র  বিদ্যুৎ উৎপাদন 


Advertisement
সর্বশেষ
‹ ›
সর্বাধিক পঠিত
‹ ›
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত