গোপালগঞ্জে মহাসড়কের পাশে অবৈধ বালুর চাতাল, দুর্ভোগে আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দারা

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

দেশজুড়ে

2026-10-08T16:38:11+06:00
2026-10-08T16:38:11+06:00
বৃহস্পতিবার ● ৮ অক্টোবর ২০২৬,
২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
Advertisement
দেশজুড়ে
গোপালগঞ্জে মহাসড়কের পাশে অবৈধ বালুর চাতাল, দুর্ভোগে আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দারা
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
⏲ ৪:৩৮ পিএম | ৮ অক্টোবর, ২০২৬ | বৃহস্পতিবার
ছবি- গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জ-টেকেরহাট আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ বালুর চাতাল। সরকারি বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে মহাসড়কের ওপর এবং পেছনে আশ্রয়ন প্রকল্পের জায়গায় বালু রেখে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। এতে আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অনেকে ঘর ছেড়ে চলে গেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মুকসুদপুর উপজেলার গোহালা ইউনিয়নের এমবিআর চ্যানেলের পাশে এসব বালুর চাতাল গড়ে উঠেছে। পার্শ্ববর্তী এমবিআর চ্যানেল থেকে বাল্কহেডে করে বালু এনে চাতালে আনলোড করা হয়। এ সময় আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘরবাড়ির ভেতর দিয়ে ট্রাক, নসিমনসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে। পাশাপাশি বাতাসে চাতালের বালু উড়ে আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দাদের ঘরবাড়িতে গিয়ে পড়ায় তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বালুর চাতালের কারণে পরিবেশ দূষণ ও যানবাহনের উৎপাতের পাশাপাশি বালু ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের হয়রানিতেও তারা অতিষ্ঠ। এরই মধ্যে আশ্রয়ন প্রকল্পের কয়েকজন বাসিন্দা ঘর ছেড়ে চলে গেছেন। অনেককে জোরপূর্বক তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এমবিআর চ্যানেলপাড়ের আশ্রয়ন প্রকল্পের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, ‘সরকার আমাদের এখানে এনে জমি ও বাড়ি দিয়েছে। কিন্তু অবৈধ বালু চাতাল ব্যবসায়ীদের কারণে স্ত্রী, কন্যা ও পরিবার নিয়ে বসবাস করা দুরূহ হয়ে পড়েছে। তারা আমাদের স্বাভাবিক জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। একদিকে বালুর যন্ত্রণা, অন্যদিকে বালু ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের উৎপাত ও হয়রানি সীমা ছাড়িয়ে গেছে।’

এলাকাবাসী সূত্রে আরও জানা গেছে, বালু ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের বিরুদ্ধে আশ্রয়ন প্রকল্পের নারীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে। তবে প্রভাবশালী বালু ব্যবসায়ীদের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করার সাহস পান না স্থানীয়রা। এসব ব্যবসায়ীর পেছনে কারা রয়েছেন এবং তারা কীভাবে প্রভাব বিস্তার করছেন, তা নিয়েও এলাকায় প্রশ্ন উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট এলাকায় রবিউল শেখ ‘তাজকিয়া ট্রেডার্স’ নামে একটি সাইনবোর্ড টানিয়ে একাধিক বালুর চাতাল গড়ে তুলেছেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপনারা এখান থেকে চলে যান। আমাদের কাছে কাগজপত্র আছে। তবে তা আপনাদের দেখার কোনো এখতিয়ার নেই। আমরা সবকিছু মেইনটেইন করেই ব্যবসা পরিচালনা করি।’

স্থানীয় একটি সূত্রের দাবি, গোহালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মাতুব্বর প্রত্যেক বালু ব্যবসায়ীর কাছ থেকে এক লাখ টাকা করে নিয়ে প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের ব্যবহার করে এলাকায় বালু ব্যবসা পরিচালনার জন্য উপজেলা প্রশাসন থেকে একধরনের কাগজপত্রের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। সূত্রটির আরও দাবি, সংশ্লিষ্ট এলাকায় বালুর চাতাল গড়ে ব্যবসা পরিচালনার অনুমতি দেওয়ার এখতিয়ার উপজেলা প্রশাসনের নেই। মহাসড়ক ও আশ্রয়ন প্রকল্পের জায়গা নির্দিষ্ট থাকায় বালু ব্যবসার জন্য সরকারি কোনো বিভাগের জায়গা লিজ দেওয়ারও সুযোগ নেই।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মুকসুদপুর উপজেলার গোহালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মাতুব্বর বলেন, ‘এসব বালু ব্যবসায়ীদের দাপট চরমে উঠেছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে অবৈধভাবে মহাসড়কের ওপর বালু, ইট, খোয়া ইত্যাদি রেখে ব্যবসা পরিচালনা করছে। সড়ক বিভাগ বা উপজেলা প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করে না। আমি কোনো বালু ব্যবসায়ীর কাছ থেকে কোনো টাকা নিইনি কাগজ করে দেওয়ার কথা বলে।’

মুকসুদপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবিরুল ইসলাম বলেন, এসব বালু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে সরকারি বিধিমালা ভঙ্গ, মহাসড়কে বালু রেখে ব্যবসা পরিচালনা এবং আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দাদের হয়রানি, নির্যাতন বা তাদের স্বাভাবিক বসবাস ব্যাহত করার বিষয়ে একাধিকবার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে প্রশ্রয় পেয়ে তারা এ যাবৎ এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে বলেও জানান তিনি।

আবিরুল ইসলাম বলেন, ‘এতে প্রভাবশালীদের মদদ রয়েছে। আমার একার পক্ষে এসব বন্ধ করা সম্ভব নয়। অবৈধ বালু ব্যবসা বন্ধ করতে হলে উপর মহলের সহায়তা আমার প্রয়োজন।’

এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, ‘আমি এখানে নতুন এসেছি। এসব বিষয় আমার জানা ছিল না। তবে এটা ঠিক যে মহাসড়ক থেকে কমপক্ষে ৩০ ফুট দূরে যেকোনো ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে। তা না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। আমি শিগগিরই বিষয়টি খতিয়ে দেখে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’

জ/উ



Advertisement
সর্বশেষ
‹ ›
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত