ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৪২ কিশোরকে আটক করেছে সদর মডেল থানা পুলিশ। পরে তাদের বয়স ও সামাজিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে মুচলেকা গ্রহণ করে পরিবারের জিম্মায় দেয়া হয়েছে।
গতকাল সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। রাত ১২টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খাইরুল আলম।
পুলিশ জানায়, গতকাল সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপার মো. জালাল উদ্দিন ফাহিমের নির্দেশনায় শহরের পুনিয়াউট, দাতিয়ারা, রেলস্টেশন, অবকাশ পার্ক, কান্দিপাড়া, টেংকেরপাড় ও মেড্ডাসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা প্রতিরোধ, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া ঠেকানো, জননিরাপত্তা নিশ্চিত ও সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে আটক ৪২ কিশোরের বিরুদ্ধে কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য ও অভিযোগ রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে তারা অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় এবং অভিভাবকদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের অপরাধে জড়িত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে অভিভাবকদের সতর্ক করা হয়েছে।
পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যার পর শহরের শিমরাইলকান্দি, পুনিয়াউট, দাতিয়ারা, মৌড়াইল রেলস্টেশন এলাকা, অবকাশ পার্ক, কান্দিপাড়া, মুক্তমঞ্চ এলাকা, মধ্যপাড়া-শান্তিবাগ, ফুলবাড়িয়া, বাগানবাড়ী, বডিংমাঠ, মুন্সেফপাড়া, বিরাসার বাসস্ট্যান্ড, টেংকেরপাড়, কুমারশীল মোড় ও মেড্ডা বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় কিশোরদের আড্ডা দেওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। এসব স্থানে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছে পুলিশ।
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খাইরুল আলম বলেন, সারা দেশের মতো ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরেও কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানে ৪২ কিশোরকে আটক করা হয়েছে। তারা অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় এবং অভিভাবকদের অনুরোধে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সন্ধ্যা ৬টার পর কিশোরদের পড়াশোনা ও প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া অকারণে বাইরে আড্ডা দেওয়া বা কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে অভিভাবকদের সতর্ক করা হয়েছে। কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা ও অপরাধপ্রবণতা প্রতিরোধে প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় অভিযান অব্যাহত থাকবে।
জ/রা