নাটোরের গুরুদাসপুরে ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হান্নানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ স্বাক্ষরিত আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
আদেশে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ওসি আবদুল হান্নানকে জনস্বার্থে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। আদেশ জারির দিনই তাঁকে গুরুদাসপুর থানা থেকে অবমুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে গুরুদাসপুর পৌর শহরের চাঁচকৈড় বাজারপাড়া এলাকায় হেলমেট পরা সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম (৩২)। হামলাকারীরা তাঁকে কুপিয়ে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত শাকিলকে ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ১৯ অক্টোবর অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করা হয়। তবে সোমবার পর্যন্ত মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
গত মঙ্গলবার বিকেলে নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের বড় ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে শাকিল হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হয় বলে স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদলের একাধিক সূত্র জানিয়েছে। আদালত তাঁর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই দিন কেন্দ্রীয় যুবদল মিন্টুকে সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদকের পদ থেকে বহিষ্কার করে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, মিন্টুর সঙ্গে প্রবাসী রাসেলের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। শাকিল হত্যাকাণ্ডে তাঁদের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে-এমন সন্দেহ থেকে জানাজায় অংশ নেওয়া কিছু ব্যক্তি দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাট করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায়ও থানায় কোনো মামলা হয়নি বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
গত মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে ঢাকার পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শাকিলের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে রাতে তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়।
নিহত শাকিলের বাবা রবিউল মিস্ত্রি পুলিশের তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ করেছেন। তাঁর দাবি, হামলার পর ১৯ অক্টোবর গুরুদাসপুর থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন তিনি। এজাহারে প্রবাসী রাসেলের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হলেও পরে সংসদ সদস্যের নির্দেশে তা বাদ দেওয়া হয়। তাঁর অভিযোগ, মিন্টুকে গ্রেপ্তার করা ছাড়া অন্য কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
শাকিলের বাবা আরও জানান, তাঁর ছেলে হুমকি পাওয়ার পর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। গত ২০ এপ্রিল নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টেও নিরাপত্তাহীনতার কথা তুলে ধরেন শাকিল। পোস্টে তিনি দাবি করেন, তাঁকে হত্যার জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে তিনি ওসির সঙ্গে কথা বলে থানায় জিডি করেছেন। তাঁর কিছু হলে ওই জিডির ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধও জানান তিনি।
শাকিলের ফেসবুক পোস্ট সম্পর্কে নাটোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক নজরুল ইসলাম কোনো মন্তব্য করেননি। তবে তিনি বলেন, সব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই শাকিল হত্যা মামলার তদন্ত চলছে।
ছেলেকে রক্ষা করতে পুলিশ ব্যর্থ হয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডের পরও অপরাধীদের গ্রেপ্তারে নিষ্ক্রিয়তা ছিল-এমন অভিযোগ তুলে দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন শাকিলের বাবা।
নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখারের আলম বলেন, ওসি আবদুল হান্নানকে জনস্বার্থে গুরুদাসপুর থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
জ/উ