ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকায় আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পর নিরাপত্তাবিধি না মানার অভিযোগে বন্ধ হয়ে গেছে সেখানকার বহু হোটেল। এতে কলকাতায় পর্যটকদের আবাসন নিয়ে তৈরি হয়েছে সংকট। তবে এই সংকটের মধ্যেও বাংলাদেশে ভারতীয় ভিসার জন্য আবেদনকারীদের ভিড় কমেনি। রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে (আইভ্যাক) প্রতিদিনই দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার যমুনা ফিউচার পার্কের আইভ্যাকে গিয়ে দেখা যায়, ভিসাপ্রত্যাশীদের দীর্ঘ লাইন কেন্দ্রের সামনে থেকে ফিউচার পার্কের গেট পর্যন্ত গিয়ে আবার ইউটার্ন নিয়ে কেন্দ্রের দিকে এসেছে।
ভিসাপ্রত্যাশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের কেউ কলকাতা যেতে চান আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করতে। আবার কেউ যেতে চান ভারতে ঘুরতে। আবার কেউ যাচ্ছেন চিকিৎসা করাতে।
প্রতি বছর চিকিৎসা, ভ্রমণসহ নানা কারণে বাংলাদেশ থেকে ভারতে যান লাখ লাখ মানুষ। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ভিসা দেয়া বন্ধ হলে ভারতে যাওয়া অনেকটাই কমে। তবে সম্প্রতি বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটন ভিসা আবার চালু করে দিল্লি। এরপর থেকে আইভ্যাকে দীর্ঘ লাইন নিয়মিত দৃশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সম্প্রতি অগ্নিকাণ্ডের কারণে কলকাতায় হোটেল বন্ধ হলে বাংলাদেশিরা সেখানে ভোগান্তিতে পড়েছেন বলে খবর প্রকাশ হয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, নিউ মার্কেট ও ফ্রি স্কুল স্ট্রিট এলাকায় একের পর এক হোটেল ও গেস্টহাউজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ওই এলাকার হাসপাতালের আশপাশে থাকার জায়গা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে লাগেজ নিয়ে রাস্তার পাশে, ফুটপাতে কিংবা খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে হচ্ছে অনেককে। একই সমস্যায় পড়েছেন পশ্চিমবঙ্গের দূরবর্তী জেলা থেকে চিকিৎসার জন্য আসা দরিদ্র রোগী ও তাদের স্বজনেরাও।
মূলত বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় যারা চিকিৎসার জন্য যান তারা থাকার জন্য বেছে নেন নিউমার্কেট এলাকার তুলনামূলক সাশ্রয়ী আবাসিক হোটেলগুলোকে। এখন নানা অসঙ্গতির কারণে হোটেলগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেকায়দায় পড়তে হচ্ছে বাংলাদেশিদের।
তবে কলকাতায় থাকা নিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হলেও এর প্রভাব পড়েনি ঢাকার ভারতীয় ভিসা সেন্টারে।
দার্জিলিং যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন আশিক আওলাদ। তিনি বলেছেন, ‘কয়েক মাস আগে থেকেই ভেবে রেখেছি দার্জিলিং গিয়ে টাইগার হিল দেখব। তখন থেকেই টাকা জমানো ও মানসিক প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। সম্প্রতি হোটেল সংকটের কথা শুনেছি। আমি মল রোডের পাশে থাকার কথা ভাবছি। সেখানে বেশ কয়েকটি হোটেল আছে।’
কলকাতায় স্ত্রীকে নিয়ে যাওয়ার জন্য ভিসার আবেদন করছেন মানিক দাস। প্রায় ৩০ মিনিট ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা এই আবেদনকারী বললেন, ‘মূল উদ্দেশ্য আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করা। তিন বছর হয়ে গেছে কাকা-কাকিদের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া হয়নি। তাদের সঙ্গে দেখা করা ও ঘোরাঘুরির জন্য এবার যাচ্ছি।’
কলকাতায় হোটেল সংকটের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বললেন, ‘আত্মীয়দের বাড়ি আছে। তাই সেখানেই থাকব। থাকার কোনো সমস্যা হবে না।’
গাজীপুর থেকে আসা ভিসাপ্রত্যাশী মো. ইকবাল বলেছেন, ‘প্রায় ৪০ মিনিট ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। এর মধ্যে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির কারণে ভিজেও গেছি। আমার পেছনে থাকা দুজন দালালের সঙ্গে কথা বলে লাইন থেকে চলে গেছেন। আমাকেও দালালের মাধ্যমে আবেদন করার কথা বলেছিল, কিন্তু রাজি হইনি।’
বাড়তি ভিড়ের বিষয়ে আইভ্যাক কেন্দ্রে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক গার্ডের ভাষ্য, ‘ভিড় তো সারা মাস ধরেই আছে। প্রতিদিনই বড় বড় লাইন হচ্ছে। লাইনে মাঝে মাঝে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। তখন আমাদের গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়।’
গত ১৯ আগস্ট কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলে আগুনের ঘটনা ঘটে। এরপর কলকাতা করপোরেশন, কলকাতা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস হোটেলগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কঠোর অবস্থান নেয়। নিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে না মানার অভিযোগে বন্ধ করে দেয়া হয় কয়েকশ হোটেল। এতে নিউ মার্কেট ও আশপাশের এলাকায় পর্যটকদের থাকার জায়গা নিয়ে সংকট তৈরি হয়েছে।
এদিকে প্রায় দুই বছর পর গত ২৯ জুন বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা ফের চালু করা হয়। ওই দিন থেকেই দেশের প্রধান পাঁচটি ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে পর্যটন ভিসার আবেদন নেয়া শুরু হয়।
জ/রা