‘মন্ত্রী না হলে’ সাক্ষাৎ নয়, দিল্লিকে কী বার্তা দিলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

2026-05-11T11:20:50+06:00
2026-05-11T13:37:37+06:00
শুক্রবার ● ৩০ অক্টোবর ২০২৬,
১৪ কার্তিক ১৪৩৩
Advertisement
আন্তর্জাতিক
‘মন্ত্রী না হলে’ সাক্ষাৎ নয়, দিল্লিকে কী বার্তা দিলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
⏲ ১১:২০ এএম | ১১ মে, ২০২৬ | সোমবার
‘মন্ত্রী না হলে’ সাক্ষাৎ নয়, দিল্লিকে কী বার্তা দিলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী?
হঠাৎ স্থগিত হয়েছে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রির নির্ধারিত কাঠমান্ডু সফর। নেপাল সরকারের এক শীর্ষ কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। আজ ১১ মে দুই দিনের সফরে তার নেপাল পৌঁছানোর কথা ছিল। এই সফর নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রস্তুতি থাকলেও শেষ মুহূর্তে দিল্লির পক্ষ থেকে সফর স্থগিতের কথা জানানো হয়।

যদিও ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অন্যান্য ব্যস্ততা’কে কারণ হিসেবে দেখিয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নেপালের নতুন সরকারের সঙ্গে দিল্লির সাম্প্রতিক টানাপোড়েনই এর মূল কারণ।

কাঠমান্ডুর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এই সফর স্থগিতের পেছনে দুটি প্রধান কারণ দেখছেন। প্রথমত, নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ ভারতের পররাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে দেখা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। শাহর নীতি হলো-পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদমর্যাদার নিচে কোনো বিদেশি কর্মকর্তার সঙ্গে তিনি সাক্ষাৎ করবেন না। এর আগে, তিনি মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী সমীর পল কাপুর এবং যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গরের সঙ্গেও দেখা করতে রাজি হননি।

দ্বিতীয়ত, লিপুলেখ সীমান্ত নিয়ে ভারত ও চীনের সাম্প্রতিক এক সিদ্ধান্ত নেপালকে ক্ষুব্ধ করেছে। তিব্বতের মানসসরোবর যাত্রার জন্য বিবাদপূর্ণ লিপুলেখ গিরিপথ ব্যবহারের বিষয়ে দিল্লি ও বেইজিং যে সমঝোতা করেছে, তার কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে কাঠমান্ডু।


গত এপ্রিলে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির নিরঙ্কুশ জয়ের পর বালেন্দ্র শাহর নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হলে ভারতের মধ্যে এক ধরনের উৎসাহ দেখা গিয়েছিল। তবে লিপুলেখ, কালাপানি ও লিম্পিয়াধুরা অঞ্চল নিয়ে নেপাল সরকারের অনড় অবস্থান সেই উৎসাহে জল ঢেলে দিয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ভারত নেপালের সঙ্গে যে কোনো অমীমাংসিত ইস্যু নিয়ে আলোচনায় রাজি। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, লিপুলেখ নিয়ে নেপালের একতরফা দাবি ভারত মানবে না। 

সাবেক নেপালি রাষ্ট্রদূত বিজয় কান্ত কর্ণ এই সফর স্থগিত হওয়াকে নেপালের জন্য একটি ‘ক্ষতি’ হিসেবে দেখছেন। তবে তার মতে, এর ফলে এখনই দুই দেশের মধ্যে বড় কোনো কূটনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হবে না। সফরের একটি বড় উদ্দেশ্য ছিল প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহকে ভারত সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পৌঁছে দেওয়া।

ভারতের পররাষ্ট্রসচিবের সফর স্থগিত হলেও আগামী ১ জুন নেপালি পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানালের দিল্লি সফরের সূচি এখনো বহাল রয়েছে। সেখানে তিনি ‘ইন্টারন্যাশনাল বিগ ক্যাট অ্যালায়েন্স’ সম্মেলনে যোগ দেবেন। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা সত্ত্বেও নেপালে পেট্রোলিয়াম পণ্য ও রাসায়নিক সার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার আশ্বাস দিয়েছে ভারত।

জ/উ


Advertisement
সর্বাধিক পঠিত
‹ ›
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত