নতুন বাংলাদেশ গঠনে সব রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তিনি বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সিপাহী-জনতার ঐতিহাসিক প্রতিরোধের চেতনা ধারণ করতে হবে। আজ শনিবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ঝিনাইদহে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বর্ণাঢ্য র্যালি ও মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ খান বলেন, দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস যথাযথভাবে পালন করা সম্ভব হয়নি। বিএনপি সরকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এবার প্রথমবারের মতো সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশে দিবসটি পালিত হচ্ছে।
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ভারত সহযোগিতা করলেও স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের ওপর বিভিন্নভাবে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করা হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ তা মেনে নেয়নি। ৭ নভেম্বর ছিল ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সিপাহী ও সাধারণ জনতার ঐতিহাসিক প্রতিরোধ।
১৯৬৯, ১৯৯০ ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে রাশেদ খান বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান আগের সব আন্দোলনকে ছাড়িয়ে গেলেও বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রকৃত বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর। ওই বিপ্লবের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তৎকালীন সিপাহী ও জনতা।
১৫ আগস্ট ও ৩ নভেম্বরের সেনা অভ্যুত্থান এবং পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দী করার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতদিন জাতিকে ভুল ইতিহাস ও ভুল বয়ান শোনানো হয়েছে। এখন সময় এসেছে প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরার।
তিনি আরও বলেন, অতীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে দেশের বড় পরিবর্তন সূচিত হয়েছিল। একইভাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশ গঠনে সব রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে সহযোগিতা করতে হবে।
এর আগে দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহরে বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। এতে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান, জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন ও জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ মসজিদ নেতৃত্ব দেন। র্যালি শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। দুপুরে জেলা বিএনপির উদ্যোগেও পৃথক আনন্দ র্যালি বের করা হয়।
জ/বা