গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাইককান্দি ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হাফিজ শেখের বিরুদ্ধে সরকারি জায়গা দখল করে ইটভাটা পরিচালনা, পরিবেশদূষণ, সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে উপজেলার ঘোড়াদাইড় গ্রামে মধুমতি নদীর পাড়ে হাফিজ শেখের মালিকানাধীন শেখ ইটভাটায় গিয়ে দেখা যায়, নদীর পাড়জুড়ে বিস্তৃত এলাকায় ইট তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন শ্রমিকেরা। প্রতিবছরের মতো এবারও ইট উৎপাদনের প্রস্তুতি চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক একর সরকারি জমি দখল করে ইটভাটার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, মধুমতি নদীর পাড়ে ইটভাটা গড়ে ওঠায় ওই এলাকায় কৃষিজমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে। ইটভাটার আশপাশে আরও কয়েকটি ভাটা তৈরি হওয়ায় পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। তাঁদের অভিযোগ, এসব ভাটার কারণে ফলদ গাছে আগের মতো ফল ধরছে না। পাশাপাশি ইটভাটার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের জন্য বনজ গাছও উজাড় হচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, অনিয়ন্ত্রিতভাবে ইটবাহী ট্রলি, ট্রাক, নসিমন ও ভটভটি চলাচলের কারণে সরকারি রাস্তাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মধুমতি নদীর পাড়সহ ঘোড়াদাইড়, পুখুরিয়া, চরপুখুরিয়া, পাটকেলবাড়ী, তালা, চরতালা, গোপালপুর, চরগোপালপুর ও কেকানিয়াসহ বিভিন্ন গ্রামের কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি বা টপসয়েল ইট তৈরির কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শেখ ইটভাটার মালিক হাফিজ শেখ পাইককান্দি ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী এবং আওয়ামী লীগের একজন নেতা। এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, প্রভাবের কারণে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে অনেকে সাহস পান না।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে কয়েকবার শেখ ইটভাটায় গেলেও হাফিজ শেখকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কথা বলতে আগ্রহ প্রকাশ করেননি।
এ বিষয়ে ইটভাটার ম্যানেজার নান্নু খান (৪৫) ভাটাসংক্রান্ত কাগজপত্র দেখাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আপনারা যা দেখেছেন, তাই লিখে দেন। তাতে কিছু আসে যায় না।’ তাঁর দাবি, হাফিজ শেখ ও তাঁর ভাইয়েরা বছরের পর বছর ধরে একাধিক ইটভাটা পরিচালনা করে আসছেন, কিন্তু তাঁদের বিরুদ্ধে কেউ কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে পাইককান্দি ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা বিপুল বাগচীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁর কাছ থেকে এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সরকারি জমি দখল, কৃষিজমির টপসয়েল ব্যবহার এবং পরিবেশদূষণের অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা যাবে।