গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেবে না দেশের মানুষ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জবাবদিহি ডেস্ক

জাতীয়

2026-11-06T15:07:43+06:00
2026-11-06T15:44:49+06:00
শুক্রবার ● ৬ নভেম্বর ২০২৬,
২১ কার্তিক ১৪৩৩
Advertisement
জাতীয়
গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেবে না দেশের মানুষ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
জবাবদিহি ডেস্ক
⏲ ৩:০৭ পিএম | ৬ নভেম্বর, ২০২৬ | শুক্রবার
সংগৃহীত ছবি
গণহত্যা, নির্যাতন ও ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার অভিযোগ তুলে আওয়ামী লীগকে আর দেশে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শুক্রবার চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদরাসায় ১০৪তম দুই দিনব্যাপী বার্ষিক দ্বীনি মহাসম্মেলনের সমাপনী দিনে অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যারা অন্যায়, দুঃশাসন ও ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার জন্য মানুষের রক্ত নিয়েছে, এ দেশের ওপর অত্যাচার করেছে, সেই জালেম, স্বৈরাচারী ও খুনি আওয়ামী লীগের এ দেশে আর রাজনীতি হবে না।’

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন মাদরাসার মহাপরিচালক ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন ও আন্দোলনের সময় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ অরাজনৈতিক সংগঠন হলেও দ্বীন, দেশ ও ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছিল। এ আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন সংগঠনটির আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। এর আগে দায়িত্ব পালন করেছেন আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীসহ বিশিষ্ট আলেমরা।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে ২৩ বছর সময় লেগেছে। আর ফ্যাসিবাদী ও ইসলামবিদ্বেষী সরকারের হাত থেকে জনগণকে মুক্ত করতে ১৬-১৭ বছর লড়াই করতে হয়েছে। এ সময়ে অনেক আলেম-ওলামা ও শিক্ষার্থী শহীদ হয়েছেন। তাঁদের অনেকের নাম ও কবরের ঠিকানা এখনো অজানা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ শহীদ হয়েছেন। এর আগে ১৬-১৭ বছরে প্রায় ৩ হাজার মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন, যাঁদের একজন তিনি নিজেও। এ সময়ে প্রায় ৭ হাজার মানুষ বিভিন্নভাবে হত্যা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং লাখ লাখ মানুষ হামলা-মামলার মুখে পড়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি প্রশ্ন করেন, ‘আমরা কি আবার সেই ফ্যাসিবাদীদের পুনরাগমন চাই? তাদের প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্র কারা তৈরি করে দিচ্ছে?’ গার্মেন্টস খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টার পেছনেও ফ্যাসিবাদী শক্তির হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শ তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দলটি ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধের রাজনীতির মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার চেষ্টা করা হয়েছে। দেশের সব জনগোষ্ঠীর অভিন্ন জাতীয় পরিচয় রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ধর্মের নামে রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কিছু রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতিফলন নেই; বরং বিভক্তি তৈরি হচ্ছে। স্বাধীনতার আগে ও পরে বিভ্রান্তিমূলক রাজনীতির মাধ্যমে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

জুলাই সনদ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা অনুযায়ী দীর্ঘ আলোচনা ও পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে প্রণীত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি সংবিধানে ইসলামী মূল্যবোধের বিষয়গুলো ধারণ করা হবে। রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি ও সংবিধানের প্রস্তাবনায় মহান আল্লাহর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসের বিষয়টি পুনঃস্থাপনের কথাও জানান তিনি।

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, গণহত্যা ও নির্যাতনের জন্য দায়ীরা এখনো দুঃখ প্রকাশ বা অনুশোচনা করেনি। গণ-অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে যাওয়া ব্যক্তিরা দেশে ফিরে রাজনীতি করতে পারবেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, দীর্ঘ ১৭ বছর আলেম-ওলামাদের ওপর নির্যাতন, মসজিদে হামলা ও রক্তপাতের জন্য দায়ীদের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে দেশের মানুষ একমত নয়।

আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গঠনমূলক সমালোচনার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সরকারকে সহযোগিতা করা যেতে পারে, তবে দেশের মানুষের স্বার্থের বিরুদ্ধে গিয়ে নয়।

সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্য বজায় রেখে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, রপ্তানি ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে কাজ করছে সরকার। পাশাপাশি আলেম-ওলামা ও কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের জীবনমান উন্নয়নেও উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য দেশবাসীর দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। দেশের কল্যাণে ইসলামী ও দ্বীনি প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশে থাকার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকন, স্থানীয় সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীর, রাউজানের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিয়া, জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলমসহ বিভিন্ন আলেম-ওলামা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।


Advertisement
সর্বশেষ
‹ ›
সর্বাধিক পঠিত
‹ ›
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত