সতীর্থদের একের পর এক বিদায়ের মাঝেও এক প্রান্ত আগলে রেখে ব্যাট হাতে লড়াই চালিয়ে গেছেন তাওহীদ হৃদয়। দলের বিপর্যয়ের মধ্যে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি। তার শতকের ওপর ভর করেই সিলেট টেস্টের প্রথম ইনিংসে দুইশ রানের গণ্ডি পেরিয়েছে বাংলাদেশ।
সেপ্টেম্বরে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে ৩৫০ রানের বেশি করার কৃতিত্ব দেখিয়েছিলেন হৃদয়। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে সেই অসাধারণ ইনিংসের পর আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটেও তার সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। এবার জাতীয় দলের হয়ে নিজের তৃতীয় টেস্ট খেলতে নেমেই সেঞ্চুরি করে সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেন এই ব্যাটার।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চলমান টেস্ট সিরিজে মিরপুরে প্রথম ম্যাচ হেরে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। সিলেটে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টেও ব্যাটিংয়ের দুরবস্থা কাটিয়ে উঠতে পারেনি স্বাগতিকরা। দলের অন্য ব্যাটাররা উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে ব্যর্থ হলেও একাই লড়াই চালিয়ে গেছেন হৃদয়।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিনে ৩ উইকেটে ৮৮ রান নিয়ে ব্যাটিং শুরু করে বাংলাদেশ। একপর্যায়ে দলের ব্যাটিং বিপর্যয় আরও গভীর হয়। তবে এক প্রান্ত ধরে রেখে ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে রান তুলতে থাকেন হৃদয়।
১৭১তম বলে কাঙ্ক্ষিত তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছান তিনি। এরপর হেলমেট খুলে ব্যাটের হাতলে রেখে উদযাপন করেন ক্যারিয়ারের স্মরণীয় এই মুহূর্ত। মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে যাওয়ার আগে ১৭১ বলে ১১টি চার ও একটি ছক্কায় ১০০ রান করে অপরাজিত ছিলেন হৃদয়।
তার সেঞ্চুরির সুবাদে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ২০৫ রান। বিরতিতে যাওয়ার সময়ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে ১৫১ রানে পিছিয়ে ছিল স্বাগতিকরা। প্রথম ইনিংসে হৃদয়ের পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ মুশফিকুর রহিমের ৩৪ রান।
তৃতীয় দিনের শুরুতে ঘুরে দাঁড়িয়ে ভালো কিছুর ইঙ্গিত দিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু মুশফিকুর রহিমের উইকেট হারানোর পর সেই সম্ভাবনায় ধাক্কা লাগে। জোমেল ওয়ারিকানের ভাসানো বলে রাউন্ড দ্য উইকেটে শট খেলতে গিয়ে শর্ট কাভারে ক্যাচ তুলে দেন মুশফিক। ৩৪ রানেই থামে তার ইনিংস। হৃদয়ের সঙ্গে তার গড়া ৭৩ রানের জুটিও ভেঙে যায়।
এরপর ক্রিজে আসেন লিটন দাস। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে দুটি বাউন্ডারি আদায় করেন তিনি। তবে লিটনের সেই আগ্রাসনকেই কাজে লাগান ওয়ারিকান। ফুল লেংথের অফ স্টাম্প বরাবর আসা বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে কাভারে ক্যাচ দেন লিটন। ব্রেন্ডন কিং সহজেই বলটি তালুবন্দী করেন।
এরপর হৃদয়ের সঙ্গে জুটি গড়ার চেষ্টা করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। দুজনের ব্যাটিংয়ে কিছুটা আশার আলো দেখা গেলেও ৪১ রানের জুটি গড়ার পর বিদায় নেন মিরাজ।
রোস্টন চেজের বলে প্যাডেল শট খেলার চেষ্টা করেছিলেন মিরাজ। কিন্তু ব্যাটে ঠিকমতো সংযোগ না হওয়ায় বলটি শূন্যে উঠে যায়। প্রথম স্লিপ থেকে দৌড়ে এসে ঝাঁপিয়ে পড়ে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন জাস্টিন গ্রিভস। ১৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন মিরাজ।
এরপর মাত্র ৬ রানের ব্যবধানে উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ওয়ারিকানের অফ স্টাম্পের বাইরে বেরিয়ে যাওয়া বলে ব্যাটের হালকা স্পর্শ লাগলে সেটি উইকেটরক্ষকের হাতে জমা পড়ে। ১৮৪ রানে সপ্তম উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।
তবে সব চাপ সামলে এক প্রান্তে অবিচল ছিলেন হৃদয়। মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে তার সঙ্গে ক্রিজে ছিলেন তাইজুল ইসলাম। তিনি অপরাজিত ছিলেন ১ রানে।
বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা এখন অনেকটাই নির্ভর করছে হৃদয়ের সঙ্গে বাকি ব্যাটাররা কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন, তার ওপর। দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ের মধ্যে হৃদয়ের এই সেঞ্চুরি আপাতত স্বাগতিকদের জন্য বড় সান্ত্বনা।