হাওড়ের জনপদ থেকে সিলেটের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গীতিকার মাসুক হাসান

নেত্রকোণা প্রতিনিধি

দেশজুড়ে

2026-11-03T15:37:24+06:00
2026-11-03T15:37:24+06:00
মঙ্গলবার ● ৩ নভেম্বর ২০২৬,
১৮ কার্তিক ১৪৩৩
Advertisement
দেশজুড়ে
হাওড়ের জনপদ থেকে সিলেটের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গীতিকার মাসুক হাসান
নেত্রকোণা প্রতিনিধি
⏲ ৩:৩৭ পিএম | ৩ নভেম্বর, ২০২৬ | মঙ্গলবার
সংগৃহীত ছবি
নেত্রকোণার খালিয়াজুরীর হাওড়ঘেরা বল্লী গ্রামে জন্ম গীতিকার মাসুক হাসানের। শৈশব ও কৈশোর কেটেছে হাওড়ের প্রকৃতি, মানুষের জীবনযাপন এবং লোকজ সংস্কৃতির আবহে। শেকড়ের টান ও সংগীতের প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকে শুরু হয় তাঁর গানের জগতে পথচলা। দীর্ঘদিন ধরে গান রচনা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থেকে নিজের পরিচিতি তৈরি করেছেন তিনি। বর্তমানে সিলেটে অবস্থান করে গান লেখার পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে কাজ করছেন।

মাসুক হাসানের বাবার নাম কালা মিয়া। ২০০১ সাল থেকে গান লেখা শুরু করেন তিনি। দীর্ঘ এই পথচলায় নিজের ভাবনা, অনুভূতি, আধ্যাত্মিকতা ও লোকজ ঐতিহ্যকে গানের কথায় তুলে ধরেছেন। তাঁর লেখা অসংখ্য গান বিভিন্ন শিল্পীর কণ্ঠে নানা অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে পরিবেশিত হচ্ছে।

মাসুক হাসানের গানে বিশেষভাবে স্থান পেয়েছে মরমি সাধক, আধ্যাত্মিক বিশ্বাস ও ধর্মীয় ভাবধারা। পীরেকামেল আকবর লেংটা শাহের ভক্ত হিসেবে তাঁকে নিয়েও গান রচনা করেছেন তিনি। এ ছাড়া হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার এবং হবিগঞ্জের মাধবপুরে অবস্থিত হযরত শাহ সোলেমান ফতেহ গাজীর মাজার নিয়েও গান লিখেছেন। এসব সৃষ্টির মাধ্যমে আধ্যাত্মিক ভাবনা ও সাধক-ভক্তির বিষয়গুলো তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন এই গীতিকার।

গান রচনা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন সময়ে সম্মাননা স্মারক পেয়েছেন মাসুক হাসান। এসব স্বীকৃতি তাঁর দীর্ঘদিনের সংগীতচর্চায় অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। তবে সম্মাননার চেয়ে গান লেখা এবং নিজের সৃষ্টি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াকেই বেশি গুরুত্ব দেন তিনি।

গীতিকার পরিচয়ের পাশাপাশি সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় মাসুক হাসান। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বাউল দল, সিলেট জেলা শাখার সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে রাগীব রাবেয়া লোকসংস্কৃতি ও গবেষণা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সিলেট শাখার দপ্তর সম্পাদক এবং ফকির শীতালং শাহ শিল্পীগোষ্ঠী, সিলেটের সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও যুক্ত রয়েছেন।

তাঁর সংগীতচর্চা ও সাংস্কৃতিক পথচলায় পরিবারের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। গান লেখা ও সংগীতের সঙ্গে যুক্ত থাকার ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা পেয়েছেন বলে জানান তিনি। পরিবারের সমর্থন তাঁকে সৃষ্টিশীল কাজ চালিয়ে যাওয়ার সাহস জুগিয়েছে।

নিজের সংগীতজীবন সম্পর্কে মাসুক হাসান বলেন, ‘২০০১ সাল থেকে গান লিখছি। পীরেকামেল আকবর লেংটা শাহের ভক্ত হিসেবে তাঁকে নিয়েও গান লিখেছি। এ ছাড়া হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার এবং হবিগঞ্জের মাধবপুরে হযরত শাহ সোলেমান ফতেহ গাজীর মাজার নিয়েও গান রচনা করেছি। সংগীতের প্রতি ভালোবাসা থেকেই আমার এই পথচলা। ভবিষ্যতেও গানের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে চাই।’

খালিয়াজুরীর হাওড়ঘেরা জনপদ থেকে সিলেটের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল-মাসুক হাসানের এই যাত্রা একজন গীতিকারের নিষ্ঠা, ভালোবাসা ও সৃষ্টিশীলতার পরিচয় বহন করে। নিজের শেকড়ের স্মৃতি, লোকজ ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিক ভাবনাকে ধারণ করে বাংলা গানের জগতে আরও অবদান রাখতে চান তিনি।

জ/দি


Advertisement
সর্বশেষ
‹ ›
সর্বাধিক পঠিত
‹ ›
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত