মাঠে সংঘর্ষের ঘটনায় বাঁচানো গেল না স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব তেনেরিফের স্ট্রাইকার হেসুস দে মিগেলকে। ৩০ বছর বয়সী এই ফুটবলার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ৮ টায় (বাংলাদেশ সময় দুপুর ২ টায়) মারা গেছেন। এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে তেনেরিফ।
সোমবার রাতে এফসি আন্দোরার বিপক্ষে ম্যাচে ভয়াবহ সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন দে মিগেল। প্রতিপক্ষের গোলকিপার হেসুস ওওনোর সঙ্গে বলের দখল নিতে গিয়ে ধাক্কা লাগে তার। এই সময় গোলপোস্ট ছেড়ে অনেকটা সামনে আসা ওওনোর হাঁটু দে মিগেলের বুকে আঘাত করেছে বলে দেখা যায়।
সংঘর্ষের পরপরই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন দে মিগেল। দুই দলের খেলোয়াড়েরা দ্রুত চিকিৎসাকর্মীদের মাঠে আসার সংকেত দেন। কয়েক মিনিট ধরে মাঠেই চলে চিকিৎসা। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে নেওয়া হয় ইউনিভার্সিটি হসপিটাল অব নুয়েস্ত্রা সেনোরা দে কান্দেলারিয়ায়।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, হাসপাতালে নেওয়ার পথে হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায় দে মিগেলের। জরুরি চিকিৎসায় তাকে পুনরুজ্জীবিত করা হলেও শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে।
আজ সকালে বিবৃতিতে দে মিগেলের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে তেনেরিফ। ক্লাবের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘গভীর শোক আর গলায় কান্না নিয়ে, কিছুতেই বিশ্বাস করতে না পেরে আমরা জানাচ্ছি, আজ মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, সকাল ৮টায় হেসুস দে মিগেল আলামেদার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সান্ত্বনা দেওয়ার মতো কোনো শব্দ নেই। এই গভীর শোকের অনুভূতি লাঘব করার মতো কিছুই নেই।’
দে মিগেলের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ক্লাবটি আরও বলেছে, ‘আমরা তার শোকে বিধ্বস্ত পরিবারের পাশে আছি, তাঁর প্রিয়জনদের পাশে আছি এবং তেনেরিফের সব সমর্থকের পাশে আছি, যারা আজ এই নির্মম পরিণতিতে শোকাহত।’
ম্যাচের যোগ করা সময়ের সপ্তম মিনিটে ঘটে দুর্ঘটনাটি। তখন দুই দলের স্কোর ছিল ২-২। সংঘর্ষের ঘটনায় সরাসরি লাল কার্ড দেখেন আন্দোরার গোলকিপার ওওনো। পরে দে মিগেলের চিকিৎসার জন্য ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন রেফারি।
স্পেনের ফুটবল অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এই ঘটনায়। রিয়াল মাদ্রিদসহ দেশটির বিভিন্ন ক্লাব দে মিগেলের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে।
জ/বা