জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে বিক্ষোভ চলাকালে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় ৫৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ১৭টি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে পাঁচটিতে লুটপাট চালানো হয়। সংঘর্ষে পুলিশের শতাধিক সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর দাঙ্গা ও লুটপাটে জড়িত ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির মন্ত্রীরা।
শনিবার জার্মানির বিভিন্ন শহরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং সামাজিক সেবা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ কমানো বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ করেন হাজারো মানুষ। ‘জেন জি রেগেল্ট’ (জেন জি দায়িত্ব নেবে) নামের একটি আন্দোলন গোষ্ঠী এসব কর্মসূচির আয়োজন করে। কয়েক ডজন শহরে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হলেও ফ্রাঙ্কফুর্টে পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
হেসে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোমান পোসেক জানান, ফ্রাঙ্কফুর্টে মুখোশধারী বিক্ষোভকারীরা ১৭টি দোকানে ভাঙচুর চালান। এর মধ্যে পাঁচটি দোকানে লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে ১ হাজার ৩০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। সংঘর্ষে পুলিশের শতাধিক সদস্য আহত হন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বয়স ১৩ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্থাপনার জানালা ভাঙচুর করেন। এ সময় পুলিশ ও জরুরি সেবাকর্মীদের লক্ষ্য করে পেট্রলবোমা, পাথর ও বোতল নিক্ষেপ করা হয়।
জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেক্সান্ডার ডব্রিন্ট বলেন, দাঙ্গা ও ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনা হবে। এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হেসে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোমান পোসেক জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের অধিকাংশই জার্মান নাগরিক। পুলিশের তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি দাবি করেন, সহিংসতায় জড়িত অনেকের অভিবাসী পটভূমি রয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
এদিকে ফ্রান্সেও টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে সেখানে পরিস্থিতি অনেকটাই শান্তিপূর্ণ ছিল। এর আগে গত ১৭ অক্টোবরের বিক্ষোভে দেশটির বিভিন্ন দোকান, সরকারি ভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছিল।
জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে বিদেশি উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোর সহিংসতা উসকে দেওয়ার আশঙ্কায় আগেই সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হয়েছিল। সূত্র: রয়টার্স
জ/শা