বেতন-ভাতা বাড়ানোর দাবিতে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা। শনিবার দুপুরের পর পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। শ্রমিক অসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতে ১০ থেকে ১২টি শিল্পকারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
গতকাল শনিবার দুপুরের পর শ্রমিকেরা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেন। এ সময় সড়কে মাটিভর্তি বস্তা, কাঠ ও বাঁশ ফেলে তাতে আগুন ধরিয়ে দেন তাঁরা। এতে মহাসড়কের ওই অংশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও চালকেরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বিক্ষোভকারী শ্রমিকেরা জানান, বেতন-ভাতা বাড়ানোর দাবিতে কয়েক দিন ধরেই কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়ে আসছিলেন তাঁরা। তবে এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। একপর্যায়ে তাঁরা কর্মবিরতি শুরু করে আন্দোলনে নামেন।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, শ্রমিকেরা সড়কে নেমে বিক্ষোভ করছেন। তাঁদের শান্ত করতে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, শনিবার সকাল থেকে শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। দুপুরের পর হঠাৎ শ্রমিকদের মধ্যে বিক্ষোভ শুরু হলে পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। কিছু শ্রমিক কারখানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে কর্তৃপক্ষ ১০ থেকে ১২টি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে।
তিনি আরও জানান, প্রায় এক ঘণ্টা ধরে শ্রমিকেরা মহাসড়কে ব্যারিকেড তৈরি করে আন্দোলন করছেন। তাঁদের যেকোনো ধরনের সহিংসতা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
জ/উ