‘ওরা জ্বলতে থাকুক, তুমি আবার যাবা আমার সঙ্গে’: তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী

জবাবদিহি ডেস্ক

রাজনীতি

জাপান সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরসঙ্গী আমজনতার দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমানকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) দায়ী করে তিনি বলেছেন, তাঁর রাষ্ট্রীয় সম্মান পাওয়াও ওই দলগুলোর সহ্য হচ্ছে না। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভবিষ্যতে আবারও বিদেশ সফরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

2026-10-28T08:00:16+06:00
2026-10-28T08:00:16+06:00
বুধবার ● ২৮ অক্টোবর ২০২৬,
১২ কার্তিক ১৪৩৩
Advertisement
রাজনীতি
‘ওরা জ্বলতে থাকুক, তুমি আবার যাবা আমার সঙ্গে’: তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী
জবাবদিহি ডেস্ক
⏲ ৮:০০ এএম | ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ | বুধবার
সংগৃহীত ছবি
জাপান সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরসঙ্গী আমজনতার দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমানকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) দায়ী করে তিনি বলেছেন, তাঁর রাষ্ট্রীয় সম্মান পাওয়াও ওই দলগুলোর সহ্য হচ্ছে না। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভবিষ্যতে আবারও বিদেশ সফরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন আমজনতার দলের এই নেতা। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, জাপান সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে উদ্দেশ করে মজা করে বলেছেন, ‘আজ প্রধানমন্ত্রী মজা করে বলছিলেন, তারেক তুমি আবার যাবা আমার সঙ্গে। ওরা জ্বলতে থাকুক।’

ফেসবুক পোস্টে তারেক রহমান লেখেন, ‘জামায়াত-এনসিপি আমাকে হেয় করতে করতে এমন মানসিক অবস্থায় চলে গেছে যে, আমার একটু রাষ্ট্রীয় সম্মান পাওয়াটাও সহ্য করতে পারছে না। তারা হাঁপাচ্ছে জিহ্বাটা বের করে।’

নিজের রাজনৈতিক জীবনের শুরুর দিকের আর্থিক সংকট ও সহযোদ্ধাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি লেখেন, ২০১৮ বা ২০২৪ সালের আন্দোলনের সহযোদ্ধাদের মধ্যে যারা এখনো রাজনীতিতে সময় দিচ্ছেন, তাঁদের কয়েকজন বাদে অধিকাংশকেই শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হয়। তিনিও কিছুদিন এমন সহযোগিতা নিয়ে চলেছেন।

তারেক রহমানের ভাষ্য, সে সময় তিনি বুঝতে পারছিলেন না—কাজে ফিরবেন, নাকি আন্দোলন ছেড়ে দেবেন। প্রবাসী ভাইদের দেওয়া অর্থ দিয়ে খাবার খরচ, গাড়িভাড়া ও বাসাভাড়া পরিশোধ করেছেন বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।

সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতা থেকে বেরিয়ে নিজে কাজ করে জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করেছেন বলে জানান তারেক রহমান। তিনি লেখেন, বাবা-মায়ের রাজনীতির প্রতি অনাগ্রহের কারণে তাঁকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের মুখোমুখি হতে হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে ফলের ব্যবসা ও মধুর ব্যবসাও করেছেন তিনি।

পোস্টে তাঁর বক্তব্য, ‘কিন্তু আমি এই চক্র থেকে বের হয়ে কিছু কাজ করে খেতে চেয়েছি। বাবা-মায়ের রাজনীতিতে অনাগ্রহের কারণে আমাকে অনেক ক্ষুধা-দারিদ্র্যের সম্মুখীন হতে হয়েছে। বাধ্য হয়েই ফল ব্যবসা করেছি, মধু ব্যবসা করেছি। আমি জান-প্রাণ দিয়ে চেষ্টা করেছি কিছু একটা কর্ম থেকে আমার খাবার, বাসা ভাড়া জোগাড় করতে। এটা যদি অযোগ্যতার কারণ হয়, তাহলে আর কি করার আছে।’

নিজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, তাঁর খুব বেশি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ হয়নি। তবে সুযোগ পেলে আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে মুক্তির লড়াইয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। তাঁর দাবি, ২০১৮ সালের ‘ধারালো ফলার মতো’ লিফলেট, মোদিবিরোধী আন্দোলনের লিফলেট এবং ভারতীয় পণ্য বর্জনের জনপ্রিয় লিফলেট তাঁর হাতেই তৈরি হয়েছিল।

নিজের রাজনৈতিক জীবনে আটক, গুম ও রিমান্ডের অভিজ্ঞতার কথাও ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ১৪ মার্চ রমনা থানায় প্রথমবার আটক হন তিনি। একই বছরের ১৪ জুলাই ডিজিএফআইয়ের মাধ্যমে দ্বিতীয়বার গুম হন বলে দাবি করেন।

এরপর ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে তৃতীয়বার আটক হওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে ২২ জুলাই ডিজিএফআইয়ের হাতে চতুর্থবার আটক হন বলেও পোস্টে লেখেন। এ ছাড়া ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট তাঁকে ১০ দিনের রিমান্ডে থাকতে হয়েছিল বলে জানান।

তারেক রহমান বলেন, এসব ঘটনার কিছু অংশই তাঁর মনে আছে এবং এর বাইরে আরও বেশি কিছু করার সুযোগ তিনি পাননি।

জামায়াত ও এনসিপির সঙ্গে তাঁর বিরোধকে নিছক রাজনৈতিক বিরোধ হিসেবে দেখতে চান না বলে পোস্টে উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তিনি লেখেন, ‘যারা আমাকে সহ্য করতে পারছেন না, তাদের সঙ্গে আমার রাজনৈতিক বিরোধ নেই। এই বিরোধ সার্বভৌমত্বের বিরোধ।’

তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই-পরবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কথা বলা যাবে না—এমন বক্তব্য দেওয়া হয়েছিল। এর বিপরীতে মুক্তিযুদ্ধকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার সবচেয়ে বড় লড়াই হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

পোস্টে তারেক রহমান আরও অভিযোগ করেন, ১৯৭১ সালে পরাজিত শক্তি যেকোনো মূল্যে ক্ষমতায় যেতে চায়। তাঁর দাবি, বিভিন্ন বিদেশি শক্তির সঙ্গে সমঝোতার পর তারা ভারতের কাছে গেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি ভারতের সহযোগিতা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছিল। তাঁর অভিযোগ, ভারতও তাতে সাড়া দেয়। পরে ভারতীয় গণমাধ্যমে জামায়াতের আমিরের সঙ্গে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর গোপন বৈঠকের খবর প্রকাশিত হয় বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর জামায়াতের আমির তা স্বীকার করেন।

তারেক রহমান আরও অভিযোগ করেন, এবার ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সঙ্গে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের বৈঠকের বিষয় সামনে এসেছে। তাঁর দাবি, এ নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর গোলাম পরওয়ার দ্বিধাগ্রস্ত প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন। সরকার গঠনের আট মাস না যেতেই ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য একটি পক্ষ অস্থির হয়ে উঠেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপিতে কারও পদায়নে জামায়াত খুশি হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিষয়ে বারবার খোঁজখবর নেওয়া উচিত। তবে নিজের বিরুদ্ধে চলা হয়রানির ঘটনায় তিনি বিচলিত নন বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন।

একই সঙ্গে জুলাই-সংক্রান্ত মামলায় কারাগারে থাকা কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধাকে মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদা বিবেচনায় জামিন দেওয়ার জন্য আদালতের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এ প্রসঙ্গে তারেক রহমান লেখেন, ‘জামিনে থাকার সময় কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তাকে আবার গ্রেপ্তার করা যাবে। আর আমি এদের হয়রানিতে একদম বিচলিত না। আজ একটা দাবি জানাই, জুলাইয়ের মামলায় কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধা যদি জেলে থাকে। মুক্তিযুদ্ধের সম্মানে তাকে যেন জামিন দেন আদালত। পরবর্তীতে জামিনে থাকাকালে দোষী প্রমাণিত হলে তাকে আবার গ্রেফতার করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটাই জুলাইয়ের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের দূরত্ব কমানোর একমাত্র উপায়।’

ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে নিজের পাশে থাকার জন্য বিএনপি ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সহযোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তারেক রহমান। তিনি বিএনপিকে বাংলাদেশপন্থি ও জাতীয়তাবাদী দল হিসেবে উল্লেখ করেন এবং দলটির বিদেশে কোনো শাখা নেই বলেও মন্তব্য করেন।

পোস্টে তিনি লেখেন, ‘সবশেষে বাংলাদেশপন্থি দল, যাদের বিদেশে কোনো শাখা নেই, জাতীয়তাবাদী দল ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সহযোদ্ধাদের কৃতজ্ঞতা জানাই আমার পাশে থাকার জন্য। আর ভালোবাসা জানাই আমার প্রধানমন্ত্রীকে আমাকে তার সঙ্গে রাখার জন্য।’

জ/শা


  বিষয়:   প্রধানমন্ত্রী  তারেক রহমান 


Advertisement
সর্বাধিক পঠিত
‹ ›
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত