নবম পে-স্কেলে বেতন বৈষম্যের শঙ্কা, ১১তম গ্রেডের চেয়ে এগিয়ে ১২তম

জবাবদিহি ডেস্ক

জাতীয়

2026-10-27T17:27:57+06:00
2026-10-27T17:27:57+06:00
মঙ্গলবার ● ২৭ অক্টোবর ২০২৬,
১১ কার্তিক ১৪৩৩
Advertisement
জাতীয়
নবম পে-স্কেলে বেতন বৈষম্যের শঙ্কা, ১১তম গ্রেডের চেয়ে এগিয়ে ১২তম
জবাবদিহি ডেস্ক
⏲ ৫:২৭ পিএম | ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ | মঙ্গলবার
সংগৃহীত ছবি
নবম পে-স্কেল কার্যকর হলে সরকারি কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণে তৈরি হতে পারে উল্টো চিত্র। প্রারম্ভিক মূল বেতনে এগিয়ে থাকা ১১তম গ্রেডের কর্মচারীরা নতুন বেতনকাঠামোয় ১২তম গ্রেডের কর্মচারীদের তুলনায় কম বেতন পেতে পারেন। একই সঙ্গে পদোন্নতির পর মূল বেতন বাড়লেও বাড়িভাড়া ভাতার হার কমে যাওয়ায় কারও কারও মোট মাসিক আয় কমার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কর্মচারীদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, প্রস্তাবিত নতুন বেতনকাঠামোয় ১১তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২৫ হাজার টাকা এবং ১২তম গ্রেডের ২৪ হাজার ৩০০ টাকা। অর্থাৎ প্রারম্ভিক বেতনে ১১তম গ্রেড ৭০০ টাকা এগিয়ে। তবে আগের বেতনকাঠামোয় পাওয়া বেতন বৃদ্ধির সঙ্গে নতুন কাঠামোর বেতন সমন্বয় করতে গিয়ে দেখা দিচ্ছে ভিন্ন চিত্র।

হিসাব অনুযায়ী, ১১তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর ২০১৫ সালের প্রারম্ভিক মূল বেতন ছিল ১২ হাজার ৫০০ টাকা। গত ৩০ জুন তার মূল বেতন দাঁড়ায় ২৩ হাজার ৬৬০ টাকা। আগের কাঠামোয় তার বেতন বেড়েছিল ১১ হাজার ১৬০ টাকা। নতুন কাঠামোর প্রারম্ভিক বেতনের সঙ্গে এই বৃদ্ধি যোগ করলে মূল বেতন দাঁড়ায় ৩৬ হাজার ১৬০ টাকা। তবে এই অঙ্কের নির্ধারিত ধাপ না থাকায় তার বেতন ৩৭ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, ১২তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর ২০১৫ সালের প্রারম্ভিক মূল বেতন ছিল ১১ হাজার ৩০০ টাকা। গত ৩০ জুন তার মূল বেতন দাঁড়ায় ২৩ হাজার ৫৮০ টাকা। আগের কাঠামোয় তার বেতন বেড়েছিল ১২ হাজার ২৮০ টাকা। নতুন কাঠামোর প্রারম্ভিক বেতনের সঙ্গে এই বৃদ্ধি যোগ করলে মূল বেতন হয় ৩৬ হাজার ৫৮০ টাকা। পরবর্তী ধাপ অনুযায়ী তার বেতন নির্ধারণ হচ্ছে ৩৭ হাজার ৭০০ টাকা।

ফলে প্রারম্ভিক বেতনে এগিয়ে থাকলেও নতুন কাঠামোয় ১১তম গ্রেডের কর্মচারী ১২তম গ্রেডের কর্মচারীর চেয়ে ৭০০ টাকা কম মূল বেতন পাচ্ছেন বলে দাবি করছেন কর্মচারীরা।

তাদের হিসাব অনুযায়ী, নতুন বেতনকাঠামোর সুবিধা পর্যায়ক্রমে কার্যকর হলেও দুই গ্রেডের বেতনের ব্যবধান বজায় থাকতে পারে। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৫০ শতাংশ সুবিধা কার্যকর হলে ১১তম গ্রেডের মূল বেতন দাঁড়াবে ৩১ হাজার ২৩০ টাকা এবং ১২তম গ্রেডের ৩১ হাজার ৫৯০ টাকা। সে ক্ষেত্রে ব্যবধান হবে ৩৬০ টাকা।

একইভাবে, ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে ৭৫ শতাংশ সুবিধা কার্যকর হলে দুই গ্রেডের মূল বেতন হবে যথাক্রমে ৩৫ হাজার ১৫ টাকা ও ৩৫ হাজার ৫৯৫ টাকা। তখন ব্যবধান দাঁড়াবে ৫৮০ টাকা। আর ১ জুলাই ২০২৭ থেকে শতভাগ সুবিধা কার্যকর হলে ১১তম গ্রেডের বেতন হবে ৪০ হাজার ৮০০ টাকা এবং ১২তম গ্রেডের ৪১ হাজার ৬০০ টাকা। এতে বেতনের ব্যবধান বেড়ে দাঁড়াবে ৮০০ টাকা।

নতুন বেতনকাঠামোয় বাড়িভাড়া ভাতার হার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কর্মচারীরা। তাদের দেওয়া উদাহরণ অনুযায়ী, দশম গ্রেডের একজন কর্মচারী ১০ বছর চাকরি পূর্ণ করার পর নবম গ্রেডে পদোন্নতি বা প্রথম উচ্চতর গ্রেড পেলে তার মূল বেতন ৪৯ হাজার ৭০০ টাকা থেকে বেড়ে ৫১ হাজার টাকা হবে। অর্থাৎ মূল বেতন বাড়বে ১ হাজার ৩০০ টাকা।

কিন্তু দশম গ্রেডে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতা ২৪ হাজার ৮৫০ টাকা হলেও নবম গ্রেডে ৪৫ শতাংশ হারে তা হবে ২২ হাজার ৯৫০ টাকা। ফলে বাড়িভাড়া ভাতা কমবে ১ হাজার ৯০০ টাকা। এতে মূল বেতন বাড়লেও মূল বেতন ও বাড়িভাড়া ভাতা মিলিয়ে মাসিক আয় ৬০০ টাকা কমে যেতে পারে।

উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সময় নির্ধারণ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন কর্মচারীরা। তাদের আশঙ্কা, চাকরির মেয়াদ ও উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সময়ের ব্যবধানের কারণে জ্যেষ্ঠ ও জুনিয়র কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণে অসংগতি তৈরি হতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে জুনিয়র কর্মচারীর বেতন জ্যেষ্ঠ কর্মচারীর চেয়েও বেশি হওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

কর্মচারীদের দাবি, নতুন বেতনকাঠামো কার্যকরের আগে বেতন নির্ধারণ, বাড়িভাড়া ভাতার হার এবং উচ্চতর গ্রেড দেওয়ার নিয়ম পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। তাদের মতে, এসব ক্ষেত্রে সম্ভাব্য অসংগতি দূর করা না হলে নতুন কাঠামো কার্যকর হওয়ার পর কর্মচারীদের মধ্যে বেতনবৈষম্য ও অসন্তোষ বাড়তে পারে।

জ/উ


Advertisement
সর্বাধিক পঠিত
‹ ›
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত