ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় পিএসজির কাছে ২-৪ গোলে হারের পর এবার লা লিগাতেও পরাজয়ের স্বাদ পেল বার্সেলোনা। নিজেদের মাঠ ক্যাম্প ন্যুতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের কাছে ১-২ গোলে হেরেছে হান্সি ফ্লিকের দল। কিলিয়ান এমবাপের জোড়া গোলে বার্সেলোনার টানা নয় ম্যাচের জয়যাত্রা থেমে গেছে।
রোববার রাতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রথমার্ধের ৪১তম মিনিটে রিয়ালকে এগিয়ে নেন এমবাপে। বিরতির পর ৬১ মিনিটে রাফিনিয়ার গোলে সমতায় ফেরে বার্সেলোনা। তবে ৮৭ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে রিয়ালের জয় নিশ্চিত করেন ফরাসি তারকা।
এই জয়ে পূর্ণ তিন পয়েন্ট পেয়েও লিগ টেবিলের তৃতীয় স্থানেই রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। ১০ ম্যাচে তাদের সংগ্রহ ২৪ পয়েন্ট। সমান ম্যাচে ২৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে বার্সেলোনা। দুই পয়েন্ট কম নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ।
২০২৬-২৭ মৌসুমে লা লিগায় এটি বার্সেলোনার প্রথম হার। এর আগে টানা নয় ম্যাচ জিতে দারুণ সূচনা করেছিল ফ্লিকের দল। লিগের প্রথম নয়টি ম্যাচেই জয় পাওয়া দ্বিতীয় দল হিসেবে ইতিহাসেও জায়গা করে নেয় তারা। এর আগে ১৯৬৮-৬৯ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদ এই কীর্তি গড়েছিল। এবার সেই বার্সেলোনার জয়রথ থামাল তারাই।
ম্যাচের ১৯তম মিনিটে রিয়ালকে এগিয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। আর্দা গুলেরের শক্তিশালী নিচু শট লক্ষ্যভেদ করতে পারত, কিন্তু বার্সেলোনার গোলরক্ষক গার্সিয়া দারুণ সেভে তা আটকে দেন। পরে রক্ষণভাগের খেলোয়াড়েরা বল ক্লিয়ার করলে পরপর দুটি কর্নার পায় রিয়াল।
২২তম মিনিটে পেদ্রির প্রেসিংয়ের চাপে বল নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হয় রিয়ালের খেলোয়াড়েরা। বল পেয়ে রাফিনিয়া আক্রমণে এগিয়ে গেলেও কোনাতের চ্যালেঞ্জের মুখে তাঁর শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়।
অবশেষে ৪১তম মিনিটে এগিয়ে যায় রিয়াল। দিওমান্দের ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে জেরার্ড মার্টিন বলটি এমবাপের সামনে তুলে দেন। গোলের দিকে এগিয়ে আসা ফরাসি ফরোয়ার্ড সুযোগ কাজে লাগিয়ে সরাসরি শটে জাল কাঁপান।
দুই মিনিট পরই সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল বার্সেলোনা। তবে ডান দিক থেকে ইয়ামালের নেওয়া শট লক্ষ্যে রাখতে না পারায় সেই সুযোগ হাতছাড়া হয়। কিছুক্ষণ পর রদ্রির শট বাম দিকে ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন রিয়ালের গোলরক্ষক লুনিন।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পায় রিয়াল। বাম প্রান্ত দিয়ে একক প্রচেষ্টায় এগিয়ে যান জুড বেলিংহাম। কিন্তু বার্সেলোনার রক্ষণভাগের শেষ বাধা কুবার্সির চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে পারেননি ইংলিশ মিডফিল্ডার।
ম্যাচে ফেরার জন্য মরিয়া বার্সেলোনা ৬১তম মিনিটে সমতায় ফেরে। পেদ্রির পাস পেয়ে বক্সের আড়াআড়ি কোণ থেকে নিচু শটে গোল করেন রাফিনিয়া। লুনিন ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বলটি ঠেকানোর চেষ্টা করলেও হাতে লেগে দিক পরিবর্তন করা বল জালে জড়িয়ে যায়।
চার মিনিট পর আবারও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় বার্সেলোনা। গোলপোস্ট থেকে ছয় গজ দূরে জেরার্ড মার্টিনের নেওয়া দারুণ হেড ক্ষিপ্রতার সঙ্গে আটকে দেন ইউক্রেনীয় গোলরক্ষক লুনিন।
৭৮তম মিনিটে বক্সের সামান্য বাইরে থেকে ইয়ামালের জোরালো শট পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়। কিছুক্ষণ পর বদলি হিসেবে নামা ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংয়ের শট কর্নারের বিনিময়ে ঠেকিয়ে দেন রিয়ালের খেলোয়াড় কুকুরেইয়া।
ম্যাচের ৮৭তম মিনিটে আবারও গোল করে রিয়ালকে এগিয়ে দেন এমবাপে। এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গার দুর্দান্ত কাটব্যাক থেকে গোলমুখের সামনে বল পেয়ে সহজেই জালে পাঠান ফরাসি তারকা। তাঁর দ্বিতীয় গোলেই নিশ্চিত হয় রিয়ালের ২-১ ব্যবধানের জয়।
বার্সেলোনার বিপক্ষে ক্যারিয়ারের ১১ ম্যাচে এটি এমবাপের ১৪তম গোল। সাবেক বিশ্বকাপজয়ী এই ফরাসি ফরোয়ার্ডের জোড়া গোলেই শেষ পর্যন্ত থামে বার্সেলোনার টানা জয়ের ধারা।
জ/শা