ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নাটকীয় জয়ের মধ্য দিয়ে আবারও ক্ষমতায় ফিরছেন বামপন্থি নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। ডানপন্থি প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারোকে পরাজিত করে চতুর্থবারের মতো দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন ৮০ বছর বয়সী এই নেতা।
রোববার (২৫ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার ভোট গণনা শেষে লুলাকে বিজয়ী ঘোষণা করে দেশটির নির্বাচন কর্তৃপক্ষ। সোমবার (২৬ অক্টোবর) প্রকাশিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ব্রাজিলের নির্বাচন কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, প্রায় ৯৯ শতাংশ ভোট গণনা শেষে লুলা পেয়েছেন ৫১ দশমিক ৭৫ শতাংশ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারো পেয়েছেন ৪৮ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোট। দুই প্রার্থীর মধ্যে ব্যবধান তুলনামূলক কম হলেও শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করেন লুলা।
নির্বাচনের আগে ব্রাজিলের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। প্রথম দফার ভোটে লুলাকে পেছনে ফেলে এগিয়ে ছিলেন ফ্লাভিও বলসোনারো। ফলে দ্বিতীয় দফার নির্বাচন ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যায়।
তবে চূড়ান্ত ভোট গণনায় এগিয়ে থেকে জয় নিশ্চিত করেন লুলা। ভোট গণনার বিভিন্ন পর্যায়ে দুই প্রার্থীর মধ্যে ব্যবধান ওঠানামা করলেও শেষ পর্যন্ত ভোটারদের সমর্থন ধরে রাখতে সক্ষম হন তিনি।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে প্রথম দফার নির্বাচনে পিছিয়ে থাকার পর দ্বিতীয় দফায় জয়ী হওয়ার বিরল নজির গড়েছেন লুলা বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
লুলার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারো ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর ছেলে। ডানপন্থি রাজনীতির প্রতিনিধি হিসেবে পরিচিত ফ্লাভিওর বিজয়কে ঘিরে প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে বলসোনারো পরিবারের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল।
তবে নির্বাচনে ফ্লাভিওর পরাজয়ের ফলে সেই সম্ভাবনা আপাতত থেমে গেছে।
অন্যদিকে, লুলার জয় ব্রাজিলের রাজনীতিতে বামপন্থিদের অবস্থান আরও সুসংহত করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটিতে ডানপন্থি রাজনীতির উত্থানের বিপরীতে এ ফলাফলকে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে শ্রমিক অধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা এবং দারিদ্র্য বিমোচনে বিভিন্ন কর্মসূচির জন্য পরিচিতি পেয়েছেন লুলা দা সিলভা। বামপন্থি রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে দেশীয় রাজনীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তিনি আলোচিত।
বিশেষ করে ফিলিস্তিন ইস্যুতে তাঁর সমর্থনমূলক অবস্থান আন্তর্জাতিক পরিসরে আলোচনায় এসেছে।
চতুর্থ মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে লুলার নীতিগত অবস্থান কীভাবে এগোবে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
জ/শা