কিয়ামতের কঠিন দিনে যাঁদের হিসাব সহজ হবে

ধর্ম ডেস্ক

ইসলাম ও জীবন

2026-10-27T16:52:23+06:00
2026-10-27T16:52:23+06:00
মঙ্গলবার ● ২৭ অক্টোবর ২০২৬,
১১ কার্তিক ১৪৩৩
Advertisement
ইসলাম ও জীবন
কিয়ামতের কঠিন দিনে যাঁদের হিসাব সহজ হবে
ধর্ম ডেস্ক
⏲ ৪:৫২ পিএম | ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ | মঙ্গলবার
কিয়ামতের কঠিন দিনে যাঁদের হিসাব সহজ হবে
পবিত্র কোরআন ও হাদিসে কিয়ামতের দিনের কথা বারবার এসেছে। সেদিন প্রতিটি মানুষের আমল, কথা ও কাজের হিসাব নেওয়া হবে। প্রত্যেককে নিজ নিজ আমলনামা নিয়ে মহান আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে। সেই কঠিন দিনের কথা মুমিনের অন্তরে ভীতি জাগায়। কারণ সেদিন প্রত্যেকেই নিজের পরিণতি নিয়ে চিন্তিত থাকবে।

তবে সেই কঠিন দিনেও মহান আল্লাহর কিছু বান্দা তাঁর বিশেষ রহমত লাভ করবেন। তাঁদের হিসাব সহজ করে দেওয়া হবে। ইসলামের পরিভাষায় একে বলা হয় ‘হিসাবে ইয়াসির’-অর্থাৎ সহজ হিসাব।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘অতঃপর যাকে তার আমলনামা ডান হাতে দেওয়া হবে, তার হিসাব-নিকাশ সহজভাবেই নেওয়া হবে।’ (সুরা ইনশিকাক, আয়াত: ৭-৮)

এ আয়াতে ‘হিসাবাই ইয়াসিরা’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে, যার অর্থ সহজ হিসাব।

কিয়ামতের দিন যাঁদের হিসাব সহজ হবে, তাঁরা নিঃসন্দেহে সৌভাগ্যবান। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন যার হিসাব পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে নেওয়া হবে, সে শাস্তির সম্মুখীন হবে।’ আয়েশা (রা.) বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসুল, আল্লাহ কি বলেননি, ‘অতঃপর যাকে তার আমলনামা ডান হাতে দেওয়া হবে, তার হিসাব সহজভাবেই নেওয়া হবে’? তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তা কেবল আমল পেশ করা মাত্র। আর কিয়ামতের দিন যার হিসাব খতিয়ে দেখা হবে, তাকে অবশ্যই শাস্তি দেওয়া হবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৫৩৭)

সুতরাং কিয়ামতের কঠিন দিনে মহান আল্লাহর রহমত লাভ করতে হলে আন্তরিকভাবে নেক আমল করতে হবে। আল্লাহ ক্ষমা করবেন-এমন আশায় পাপে নিমজ্জিত থাকার সুযোগ নেই। বরং গুনাহ থেকে ফিরে এসে তাওবা করা এবং সৎকর্মে আত্মনিয়োগ করা জরুরি। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তবে যারা তাওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদের পাপগুলোকে পুণ্য দ্বারা পরিবর্তন করে দেবেন। আল্লাহ অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা ফুরকান, আয়াত: ৭০)

হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমার উম্মতের সত্তর হাজার লোক বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল, তারা কারা? তিনি বললেন, ‘যারা দাগ দিয়ে চিকিৎসা করায় না, ঝাড়ফুঁকের জন্য অন্যের শরণাপন্ন হয় না এবং নিজেদের রবের ওপর পূর্ণ ভরসা রাখে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪১২)

তাই মুমিনের কর্তব্য হলো সব বিষয়ে মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখা এবং কুসংস্কার থেকে দূরে থাকা। একই সঙ্গে তাঁর রহমতের আশা পোষণ করা। কারণ আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু।

রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, ‘আল্লাহ মুমিন ব্যক্তিকে নিজের কাছে নিয়ে আসবেন এবং তার ওপর পর্দা দিয়ে তাকে আড়াল করবেন। তারপর বলবেন, অমুক পাপের কথা কি তুমি জান? সে বলবে, হে আমার রব, হ্যাঁ। এভাবে তিনি তার পাপগুলো স্বীকার করাবেন। তখন সে মনে করবে, তার ধ্বংস অনিবার্য। এরপর আল্লাহ বলবেন, পৃথিবীতে আমি তোমার পাপ গোপন রেখেছিলাম, আর আজ তা ক্ষমা করে দিলাম।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৪৪১)

অন্যদিকে, কাফির ও মুনাফিকদের ব্যাপারে সাক্ষীরা বলবে, এরাই তাদের প্রতিপালক সম্পর্কে মিথ্যা বলেছিল। জেনে রাখো, জালিমদের ওপর আল্লাহর অভিসম্পাত। (হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী)

এ থেকে বোঝা যায়, কুফর ও শিরক থেকে দূরে থাকা, গুনাহ পরিহার করা এবং ভুল হয়ে গেলে আন্তরিকভাবে তাওবা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিজের গুনাহ অহংকার করে প্রকাশ করে বেড়ানোও অনুচিত। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমার উম্মতের সবাইকে ক্ষমা করা হবে, তবে যারা প্রকাশ্যে গুনাহ করে, তারা ছাড়া।’ এরপর তিনি এমন ব্যক্তির উদাহরণ দেন, যে রাতে গুনাহ করে আল্লাহর আড়ালে থাকে, কিন্তু সকালে নিজেই তা মানুষের কাছে প্রকাশ করে বেড়ায়। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬০৬৯)

অন্যের দোষ গোপন রাখা এবং বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোও আল্লাহর রহমত লাভের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের দুনিয়ার একটি কষ্ট দূর করবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার একটি কষ্ট দূর করবেন। যে ব্যক্তি কোনো অভাবগ্রস্তের অভাব দূর করবে, আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে তার অভাব দূর করবেন। যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দোষ গোপন রাখবে, আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষ গোপন রাখবেন। বান্দা যতক্ষণ তার ভাইয়ের সাহায্যে নিয়োজিত থাকে, আল্লাহ ততক্ষণ তার সাহায্যে থাকেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৬৯৯)

তাই গুনাহ হয়ে গেলে অনুতপ্ত হয়ে মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে এবং তাঁর রহমতের আশা রাখতে হবে। পাশাপাশি ঈমানের ওপর অটল থাকতে হবে। হাদিসে কালেমার ফজিলত সম্পর্কেও বর্ণনা এসেছে। (জামে তিরমিজি, হাদিস: ২৬৩৯)

তবে মানুষের অধিকার বা বান্দার হকের বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকা জরুরি। কারও অধিকার নষ্ট করলে তা ফিরিয়ে দেওয়া এবং সম্ভব হলে তার কাছে ক্ষমা চাওয়ার চেষ্টা করতে হবে।

মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার, আন্তরিক তাওবা করার এবং কিয়ামতের দিন সহজ হিসাব লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

জ/উ


Advertisement
সর্বশেষ
‹ ›
সর্বাধিক পঠিত
‹ ›
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত