ইসলামী শরিয়তে বিয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইজাব ও কবুল। তবে বিয়ের প্রস্তাব গ্রহণের সময় পাত্রকে তিনবার ‘কবুল’ বলতে হবে, অন্যথায় বিয়ে শুদ্ধ হবে না-এমন ধারণা প্রচলিত রয়েছে অনেক এলাকায়। কিন্তু শরিয়তের দৃষ্টিতে তিনবার কবুল বলা কি বাধ্যতামূলক, নাকি এটি সামাজিকভাবে প্রচলিত একটি রীতি?
ঢাকা থেকে প্রকাশিত ইসলামী গবেষণামূলক পত্রিকা মাসিক আল কাউসারে প্রকাশিত এক লেখায় বলা হয়েছে, বিয়েতে তিনবার কবুল বলার বিষয়টি শরিয়তের নির্ধারিত বিধান নয়; বরং এটি একটি প্রচলিত রীতি। এ ধরনের রীতিকে বাধ্যতামূলক মনে করা উচিত নয়। কারণ, এমন ধারণা থেকে নানা জটিলতা তৈরি হতে পারে।
পত্রিকাটির লেখায় আরও বলা হয়েছে, শরিয়তের দৃষ্টিতে বিয়ের প্রস্তাবের পর সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তাঁদের শুনিয়ে একবার ‘কবুল’ বললেই বিবাহ সম্পন্ন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে তিনবার কবুল বলা আবশ্যক নয়। এ বিষয়ে ফাতাওয়ায়ে শামি (৩/৯) ও ফাতাওয়ায়ে আলমগিরি (১/৩৭০) গ্রন্থের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে।
বিয়ে সম্পর্কে হাদিসে নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘হে যুবসমাজ, তোমাদের মধ্যে যার বিয়ের সামর্থ্য আছে, তার বিয়ে করা উচিত। কেননা বিয়ে চোখকে নিচু রাখে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। আর যার সামর্থ্য নেই, সে যেন রোজা রাখে। কেননা রোজা যৌবনের খায়েশ কমিয়ে দেয়।’ (সহিহ বুখারি: ৫০৬৫; সহিহ মুসলিম: ১৪০০)
এই হাদিসে সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের বিয়ের প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে। এতে বিয়ের জন্য নির্দিষ্ট কোনো দিন, তারিখ বা মাসের শর্ত দেওয়া হয়নি। তাই সামর্থ্য ও উপযুক্ততা থাকলে অযথা বিলম্ব না করে বিয়ের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
বর্তমান সময়ে উপযুক্ত পাত্র-পাত্রী নির্বাচন অনেক পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ ক্ষেত্রে বিয়ের আগে সম্ভাব্য জীবনসঙ্গীকে দেখে নেওয়া এবং তাঁর সম্পর্কে প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নেওয়ার সুযোগ রয়েছে ইসলামে।
জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যখন কোনো নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়, তখন সম্ভব হলে তার এমন কিছু বৈশিষ্ট্য যেন দেখে নেয়, যা তাকে বিয়েতে আগ্রহী করে তোলে।’
হাদিসটির শিক্ষা অনুযায়ী, বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সম্ভাব্য জীবনসঙ্গী সম্পর্কে যথাযথ ধারণা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে বিয়ের ক্ষেত্রে সামাজিক রীতির পরিবর্তে শরিয়তের নির্দেশনা ও পারস্পরিক সম্মতিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
জ/উ