ফ্যাশন ডিজাইনার সানায়া চৌধুরীকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য হুমকি দেওয়ার অভিযোগে অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে আদালতে পিটিশন মামলা হয়েছে। অভিযোগ আমলে নিয়ে আগামী ২৩ নভেম্বর তিশাকে আদালতে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন সানায়া চৌধুরী। বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করার পর আদালত এ নির্দেশ দেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী শুভ্র সিনহা রায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মু. মাহবুব-উল-আলমের আদালতে পিটিশন মামলাটি করা হয়। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে তানজিন তিশাকে আগামী ২৩ নভেম্বর হাজির হয়ে কারণ দর্শাতে বলেছেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৯ নভেম্বর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দণ্ডবিধির ৪২০ ও ৪০৬ ধারায় তানজিন নাহার তিশার বিরুদ্ধে মামলা করেন সানায়া চৌধুরী। ওই মামলা করার পর থেকে তিশা বিভিন্ন সময়ে মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ ও হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন বাদী।
সানায়ার অভিযোগ, গত ৭ নভেম্বর মোবাইল ফোনে তাঁকে হুমকি দিয়ে বলা হয়, ‘আমি যদি তোমার পিছনে লাগি, তুমি কিন্তু বাঁচবা না...’। এ সময় তাঁকে অকথ্য ভাষায় হেনস্তা করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তী সময়ে আদালতের নির্দেশে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেয়। ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে গত ২৫ অক্টোবর আদালতে নারাজি আবেদন করেন বাদী। আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করে পিবিআইয়ের প্রতিবেদন পুনরায় তদন্তের জন্য অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানোর নির্দেশ দেন বলে মামলার বিবরণে বলা হয়েছে।
বাদীর দাবি, তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর আসামিপক্ষ আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের পাঠিয়ে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয় এবং তাঁকে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে এবং থানা কর্তৃপক্ষের পরামর্শে ন্যায়বিচারের আশায় তিনি নতুন করে পিটিশন মামলাটি করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ফ্যাশন ডিজাইনার আয়েশাহ আনুম ফায়যাহ সানায়া চৌধুরী ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর তানজিন তিশার বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে আগের মামলাটি করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
ওই মামলার অভিযোগে বলা হয়, গুলশানের ১২৭ নম্বর সড়কে সানায়া চৌধুরীর একটি ফ্যাশন হাউস ও স্টুডিও রয়েছে। ২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর একটি অনুষ্ঠানে পরার জন্য তানজিন তিশা তাঁর কাছ থেকে ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি শাড়ি নেন। অনুষ্ঠান শেষে পরদিন শাড়িটি ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও তা ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন সানায়া।
শাড়িটি ফেরত চেয়ে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর ফেসবুক মেসেঞ্জারে তিশাকে বার্তা পাঠান সানায়া। এরপর শাড়ি ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে তিশা তাঁকে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
এ ছাড়া ২০২৫ সালের ১৩ ও ১৮ মার্চ দুটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তানজিন তিশার সঙ্গে দেখা হলে শাড়িটি ফেরত চান সানায়া। তখনও শাড়িটি ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
সানায়ার দাবি, পরে ১০ নভেম্বর ফেসবুক মেসেঞ্জারে ফোন করে তানজিন তিশা তাঁকে মামলা করার এবং সামাজিকভাবে হেয় করার হুমকি দেন। এ ঘটনায় ১২ নভেম্বর গুলশান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তিনি।
তবে গত ২৫ মে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর আলম তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়ে জানান, ওই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।
জ/উ