পর্যটকের সংখ্যা নয়, টেকসই ব্যবস্থাপনাই পর্যটন সাফল্যের চাবিকাঠি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

2026-10-26T19:07:08+06:00
2026-10-26T19:07:08+06:00
সোমবার ● ২৬ অক্টোবর ২০২৬,
১০ কার্তিক ১৪৩৩
Advertisement
আন্তর্জাতিক
পর্যটকের সংখ্যা নয়, টেকসই ব্যবস্থাপনাই পর্যটন সাফল্যের চাবিকাঠি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
⏲ ৭:০৭ পিএম | ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ | সোমবার
সংগৃহীত ছবি
দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বজুড়ে পর্যটনশিল্পের সাফল্য পরিমাপ করা হয়েছে পর্যটকের সংখ্যা, হোটেলের ব্যস্ততা এবং রাজস্ব আয়ের মতো প্রচলিত সূচকের ভিত্তিতে। তবে বাস্তবতা বলছে, রেকর্ডসংখ্যক পর্যটক এলেই কোনো গন্তব্যের পর্যটন খাত সফল হয় না। বিশ্বের বহু জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকের সংখ্যা বাড়লেও স্থানীয় বাসিন্দারা নানা সংকটে পড়ছেন। চাপ বাড়ছে অবকাঠামো ও নাগরিক সেবায়, অবমূল্যায়িত হচ্ছে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, আর বাড়ছে পরিবেশগত ঝুঁকি।

বিশ্লেষকদের মতে, পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি মানেই পর্যটন খাতের প্রকৃত উন্নয়ন নয়। শুধু প্রবৃদ্ধির দিকে নজর দিলে দীর্ঘমেয়াদে লাভের পরিবর্তে ক্ষতির আশঙ্কাই বাড়ে। স্বল্পমেয়াদি দৃশ্যমান সাফল্যের পেছনে ছুটতে গিয়ে স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা ও পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কল্যাণ নিশ্চিত করতে না পারলে পর্যটনশিল্পও তার টেকসই ভিত্তি হারায়। তাই ভবিষ্যতের পর্যটন সাফল্য নির্ধারণে পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি সমাজ, সংস্কৃতি ও পরিবেশের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষাকে গুরুত্ব দিতে হবে।

সংখ্যাভিত্তিক পর্যটননীতির সীমাবদ্ধতার উদাহরণ হিসেবে পাকিস্তানের কথা তুলে ধরা হয়েছে। দেশটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ‘পাকিস্তানের অপার পর্যটন সম্ভাবনা রয়েছে’-এমন বক্তব্য বারবার শোনা গেলেও বাস্তব ব্যবস্থাপনায় সেই সম্ভাবনার যথাযথ প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে সমালোচনা রয়েছে।

ছুটির দিন ও ঈদের মতো ব্যস্ত সময়ে দেশটির জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোর চিত্র এই সমস্যার দিকগুলো সামনে আনে। পর্যটকদের অতিরিক্ত চাপে সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়, জরুরি সেবা ব্যাহত হয় এবং বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা জমে পরিবেশ দূষিত হয়। ফলে পর্যটকদের কাঙ্ক্ষিত অভিজ্ঞতা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

তবে পাকিস্তানের পর্যটন খাতের মূল সমস্যা পর্যটকের সংখ্যা নয়; বরং পরিকল্পনা ও কার্যকর দিকনির্দেশনার অভাব। পর্যটনকেন্দ্রের সংস্কৃতি ও পরিবেশের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হয়ে কিছু দর্শনার্থী কেবল ছবি তোলা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের উপস্থিতি তুলে ধরতেই বেশি আগ্রহী হন। এতে পর্যটনকেন্দ্রগুলো অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় ঐতিহ্য ও প্রকৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার জায়গার পরিবর্তে প্রদর্শননির্ভর গন্তব্যে পরিণত হচ্ছে। উপেক্ষিত থাকছে স্থানীয় সমাজ ও পরিবেশের প্রয়োজন।

পর্যটননীতি প্রণয়নেও পাকিস্তানের সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলে সমালোচকেরা মনে করেন। নীতিনির্ধারণী আলোচনা ও সভা-সমাবেশে আন্তর্জাতিক পরিভাষা এবং আধুনিক ধারণার ব্যবহার থাকলেও সেগুলো সব সময় নির্ভরযোগ্য তথ্য ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় না। ফলে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মধ্যে ব্যবধান তৈরি হয়। এই ব্যবধান পর্যটন খাতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি বিনিয়োগকারী ও পর্যটকদের আস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

টেকসই পর্যটনশিল্প গড়ে তুলতে হলে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি সেবার মান, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বার্থ নিশ্চিত করতে হবে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও পরিবেশের ক্ষতি করে এমন বিপুলসংখ্যক পর্যটকের চেয়ে দায়িত্বশীল দর্শনার্থী বেশি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারেন। বিশেষ করে যারা দীর্ঘ সময় অবস্থান করেন, স্থানীয় সংস্কৃতিকে সম্মান করেন এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখেন।

পাকিস্তানের পর্যটন খাতকে সম্ভাবনা থেকে বাস্তব সাফল্যে রূপ দিতে হলে স্লোগানের পরিবর্তে প্রয়োজন বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা, পেশাদার প্রশিক্ষণ, কার্যকর পর্যটন ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বিনিয়োগ। পর্যটনের সাফল্য শুধু কত মানুষ এলেন, তা দিয়ে নয়; বরং পর্যটন থেকে স্থানীয় জনগোষ্ঠী, অর্থনীতি ও পরিবেশ কতটা উপকৃত হলো, সেই বিবেচনাতেই নির্ধারণ করা উচিত।

জ/উ


Advertisement
সর্বশেষ
‹ ›
সর্বাধিক পঠিত
‹ ›
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত