আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে গোপালগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা বাড়ছে। চেয়ারম্যান ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সদস্য পদে আগ্রহীরা ইতোমধ্যে প্রচার-প্রচারণা ও জনসংযোগ শুরু করেছেন। চায়ের দোকান, বাজার থেকে শুরু করে ফসলের মাঠ-বিভিন্ন স্থানে এখন নির্বাচন নিয়ে আলোচনা চলছে। ভোটাররাও সম্ভাব্য প্রার্থীদের যোগ্যতা, জনপ্রিয়তা ও এলাকার প্রতি তাঁদের ভূমিকা নিয়ে নিজেদের মধ্যে কথা বলছেন।
জেলার কাশিয়ানী উপজেলার মাহামুদপুর ইউনিয়নে বিএনপির সমর্থন নিয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মুন্সি মো. আনোয়ার হোসেন মটু। তিনি বলেন, গত নির্বাচনে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের চাপ ও কারচুপির কারণে তিনি পরাজিত হয়েছিলেন।
আনোয়ার হোসেন মটু জানান, নির্বাচিত হলে মাহামুদপুর ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করবেন। পাশাপাশি মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে যুবসমাজকে রক্ষার উদ্যোগ নেবেন।
টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতি ইউনিয়নেও চেয়ারম্যান পদে প্রচার শুরু করেছেন উপজেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ইউনিয়নবাসী তাঁকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলে এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং মানুষের সেবায় কাজ করবেন। সমাজব্যবস্থা রক্ষায় মাদকের বিরুদ্ধেও লড়াই চালিয়ে যাবেন।
একই উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বিবেক মন্ডল চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, মানুষের কল্যাণে কাজ করার লক্ষ্যেই নির্বাচনে অংশ নিতে চান। ইউনিয়নের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সুশীল সমাজ গঠনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবু সোহেল জনিও চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে জনসংযোগ শুরু করেছেন এবং মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছেন।
আবু সোহেল জনি জানান, দুর্গাপুর ইউনিয়নকে পিছিয়ে থাকা অবস্থা থেকে এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন। এলাকায় মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাস ও জুয়া নির্মূলে কাজ করার পাশাপাশি দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চান তিনি।
কোটালীপাড়া উপজেলার আমতলী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে প্রচারণা শুরু করেছেন মো. আসলাম উদ্দিন। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন এবং দলের সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে কাজ করতে চান। ইউনিয়নের উন্নয়নকে লক্ষ্য করেই চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
এদিকে সদর উপজেলার উরফি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে চান রফিকুজ্জামান মুন্সী। তাঁর ভাই শহিদুজ্জামান জানান, সাধারণ মানুষের সেবা করার উদ্দেশ্যেই রফিকুজ্জামান নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী। লক্ষ্য অর্জনে ইতোমধ্যে প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়েছে এবং তাঁর কর্মীরা জনসংযোগ করছেন।
শহিদুজ্জামান আরও জানান, রফিকুজ্জামান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তিনি দেশে ফিরবেন। মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের পাশাপাশি বেকারত্ব কমানো এবং সততা ও ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তিতে সমৃদ্ধ ইউনিয়ন পরিষদ গড়ে তুলতে তিনি ও তাঁর কর্মীরা কাজ করবেন।
অন্যদিকে পারুলিয়া ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে প্রার্থী হতে চান আঞ্জুয়ারা বেগম। তিনি জানান, এর আগে একবার নির্বাচিত হয়েছিলেন। আসন্ন নির্বাচনে ভোটাররা তাঁকে জয়ী করলে অসমাপ্ত কাজ শেষ করবেন। এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার পাশাপাশি নারী উন্নয়নেও কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। সম্ভাব্য প্রার্থীদের এসব তৎপরতায় জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে নির্বাচনী আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।
জ/উ