রাজউকের পারমিট সেবা অনলাইনে, ৭ মাসে প্রায় ১১ হাজার আবেদন

জবাবদিহি ডেস্ক

জাতীয়

2026-10-25T13:43:29+06:00
2026-10-25T13:43:29+06:00
রোববার ● ২৫ অক্টোবর ২০২৬,
৯ কার্তিক ১৪৩৩
Advertisement
জাতীয়
রাজউকের পারমিট সেবা অনলাইনে, ৭ মাসে প্রায় ১১ হাজার আবেদন
জবাবদিহি ডেস্ক
⏲ ১:৪৩ পিএম | ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ | রোববার
সংগৃহীত ছবি
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আওতাধীন আটটি জোনে প্লানিং পারমিট ও কনস্ট্রাকশন পারমিটের আবেদন এবং অনুমোদন কার্যক্রম পুরোপুরি অনলাইনভিত্তিক করা হয়েছে। এতে সেবাগ্রহীতাদের দাপ্তরিক দৌড়ঝাঁপ কমার পাশাপাশি আবেদন নিষ্পত্তিতে গতি ও স্বচ্ছতা বাড়ছে। চলতি বছরের মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর-এই সাত মাসে দুই ধরনের পারমিটের জন্য মোট ১০ হাজার ৯৮৫টি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ৭ হাজার ৯৯৩টি আবেদন।

রাজউক সূত্রে জানা গেছে, সাত মাসে প্লানিং পারমিটের জন্য অনলাইনে ৭ হাজার ৫৫টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে অনুমোদন পেয়েছে ৫ হাজার ৩৯৩টি। একই সময়ে কনস্ট্রাকশন পারমিটের জন্য জমা পড়া ৩ হাজার ৯৩০টি আবেদনের মধ্যে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ২ হাজার ৬০০টিকে।

আবেদন নিষ্পত্তির সময়সীমাও নির্ধারণ করেছে রাজউক। প্লানিং পারমিটের আবেদন নিষ্পত্তিতে সর্বোচ্চ ৩০ দিন নির্ধারিত রয়েছে। আর কনস্ট্রাকশন পারমিটের আবেদন ২৪ দিনের মধ্যে বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন (বিসি) কমিটিতে উপস্থাপন করতে হয়। আবেদনকারীর জমা দেওয়া কাগজপত্র ও নকশা সঠিক থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কোনো নথিতে ঘাটতি বা আবেদনে ত্রুটি থাকলে মোবাইল ফোন, ই-মেইল কিংবা অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে আবেদনকারীকে তা জানানো হচ্ছে।

রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু বলেন, আগে প্লানিং পারমিট ও কনস্ট্রাকশন পারমিট পেতে সেবাগ্রহীতাদের নানা ধরনের হয়রানি ও ভোগান্তির মুখে পড়তে হতো। বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে যেতে হতো, ঘুরতে হতো এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে। এ পরিস্থিতি থেকে সেবাগ্রহীতাদের মুক্তি দিতেই পারমিট দেওয়ার কার্যক্রম অনলাইনে আনা হয়েছে।

তিনি বলেন, আগে এসব সেবা পেতে দীর্ঘ সময় লাগত। সেবাগ্রহীতাদের সুবিধার জন্য এখন সময়সীমা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে।

রাজউক চেয়ারম্যান আরও জানান, নকশা অনুমোদনের কার্যক্রম আগে থেকেই অনলাইনে পরিচালিত হলেও এর জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা ছিল না। বর্তমানে প্লানিং পারমিট ও কনস্ট্রাকশন পারমিটের ক্ষেত্রে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কনস্ট্রাকশন পারমিটের আবেদন ২৪ দিনের মধ্যে বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন কমিটিতে উপস্থাপনের বিষয়টি রাজউক পর্যবেক্ষণ করছে।

অনলাইন সেবা নিয়ে আবেদনকারীদের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেবাগ্রহীতারা এ ব্যবস্থায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করছেন। ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি দরপত্র, এস্টেট কার্যক্রমসহ রাজউকের অন্যান্য সেবাও পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনার কাজ চলছে।

রাজউকের পরিচালক (উন্নয়ন) প্রকৌশলী নূর-ই-খোদা জানান, মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আটটি জোনে প্লানিং পারমিটের জন্য আবেদন জমার সংখ্যা ছিল যথাক্রমে—জোন-১-এ ১ হাজার ৫৯টি, জোন-২-এ ৭৯৭টি, জোন-৩-এ ১ হাজার ৩০টি, জোন-৪-এ ১ হাজার ৬৬৩টি, জোন-৫-এ ৫০৩টি, জোন-৬-এ ১ হাজার ১৭০টি, জোন-৭-এ ৪৮৩টি এবং জোন-৮-এ ৩৫০টি।

এসব আবেদনের মধ্যে জোন-১-এ ৮৭৮টি, জোন-২-এ ৫৮৯টি, জোন-৩-এ ৭৪১টি, জোন-৪-এ ১ হাজার ৬০৯টি, জোন-৫-এ ৩০৫টি, জোন-৬-এ ৭৬৭টি, জোন-৭-এ ২২৮টি এবং জোন-৮-এ ২৭৬টি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাকি আবেদনগুলো কাগজপত্রের ঘাটতি ও অন্যান্য প্রক্রিয়াগত কারণে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

একই সময়ে কনস্ট্রাকশন পারমিটের জন্য জোন-১-এ ৭০৭টি, জোন-২-এ ৪১৩টি, জোন-৩-এ ৫২৬টি, জোন-৪-এ ১ হাজার ১৮৯টি, জোন-৫-এ ২২৯টি, জোন-৬-এ ৪৬১টি, জোন-৭-এ ১৮৮টি এবং জোন-৮-এ ২১৭টি আবেদন জমা পড়ে।

এর মধ্যে জোন-১-এ ৪০১টি, জোন-২-এ ২২৫টি, জোন-৩-এ ৩৬৫টি, জোন-৪-এ ৭৫৩টি, জোন-৫-এ ৯৭টি, জোন-৬-এ ৪০৫টি, জোন-৭-এ ১৪৮টি এবং জোন-৮-এ ২০৬টি আবেদন অনুমোদন পেয়েছে।

রাজউকের পরিচালক (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ-১) মো. মনিরুল হক বলেন, যেসব আবেদনে ত্রুটি রয়েছে বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ঘাটতি পাওয়া যায়, সেগুলো অনলাইনের মাধ্যমে আবেদনকারীর কাছে ফেরত পাঠানো হয়। আবেদনকারী ঘাটতি পূরণ করে আবার জমা দিলে তা অনলাইনেই অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় নেওয়া হয়। তবে প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ না হলে আবেদন বাতিল করা হয়।

রাজউকের পারমিট কার্যক্রম অনলাইনে পরিচালিত হলেও ভবন নির্মাণের অনুমোদন-সংশ্লিষ্ট পুরো প্রক্রিয়া এখনো ডিজিটাল হয়নি। নকশা অনুমোদনের পর নির্মাণকাজ চলাকালে তদারকির কার্যক্রম এখনো ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে সম্পন্ন হচ্ছে। এ ছাড়া নকশা অনুমোদনের আগে অনেক ক্ষেত্রে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার অনাপত্তিপত্র বা এনওসি সংগ্রহ করতে হয়।

ফায়ার সার্ভিস, সিভিল এভিয়েশন এবং কেপিআইডিসিসহ বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনাপত্তি নিতে হয়। এসব সংস্থার অনেক ক্ষেত্রেই এনওসি দেওয়ার প্রক্রিয়া এখনো ম্যানুয়াল থাকায় রাজউকের নিজস্ব অনুমোদন ব্যবস্থা অনলাইনে এলেও পুরো প্রক্রিয়ায় সব সময় কাঙ্ক্ষিত গতি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্লানিং পারমিট ও নকশা অনুমোদনের কার্যক্রম ডিজিটাল করার উদ্যোগ শুরু হয় ২০১৬ সালে। বিশ্বব্যাংকের আইএফসির অর্থায়নে প্রকল্পটি চালু হয়েছিল। শুরুতে শুধু জোন-৫, অর্থাৎ ধানমন্ডি এলাকায় ভূমি ব্যবহার-সংক্রান্ত কার্যক্রম ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালনা করা হয়। পরে রাজউকের আওতাধীন আটটি জোনেই এ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হয়।

তিনি আরও জানান, ঢাকা আরবান রেজিলিয়েন্স প্রজেক্টের আওতায় ইলেকট্রনিক কনস্ট্রাকশন পারমিটিং সিস্টেম চালু করা হয়, যা বর্তমানে চালু রয়েছে।

প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ বলেন, প্লানিং পারমিট ও নকশা অনুমোদনের কার্যক্রম আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ করতে ওয়ান উইন্ডো সেলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে একই ব্যবস্থার আওতায় এনে সেবা দেওয়া প্রয়োজন। এতে অনুমোদনের সময় কমার পাশাপাশি জনভোগান্তিও হ্রাস পাবে।

রাজউকের কর্মকর্তাদের মতে, আটটি জোনে পারমিটের আবেদন ও অনুমোদন অনলাইনে হওয়ায় সেবাপ্রক্রিয়া আগের তুলনায় সহজ হয়েছে। তবে কার্যকর ওয়ান-স্টপ সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার অনাপত্তিপত্র প্রদান, নির্মাণকালীন পরিদর্শন এবং অন্যান্য সহায়ক কার্যক্রমও ডিজিটাল করতে হবে। সব সংস্থাকে একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে আনা গেলে ভবন নির্মাণের অনুমোদন পেতে সময় কমবে এবং সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তিও আরও কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জ/উ


Advertisement
সর্বশেষ
‹ ›
সর্বাধিক পঠিত
‹ ›
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত