জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধ: ৭ রায়ে ২৩ মৃত্যুদণ্ড, ১১ যাবজ্জীবন

জবাবদিহি ডেস্ক

আইন-আদালত

2026-10-25T14:22:47+06:00
2026-10-25T14:22:47+06:00
রোববার ● ২৫ অক্টোবর ২০২৬,
৯ কার্তিক ১৪৩৩
Advertisement
আইন-আদালত
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধ: ৭ রায়ে ২৩ মৃত্যুদণ্ড, ১১ যাবজ্জীবন
জবাবদিহি ডেস্ক
⏲ ২:২২ পিএম | ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ | রোববার
সংগৃহীত ছবি
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সাতটি আলোচিত মামলায় ২৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দুটি বেঞ্চ। এসব মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড পেয়েছেন আরও ৩৩ জন। একজন আসামি খালাস পেয়েছেন। গত দুই বছরে এসব অপরাধের বিচারের অগ্রগতি ও সর্বশেষ পরিসংখ্যান সম্প্রতি প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তুলে ধরা হয়েছে।

প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে এখন পর্যন্ত মোট ৭০টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২৬টি মামলা বিচারাধীন এবং ৪৪টি মিস কেস হিসেবে তালিকাভুক্ত। দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এখন পর্যন্ত সাতটি মামলার রায় ঘোষণা করেছেন। এসব মামলায় মোট ৬৮ জন আসামি দণ্ডিত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১১ জনের যাবজ্জীবন এবং ৩৩ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড হয়েছে। একজন আসামি খালাস পেয়েছেন।

এ ছাড়া দুটি ট্রাইব্যুনালে এসব অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার আসামির সংখ্যা ২০৩। পলাতক রয়েছেন ৩৫২ জন।

বিচার দ্রুত শেষ করার আশা প্রসিকিউশনের

দুটি ট্রাইব্যুনালের দেওয়া সাতটি আলোচিত রায় সম্পর্কে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের বিচারের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়েছিল। ইতোমধ্যে দুটি ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের সাতটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় দিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের বিচারের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠিত হয়েছিল। এখন আমরা গর্ব করে বলতে পারি যে, এরই মধ্যে আমাদের দুটি ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের ৭টি আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করেছেন। খুব দ্রুততার সঙ্গে এবং অত্যন্ত সত্যতার সঙ্গে এই বিচারগুলো সম্পন্ন করা হয়েছে।’

চিফ প্রসিকিউটর আশা প্রকাশ করেন, জনআকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে অবশিষ্ট মামলাগুলোর বিচার দ্রুত শেষ হবে এবং রায় কার্যকর করা সম্ভব হবে।

পলাতক আসামিদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যেসব আসামি পলাতক রয়েছে, আমরা তাদেরকে বিচারের মুখোমুখি করার চেষ্টা করছি। আমরা চাই, কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি হয়রানি না হোক, আবার কোনো দোষী ব্যক্তি যেন ছাড় না পায়।’

শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ড

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল একই মামলায় আসামি থেকে রাজসাক্ষী হওয়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন।

রায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার এবং আহত ব্যক্তিদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

চাঁনখারপুলে ছয় হত্যার মামলায় তিন পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর চাঁনখারপুল এলাকায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পুলিশ গুলি চালালে ছয়জন নিহত হন। নিহতরা হলেন শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ মাহদী হাসান জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া শাহরিক।

এই ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। অন্য পাঁচ পুলিশ সদস্যকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর দুই পলাতক আসামি হলেন ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী এবং রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম।

একই মামলায় পলাতক সাবেক সহকারী কমিশনার (এসি) মোহাম্মদ ইমরুলকে ছয় বছরের কারাদণ্ড, শাহবাগ থানার সাবেক ওসি (অপারেশন) মো. আরশেদ হোসেনকে চার বছরের কারাদণ্ড এবং কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন ও মো. নাসিরুল ইসলামকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো ও হত্যার মামলায় ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পোড়ানো এবং আরও একজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একই রায়ে সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছয় আসামি হলেন ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি এএফএম সায়েদ রনি, সাবেক এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা, সাবেক এসআই আবদুল মালেক, সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার এবং স্থানীয় যুবলীগ নেতা রনি ভূঁইয়া।

এ মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাতজন হলেন ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপন, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফী, সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলাম, ঢাকা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) নির্মল কুমার দাস এবং সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান।

রায়ে সাবেক এসআই আরাফাত উদ্দীন ও কামরুল হাসানকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ মামলায় রাজসাক্ষী হওয়া শেখ আবজালুল হককে ক্ষমা করেন ট্রাইব্যুনাল।

আবু সাঈদ হত্যা মামলায় দুইজনের মৃত্যুদণ্ড

২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মামলার অন্য ২৫ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

২০২৬ সালের ৯ এপ্রিল বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ সর্বসম্মতিক্রমে এ রায় দেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন সাবেক এএসআই (সশস্ত্র) মো. আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ক্যাম্প ইনচার্জ এসআই (নিরস্ত্র) বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধব।

রায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. হাসিবুর রশিদ ওরফে বাচ্চু, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক কমিশনার মনিরুজ্জামান ওরফে বেল্টু, বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মন্ডল ওরফে আসাদ এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি পোমেল বড়ুয়াকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এ ছাড়া সাবেক উপপুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন ওরফে টিটু, সাবেক অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার শাহ নূর আলম পাটোয়ারী ওরফে সুমন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ ওরফে দিশা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হাসান ওরফে মাসুদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মাহাবুবার রহমান ওরফে বাবু, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) রংপুরের সভাপতি ডা. সারোয়ার হোসেন ওরফে চন্দন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরীফুল ইসলামকে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

একই রায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার হাফিজুর রহমান ওরফে তুফান, সেকশন অফিসার মনিরুজ্জামান পলাশ, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাফুজুর রহমান শামীম, সহসভাপতি ফজলে রাব্বী ওরফে গ্লোরিয়াস ফজলে রাব্বী ও আখতার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সেজান আহম্মেদ ওরফে আরিফ ও ধনঞ্জয় কুমার ওরফে টগর, দপ্তর সম্পাদক বাবুল হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মন্ডল, নিরাপত্তারক্ষী নূর আলম মিয়া এবং এমএলএসএস একেএম আমির হোসেন ওরফে আমুকে তিন বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। প্রক্টর অফিসের চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ ওরফে আপেলের ক্ষেত্রে তাঁর হাজতবাসের সময়কেই কারাদণ্ড হিসেবে গণ্য করা হয়।

রামপুরায় তরুণকে গুলি ও হত্যার মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা এক তরুণকে গুলি এবং একই এলাকায় আরও দুজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড, একজনকে যাবজ্জীবন ও আরেকজনকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

গত ২৮ জুন বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার পলাতক আসামির মধ্যে তিনজন হলেন ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম এবং রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান। একই মামলায় রামপুরা থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মামলার একমাত্র গ্রেপ্তার আসামি রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। গত ৩০ জুন বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে মামলার দুটি অভিযোগে এক লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য ইনুকে নির্দেশ দেওয়া হয়। গণঅভ্যুত্থান দমনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের মাধ্যমে কমান্ড রেসপনসিবিলিটি এবং কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়।

ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ড

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনকে গত ১৫ সেপ্টেম্বর মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামির সবাই পলাতক রয়েছেন। রায়ে ওবায়দুল কাদের, বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ ও মাইনুল হোসেন খানের সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশও দেন ট্রাইব্যুনাল।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে গুম-খুনসহ ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দুটি বেঞ্চে চলমান রয়েছে। সূত্র: বাসস

জ/উ


Advertisement
সর্বশেষ
‹ ›
সর্বাধিক পঠিত
‹ ›
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত