মঙ্গলের উপগ্রহ ফোবোস থেকে নমুনা আনতে জাপানের ঐতিহাসিক অভিযান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

2026-10-20T16:07:36+06:00
2026-10-20T16:07:36+06:00
মঙ্গলবার ● ২০ অক্টোবর ২০২৬,
৪ কার্তিক ১৪৩৩
Advertisement
আন্তর্জাতিক
মঙ্গলের উপগ্রহ ফোবোস থেকে নমুনা আনতে জাপানের ঐতিহাসিক অভিযান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
⏲ ৪:০৭ পিএম | ২০ অক্টোবর, ২০২৬ | মঙ্গলবার
সংগৃহীত ছবি
মঙ্গলের উপগ্রহ ফোবোস থেকে মাটি ও পাথরের নমুনা সংগ্রহ করে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনতে মহাকাশ অভিযান শুরু করেছে জাপান। বিজ্ঞানীদের আশা, এ অভিযানে সংগৃহীত নমুনা সৌরজগতের সৃষ্টি এবং পৃথিবীতে প্রাণের উৎপত্তি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিতে পারে।

জাপানের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা জাক্সা জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের তানেগাশিমা দ্বীপ থেকে স্থানীয় সময় ভোরে এইচ-৩ রকেটে ‘মার্শিয়ান মুনস এক্সপ্লোরেশন’ (এমএমএক্স) মহাকাশযানটি উৎক্ষেপণ করা হয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, মহাকাশযানটি আগামী বছরের আগস্টে মঙ্গলের কক্ষপথে পৌঁছাবে। এরপর গ্রহটির দুটি ছোট, আলুর মতো আকৃতির উপগ্রহের একটি ফোবোসের পৃষ্ঠ থেকে অন্তত ১০ গ্রাম মাটি ও পাথরের নমুনা সংগ্রহ করবে। সবকিছু পরিকল্পনামতো এগোলে ২০৩১ সালে নমুনা নিয়ে পৃথিবীতে ফিরবে মহাকাশযানটি।

প্রায় ২২ দশমিক ৫ কিলোমিটার ব্যাসের ফোবোসে রয়েছে অসংখ্য গর্ত। এটি মঙ্গলের পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ছয় হাজার কিলোমিটার ওপরে অবস্থান করে এবং দিনে প্রায় তিনবার গ্রহটিকে প্রদক্ষিণ করে।

স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৪১ মিনিটে তানেগাশিমা মহাকাশকেন্দ্র থেকে এইচ-৩ রকেটটি অন্ধকার আকাশে উড়ে যায়। উৎক্ষেপণ সরাসরি সম্প্রচার দেখতে হাজারো মানুষ ভোরে জেগে ছিলেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর মহাকাশযানটি রকেটের ওপরের ধাপ থেকে বিচ্ছিন্ন হলে জাক্সার বিজ্ঞানীরা অভিযানের প্রাথমিক সাফল্য ঘোষণা করেন। এ সময় নিয়ন্ত্রণকক্ষে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা।

গত অর্ধশতকে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা মঙ্গলে নয়টি মহাকাশযান অবতরণ করিয়েছে। ২০২১ সালে চীনও মঙ্গলের পৃষ্ঠে মহাকাশযান অবতরণ করায়। তবে ফোবোস কিংবা মঙ্গলের অন্য উপগ্রহ ডেইমোসে অবতরণের চেষ্টা এবারই প্রথম বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জাপানের নেতৃত্বাধীন এ প্রকল্পে যুক্ত নাসার জ্যোতির্পদার্থবিদ টম স্ট্যাটলার বলেন, ‘এখানে প্রচুর উত্তেজনা এবং বিস্ময়ের অনুভূতি রয়েছে।’

পাঁচটি মহাকাশ সংস্থা পাঁচ বছর মেয়াদি এ অভিযানে একসঙ্গে কাজ করছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফোবোসে একটি রোবোটিক অনুসন্ধানযান ও একটি রোভার পাঠানো হবে।

প্রায় ৫৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার ব্যয়ের এ অভিযানে ব্যবহৃত মহাকাশযানটির ওজন পাঁচ টন। আগামী গ্রীষ্মে মঙ্গলের কক্ষপথে পৌঁছানোর পর এটি ফোবোসের কক্ষপথের সঙ্গে নিজের অবস্থান সমন্বয় করবে। এরপর মহাকাশযান থেকে বিচ্ছিন্ন করা হবে ছোট ফরাসি-জার্মান রোভার ‘ইডেফিক্স’। নামটি নেওয়া হয়েছে ‘অ্যাস্টেরিক্স’ কমিকসের সাদা টেরিয়ার চরিত্র থেকে।

ফোবোসের মাধ্যাকর্ষণ পৃথিবীর তুলনায় মাত্র এক হাজার ভাগের এক ভাগ। এ কারণে চার চাকার রোভারটি উপগ্রহটির পৃষ্ঠে কয়েক মিনিট লাফিয়ে লাফিয়ে এগিয়ে গিয়ে একপর্যায়ে থামবে। এরপর প্রায় ১০০ দিন ধরে পৃষ্ঠ পর্যবেক্ষণ করবে এটি। মূল মহাকাশযানের অবতরণের আগে নিরাপদ স্থান ও নমুনা সংগ্রহের উপযুক্ত জায়গা খুঁজে বের করাই হবে রোভারের প্রধান কাজ।

এরপর চার পা-যুক্ত স্থির অবতরণযানটি ফোবোসের পৃষ্ঠে নামবে। সেখানে মাত্র দুই ঘণ্টা অবস্থান করে খননযন্ত্র ও শোষণপ্রযুক্তির সাহায্যে মাটি ও পাথরের নমুনা সংগ্রহ করবে। কাজ শেষে নমুনা নিয়ে আবার মহাকাশে ফিরে যাবে মহাকাশযানটি।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মঙ্গলের কক্ষপথ ছাড়ার আগে মহাকাশযানটি একাধিকবার ডেইমোসের পাশ দিয়ে উড়ে উপগ্রহটিকে পর্যবেক্ষণ করবে। ২০৩০ সালের নভেম্বরে মঙ্গলের কক্ষপথ ত্যাগ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

জার্মান মহাকাশ সংস্থার রোভারবিষয়ক প্রধান মার্কুস গ্রেবেনস্টাইন বলেন, ‘এটি জীবনে একবারই আসার মতো সুযোগ। আমরা মঙ্গলব্যবস্থা থেকে প্রথমবারের মতো নমুনা ফিরিয়ে আনার অভিযানের অংশ।’

বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, সংগৃহীত নমুনা বিশ্লেষণ করে ফোবোস ও ডেইমোসের উৎপত্তি সম্পর্কে জানা সম্ভব হবে। এমনকি প্রাণের উৎপত্তি সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মিলতে পারে। নাসার মতে, এমএমএক্স অভিযানের ফলাফল ভবিষ্যতের মঙ্গল অভিযান এবং সেখানে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনাতেও সহায়তা করবে।

উপগ্রহ দুটির উৎপত্তি নিয়ে দুই তত্ত্ব

ফোবোস ও ডেইমোসের উৎপত্তি নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে প্রধানত দুটি তত্ত্ব প্রচলিত রয়েছে। প্রথমটি ‘বৃহৎ সংঘর্ষ’ তত্ত্ব। এ ধারণা অনুযায়ী, কোনো মহাজাগতিক বস্তু মঙ্গলে আঘাত হানার পর ছিটকে বেরিয়ে আসা পদার্থ থেকে উপগ্রহ দুটি তৈরি হয়েছে।

দ্বিতীয় তত্ত্বটি ‘মহাকর্ষে বন্দি’ হওয়ার ধারণার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। এতে বলা হয়, উপগ্রহ দুটি মূলত গ্রহাণু, যা মঙ্গলের মহাকর্ষীয় আকর্ষণে তার কক্ষপথে আটকা পড়েছে।

জাক্সার মতে, কোন তত্ত্বটি সঠিক, তা নির্ধারণ করা গেলে পৃথিবীসহ সূর্যের কাছের পাথুরে গ্রহগুলোতে প্রাণের উপযোগী পরিবেশ কীভাবে তৈরি হয়েছে, সে সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। সূর্যের নিকটতম চারটি গ্রহ হলো বুধ, শুক্র, পৃথিবী ও মঙ্গল।

মঙ্গলের নমুনা ফেরাতে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের প্রতিযোগিতা

মঙ্গলের পৃষ্ঠ থেকে পাথরের নমুনা সংগ্রহ করে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যেও প্রতিযোগিতা চলছে।

নাসার ‘পারসিভিয়ারেন্স’ রোভার ২০২১ সাল থেকে মঙ্গলে অনুসন্ধান চালিয়ে নমুনা সংগ্রহ করছে। তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে কংগ্রেসের ভোটের পর ট্রাম্প প্রশাসন নমুনাগুলো পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা স্থগিত করে।

অন্যদিকে, চীনের ‘তিয়ানওয়েন-৩’ মহাকাশযান ২০২৮ সালের দিকে উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ অভিযানের মাধ্যমে ২০৩১ সালের মধ্যেই মঙ্গলের নমুনা পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে। সে ক্ষেত্রে জাপানের ফোবোস অভিযান শেষ হওয়ার আগেই চীনের মঙ্গল অভিযান নমুনা নিয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারে।

জ/উ


Advertisement
সর্বশেষ
‹ ›
সর্বাধিক পঠিত
‹ ›
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত