বলিউড অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফ মাতৃত্বের পর শারীরিক পরিবর্তন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনদের একাংশের কটাক্ষ ও ট্রলিংয়ের শিকার হয়েছিলেন। গত বছরের নভেম্বরে পুত্রসন্তানের জন্ম দেওয়ার পর তাঁর শরীরের গঠন ও ‘পোস্টপার্টাম বডি’ নিয়ে একের পর এক কুরুচিকর মন্তব্য করা হয়।
সে সময় বলিউডের সহকর্মী সালমান খান, হৃতিক রোশান, সমীরা রেড্ডি ও সৌন্দর্য রজনীকান্তসহ অনেকে ক্যাটরিনার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তবে এত দিন এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি অভিনেত্রী। অবশেষে লন্ডনে নিজের প্রসাধনী সংস্থার বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে ট্রলিং নিয়ে মুখ খুলেছেন তিনি। সরাসরি কারও নাম উল্লেখ না করলেও তাঁর বক্তব্যে ছিল স্পষ্ট বার্তা।
ক্যাটরিনা বলেন, “আমার মনে হয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় কে কী বলছে বা কী ন্যারেটিভ তৈরি হচ্ছে, সেটা দিয়ে নিজের আত্মসম্মান বিচার করা একেবারেই ভুল। আপনি যদি সবাইকে খুশি করতে যান, তবে নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার ক্ষমতাটাই হারিয়ে ফেলবেন।”
নেতিবাচক মন্তব্যকে গুরুত্ব না দেওয়ার কথা জানিয়ে অভিনেত্রী আরও বলেন, “আমাকে নিয়ে আসা প্রতিটি নেতিবাচক মন্তব্যকে যদি আমি পাত্তা দিতাম বা আমার জীবন পরিচালনা করতে দিতাম, তাহলে হয়তো আমি ভয়ে এক জায়গায় স্থির হয়ে যেতাম, জীবনে আর এক পাও এগোতে পারতাম না।”
নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাসী হওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ক্যাটরিনা বলেন, “বিশ্ব যখন আপনাকে নিয়ে মাতামাতি করবে না, তখন নিজেকেই নিজের সবচেয়ে বড় সমর্থক ও চিয়ারলিডার হতে হবে। জীবনের প্রতিটি পর্যায় এক রকম হয় না।”
জীবনের সব সময় একই রকম যায় না উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “কোনো সময় আপনার সবকিছু পারফেক্ট থাকবে, আবার কখনো কোনো কিছুই মনের মতো হবে না। কখনো আপনাকে সেরা দেখাবে, আবার কখনো সেরা রূপ পাওয়ার জার্নিটা চলবে। তাই এসবকিছুকে হালকাভাবে গ্রহণ করা উচিত। নিজেকে নিয়ে বড্ড বেশি গম্ভীর বা চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই।”
ক্যাটরিনার বক্তব্যে উঠে এসেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক মন্তব্যকে নিজের আত্মসম্মান কিংবা জীবনের সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করতে দেওয়া উচিত নয়। বরং জীবনের পরিবর্তনগুলো স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করে নিজের প্রতি আস্থা রাখাই গুরুত্বপূর্ণ।
জ/উ